India & World UpdatesHappeningsBreaking News
সুপ্রিম কোর্টে মমতার সওয়ালের পরেই রাজ্যকে চিঠি নির্বাচন কমিশনের

ওয়েটুবরাক, ৫ ফেব্রুয়ারি: এস আই আর মামলায় বুধবার সকালে সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরে ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি। রাতেই মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্য সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ মানেনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে চিঠিতে। সোমবারের মধ্যেই চিঠির জবাব দিতে হবে বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
চিঠিতে মোট ৫টি অভিযোগ করেছে নির্বাচন কমিশন। বলা হয়েছে, নির্দেশ দেওয়ার পরেও এই বিষয়গুলো মানেনি রাজ্য সরকার। প্রথমেই কমিশনের নির্দেশ অমান্য করে দু’জন ইআরও, দু’জন এইআরও এবং একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, এক এইআরও ও বিডিও-র বিরুদ্ধে অননুমোদিত ভাবে অতিরিক্ত এইআরও নিয়োগের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘যা আইন লঙ্ঘনের সামিল।’ তৃতীয়ত, কমিশনের নির্দেশের পরেও তিন জন ইলেক্টোরাল রোল অবজ়ার্ভারের বদলির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়নি। চতুর্থত, এসডিও/এসডিএম স্তরের আধিকারিকদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার হিসেবে নিয়োগ করতে নিষেধ করেছিল কমিশন। কিন্তু সেই নির্দেশ অগ্রাহ্য করা হয়েছে। পঞ্চম, এসডিও/এসডিএম স্তরের আধিকারিকদের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ না করার সিদ্ধান্তও রাজ্য সরকার মানেনি।
রাজ্য সরকার কেন এই পাঁচটি নির্দেশ মানেনি তার জবাব দেওয়ার জন্য সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে কমিশন। চিঠিতেই সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ৯ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ আগামী সোমবারের মধ্যে এই চিঠির উত্তর দিতে হবে রাজ্যকে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই দিনই এস আই আর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে পারে কমিশন। তার আগে কমিশনের বিরুদ্ধে চাপ ক্রমশ বাড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে হাজির হওয়া নয়। দিল্লিতে এস আই আর চলাকালীন অসুস্থ হয়ে মৃতদের আত্মীয়স্বজন নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনও করেন তিনি। সেখান থেকে নির্বাচন কমিশনকে ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’ বলেও তোপ দেগেছিলেন তিনি। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তৃণমূল সংসদে ইমপিচমেন্ট আনতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।



