Barak UpdatesHappenings

বাজপেয়ীর জীবনাদর্শ অনুসরণের আহ্বান মন্ত্রী কৌশিকের

রাজনীতি শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, মানুষের স্বপ্নের সেতু বন্ধন, দেখিয়ে গেছেন বাজপেয়ী : কণাদ

ওয়ে টু বরাক, ২৬ ডিসেম্বর : শ্রদ্ধা ও আবেগে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর ১০১তম জন্মজয়ন্তী পালন করল কাছাড় জেলা বিজেপি।বৃহস্পতিবার সকালে শিলচর শহর সংলগ্ন রংপুরে মহাসড়কের জিরো পয়েন্টে থাকা ভারতরত্ন অটল বিহারী বাজপেয়ী বাজপেয়ীর প্রতিমূর্তিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। এরপর সেখানে অটল স্মারক সমিতি এবং কাছাড় জেলা বিজেপির  উদ্যোগে আয়োজিত হয়  স্মৃতিচারণ সভা। এই সভায় বাজপেয়ীর জীবনাদর্শ ও ভাবাদর্শ নিয়ে আলোকপাত করে তা অনুসরণের আহ্বান জানান রাজ্যের খাদ্য ও অসামরিক এবং বরাক উন্নয়ন মন্ত্রী কৌশিক রায়, রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ, বিজেপির কাছাড় জেলা সভাপতি রূপম সাহা এবং অটল স্মারক সমিতির সভাপতি তথা দলের বরিষ্ঠ নেতা নিত্যভূষণ দে।

বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা দলের দিশারী অটল বিহারী বাজপেয়ীর জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ। তিনি বলেন, রাজনীতি শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, মানুষের স্বপ্নের সেতু বন্ধন। বাজপেয়ীর জীবন ও কর্মধারা আমাদেরকে সে কথা শেখায়। সাংসদ কণাদের কথায়, বাজপেয়ী এমন এক রাষ্ট্রনায়ক, যিনি ভারতীয় রাজনীতিকে নতুন দিশা দেখিয়ে গেছেন। বাজপেয়ীর রাজনীতি ছিল সংযম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। বাজপেয়ী রাজনৈতিক উগ্রবাদকে প্রত্যাখ্যান করে সর্বদা ‘রাজধর্ম’-এর ওপর জোর দিয়ে গেছেন—অর্থাৎ শাসকের নৈতিক দায়িত্ব হল ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ শাসন।

তিনি আরও বলেন, জোট রাজনীতিতে কিভাবে সবাইকে নিয়ে দেশের উন্নয়ন এবং গৌরবোজ্জল করতে হয়, সেই পথও দেখিয়ে গেছেন বাজপেয়ী। সংকটের মুহূর্তগুলোতে এই দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষভাবে দৃশ্যমান ছিল। তাঁর পররাষ্ট্রনীতি ছিল নৈতিক দায়িত্ববোধে সংযত বাস্তববাদের প্রতিফলন। শান্তি আলোচনায় আগ্রহী বাজপেয়ী দেশের শক্তি প্রদর্শনও করে গেছেন বিশ্বের দরবারে। এরমধ্যে পোখরান বিস্ফোরণ ছিল সবচেয়ে বলিষ্ঠ সাহসী পদক্ষেপ।

সাংসদ কণাদ আরও উল্লেখ করেন, অটল বিহারী বাজপেয়ীর উত্তরাধিকার কেবল নীতিনির্ধারণে সীমাবদ্ধ নয়,তাঁর রাজনৈতিক আচরণেই তা স্পষ্ট। মেরুকরণের এই যুগে তাঁর জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মতভেদ মানেই অসম্মান নয়, এবং ক্ষমতা মানেই অহংকার নয়। অটল বিহারী বাজপেয়ী কেবল তাঁর সময়ের একজন নেতা ছিলেন না। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক পথপ্রদর্শক। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় যে গণতান্ত্রিক রাজনীতি সংঘাতের মাধ্যমে নয়, বরং সহমর্মিতায় দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমেই মহত্ব অর্জন করা যায়। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশে হিসেবে ভারতের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকার সঙ্গে সঙ্গে বাজপেয়ীর আদর্শ সংলাপ, মর্যাদা ও দায়িত্ব—আজও প্রাসঙ্গিক।

এই স্মৃতিচারণ সভায় অংশ নিয়ে বাজপেয়ীর জীবনাদর্শের নানা দিক নিয়ে আলোকপাত করে রাজ্যের মন্ত্রী কৌশিক রাই বলেন, রাষ্ট্রনায়ক অটল বিহারী বাজপেয়ী ছিলেন একজন ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা, পথ প্রদর্শক। আশির দশকে বাজপেয়ী যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, আজকের দিনে তাঁর প্রতিফলন ঘটছে। বাজপেয়ী যে সুশাসন ও উন্নয়নের স্বপ্ন দেখতেন, আজকের দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে। সড়ক যোগাযোগে দেশকে এক সূত্রে বাঁধতে বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনা, ইস্ট-ওয়েস্ট করিডোরের সূচনা করে যান। বাজপেয়ীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শিলচর থেকে সৌরাষ্ট্র মহাসড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শিলচর থেকে এই মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন যাত্রীরা। বাজপেয়ীর এই স্বপ্নের প্রকল্প নিয়ে তৎকালীন সময়ে অনেকেই সমালোচনা করেন এবং অনেকে আবার বিরোধিতা করেছেন। এ প্রসঙ্গে কোনও দল বা নেতার নাম না নিয়েই মহাসড়ক বিরোধীদের বিঁধেন মন্ত্রী কৌশিক।

এর আগে বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর জীবনের ইতিবৃত্ত তুলে ধরেন দলের বরিষ্ঠ নেতা নিত্যভূষণ দে। মহাসড়কের জিরো পয়েন্টে বাজপেয়ীর প্রতিমূর্তি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর গোয়ালিয়রে জন্মগ্রহণ করেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। দীর্ঘ পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনে বাজপেয়ীর জীবনাদর্শের স্মৃতি চারণ করেন তিনি। প্রাসঙ্গিক বক্তব্যে বিজেপির কাছাড় জেলা সভাপতি রূপম সাহা বলেন, প্রতিবছর অটল বিহারী বাজপেয়ীর জন্মদিন সুশাসন দিবস হিসেবে পালন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছরও  বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। অটল বিহারী বাজপেয়ীর দেখানো পথ অনুসরণ করেই দেশকে উন্নয়ন ও সুশাসনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বাজপেয়ীর স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিলচরের বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী, ধলাইয়ের বিধায়ক নীহার রঞ্জন দাস, প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ কুমার পাল, কাছাড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কঙ্কন নারায়ণ শিকদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের রংপুর মালুগ্রাম মণ্ডলের সভাপতি পুলক দেব। উল্লেখ্য, এ দিন কাছাড় জেলা বিজেপির কার্যালয়ে বাজপেয়ীর জীবনাদর্শের নানা স্মৃতি তুলে ধরে এক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এছাড়াও দলের উদ্যোগে কাছাড় জেলার প্রতিটি জিপিতে অটল বিহারী বাজপেয়ীর জন্ম বার্ষিকী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker