Barak UpdatesHappeningsBreaking News
তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্কল্প পত্রে বরাককে বিশেষ গুরুত্ব

ওয়েটুবরাক, ২ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক একসপ্তাহ আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সংকল্পপত্র প্রকাশ করলেন সাংসদ সুস্মিতা দেব। বরাকের নানা ইস্যুতে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বরাকের অধিকার, বরাকবাসীর আবেগ দিদির দলের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তাই হাই কোর্টের বেঞ্চ, ভাষাশহিদ স্টেশনের নামকরণ, ব্রহ্মপুত্র বোর্ডের মতো বরাক বোর্ড গঠনের দাবি যেমন জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, তেমনি বরাক উপত্যকার তিন জেলার জন্য বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনা, পৃথক বাজেট চালু করার দাবি তুলে ধরেন। প্রতিজ্ঞা করেন, তৃণমূল কংগ্রেস সুযোগ পেলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং স্থানীয় যুবাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে পাঁচগ্রামে একটি স্পেশাল ইকনমিক জোন গড়ে তুলবে। ‘বরাক উপত্যকার অধিকার রক্ষায় আমাদের দশ প্রতিজ্ঞা’য় রয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বরাক উপত্যকার মানুষের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বিধানসভার আসন বাড়িয়ে ৩০টি এবং লোকসভার আসন ৩টি করার কথাও। এ প্রসঙ্গে সুস্মিতা পাশের রাজ্য ত্রিপুরার উদাহরণ টানেন। বলেন, সেখানে বিধানসভার আসন সংখ্যা ৬০ থাকলে একই জনসংখ্যার বরাকে অন্তত এর অর্ধেক থাকা চাই। এক আসনে এক লক্ষের বেশি ভোটার হতে পারে না, এই তত্ত্বেরও উল্লেখ করেন তিনি।
“রাজদীপ রায়ের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা করাতে পারেন না”, এই মন্তব্য করে তৃণমূল সাংসদ দেব বরাকের তিন জেলায় তিনটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল নির্মাণের দাবি তোলেন।
বরাক উপত্যকার ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে অসমের স্কুল পাঠ্যক্রমে ১৯৬১ সালের ভাষা আন্দোলন এবং কাছাড়ি রাজবংশের গৌরবময় ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানিয়েছেন সুস্মিতা দেব।
বৃহস্পতিবার শিলচরের এক হোটেলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি ক্ষোভের সুরে বলেন, যাদের ভোটে এমপি-এমএলএ হয়ে নেতারা লালবাতি নিয়ে ঘুরে বেড়ান, তাঁদেরই নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, বারবার এই নথি-ওই নথি দেখানোর কথা বলে চরম হয়রানি করা হয়। তাই তাঁর স্পষ্ট কথা, “অসমে নতুন করে এনআরসি তৈরির কথা হলে তৃণমূল কংগ্রেস কোনওমতেই তা মানবে না।”
‘’সুপ্রিম কোর্টের কথা বলে যে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছেন হিমন্ত বিশ্বের সরকার, সেখানে এনভায়রনমেন্টাল ইস্যুকে কম্যুনাল ইস্যু বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’ এই মন্তব্য করে সুস্মিতার দাবি, যাঁদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক, বাকিদের জমি দেওয়া হোক।
এক্সপ্রেস হাইওয়ে নির্মাণ হতে চলেছে বলে যে কৃতিত্ব দাবি করছে বিজেপি, একে খারিজ করে দিয়ে সন্তোষতনয়া জানান, তাতে কোনও বিজেপি নেতার কৃতিত্ব নেই। স্টার সিমেন্টের প্ল্যান্ট হওয়ার দরুন তাঁদের অনুরোধে নীতীন গাড়কারি এই হাইওয়ে নির্মাণ প্রকল্প মঞ্জুর করেছেন। শিলচরে পুর নির্বাচন না করানো নিয়ে তিনি হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সহ বিজেপিকে ‘নির্লজ্জ’ বলে বিঁধেন।
দিদি ভারতী দুবে ও মোহনলাল দাসকে পাশে বসিয়ে সুস্মিতা ভাষাশহিদ স্টেশন নামকরণে ভোটের পরেই উঠেপড়ে লাগার অঙ্গীকার করেন। কংগ্রেস-বিজেপি কেউই বরাকের ভাষাশহিদদের স্বীকৃতি দিতে চায় না, এই অভিযোগ করে তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলে রেখেছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হবে। তিনি আশাবাদী, এই ইস্যুতে দলনেত্রী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন। সুস্মিতার কথায়, “বাবার (সন্তোষমোহন দেব) পরে মমতাদির মতো এত বড় নেতা দেশে পাইনি।” তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) মোদি-শাহের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছেন বলেও জোরগলায় দাবি করেন সুস্মিতা দেব।



