Barak UpdatesHappeningsBreaking News
অধরচাঁদ স্কুলে শিক্ষক দীপক সেনগুপ্তকে বিদায় সংবর্ধনা

ওয়েটুবরাক, ৪ মার্চ: ৩৮ বছর সুনামের সঙ্গে চাকরি করে বিশিষ্ট লেখক ও প্রাবন্ধিক দীপক সেনগুপ্ত অধরচাঁদ উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অবসর নিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার তাঁর বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে এক সভার আয়োজন করা হয়। এতে অধ্যক্ষা বর্ণালী ভট্টাচার্য সভাপতিত্ব করেন। এই সভায় উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিক্ষিকা মধুছন্দা চৌধুরী। তারপর শিক্ষকরা একে একে নিজেদের বক্তব্যে দীপকবাবুর জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিদ্যালয়ের উন্নতিতে তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। শিক্ষিকা মাধুরী বর্মনের মতে, দীপকবাবু এক অতিশয় সজ্জন ব্যক্তি এবং আইন কানুনের বিষয়ে অভিজ্ঞ। বিদ্যালয়ের শিক্ষাগত মানের উন্নয়নের জন্য তিনি যথেষ্ট অবদান রেখে গেছেন। শিক্ষিকা শুভ্রা চক্রবর্তী মনে করিয়ে দিলেন, প্ল্যাটিনাম জুবিলি উদযাপন পর্বে তিনি কীভাবে সব কাজ নিজের দায়িত্বে পালন করেছিলেন। তিনি বলেন, বিতর্ক সভা আয়োজনের বিষয়ে দীপকবাবুর উৎসাহ ছিল দেখার মত। অত্যন্ত দক্ষ ভাবে বিভিন্ন বিতর্ক সভায় অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। আরেক শিক্ষক রাজীব দত্ত তাঁর বক্তব্যে ছেলেদের স্কুলে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের ভর্তি করানোর অসাধ্য কাজকে কতটা দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়িত করেন তিনি, সেই কথাটি উল্লেখ করেন ।
বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে আয়োজিত সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিতাই দত্ত। তিনি তাঁর বক্তব্যে দীপকবাবুকে নিয়ে অনেক মজার কথা তুলে ধরেন। বলেন, তিনি হচ্ছেন রসের রাজা। । বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও দীপকবাবুর সহপাঠী তমাল রায় তাঁর স্মৃতিচারণে অনেক অজানা তথ্য তুলে ধরেন।
দীপকবাবু তাঁর বক্তব্যে বিদ্যালয়ের পর্বান্তরের বিবর্তন সম্পর্কে বক্তব্য রেখে কর্মরত শিক্ষকদের কাছে আবেদন রাখেন, উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্তরের মধ্যে যে আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তার নেপথ্যে আছে সম্মিলিত প্রয়াস। কেননা অতীতে দুই স্তরে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে বিবদমান সম্পর্ক ছিল এবং নিজেদের মধ্যে কথা বলাবলি পর্যন্ত বন্ধ ছিল। মুক্তা দাস অধ্যক্ষা থাকার সময় থেকেই সম্পর্কের উন্নতির শুরু হয় এবং বর্তমান অধ্যক্ষার আমলে সব শিক্ষকদের মধ্যে আত্মিক সেতু তৈরি হয়েছে। তিনি আশা ব্যক্ত করেন, এই সুমধুর সম্পর্ক বজায় থাকবে ভবিষ্যতেও। আত্মমর্যাদার প্রশ্নে আপস না করে মিলেমিশে থাকতে আবেদন রাখেন তিনি।
সভাপতির ভাষণে বর্ণালী ভট্টাচার্য স্কুল পরিচালন সমিতির সদস্য হিসাবে দীপকবাবুর কর্মতৎপরতার প্রশংসা করে বলেন যে, প্রতিটি সভার সিদ্ধান্ত লেখার ক্ষেত্রে এবং গঠনমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর আন্তরিকতায় তিনি মুগ্ধ।
সভায় কবিতা পাঠ করেন বাচিক শিল্পী দেবযানী ভট্টাচার্য এবং সঙ্গীত পরিবেশন করেন নিতাই দত্ত ও অনিতা মজুমদার। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অনেক উপহার সামগ্রী দীপকবাবুর হাতে তুলে দেওয়া হয়। সভা সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষিকা অনন্যা দত্ত।



