Barak UpdatesHappeningsCultureBreaking News
সহযোগীদের সম্মাননা জানিয়ে ৪২-তম জন্মদিন উদযাপন ভাবীকালের

ওয়েটুবরাক, ২৫ মে : শিলচর শহরের পাঁচ নাটকপাগল তরুণ মিলে গড়ে তুলেছিলেন একটি নতুন নাটকের দল ‘ভাবীকাল’। সে ৪২ বছর আগের কথা। এর পরে ভাবীকাল সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে আধুনিকতর করে। রিহার্সাল আর নাটক মঞ্চায়নের সঙ্গে শুরু হয় কর্মশালা। শুধু অভিনেতা-অভিনেত্রী নন, কর্মশালা হয় আলো প্রক্ষেপণ, এমনকী নির্দেশনারও। বরাক উপত্যকার বিভিন্ন নাট্যদলে রয়েছেন ভাবীকালের কর্মশালায় প্রশিক্ষিতরা। এ ভাবেই ভাবীকাল এই অঞ্চলের নাটকের প্রচার-প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
শনিবার সন্ধ্যায় শিলচরের দাস কলোনি স্থিত ভাবীকাল কার্যালয়ে আয়োজিত প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন বিশিষ্ট নাট্য আলোচক ও সিনেমা নির্মাতা বিশ্বজিৎ শীল। তিনি এই বিশাল কাজের জন্য বারবার উল্লেখ করেন ভাবীকালের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তথা নির্দেশক শান্তনু পালের কথা। ‘বরাক উপত্যকার নাট্যচর্চা ও ভাবীকাল থিয়েটার গ্রুপ’ এই নির্ধারিত বিষয়ের ওপর বক্তৃতায় বিশ্বজিৎ উল্লেখ করেন পল্লব ভট্টাচার্য, জুয়েল দাস, শংকর দেব, নীলোৎপল ভট্টাচার্য, নেহাল ভট্টাচার্য, সায়ন বিশ্বাস, সায়ন্তনী পাল, হৃজয় দাস কানুনগো, রূপরাজ দেব, নভোস্মিতা দাস, চিত্রাঙ্কনা ভৌমিক প্রমুখের কথা। বলেন, এ ধরনের তরুণ প্রতিভাগুলো ভাবীকালেরই ফসল।

বরাক উপত্যকায় নাট্যচর্চার প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে ভাবীকালকে নানাভাবে সহযোগিতা করে চলেছে এই অঞ্চলের বিভিন্ন কলেজ-স্কুল কর্তৃপক্ষ। ৪২-তম জন্মদিনে আমন্ত্রণ জানিয়ে শনিবার তাদের কয়েকজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁরা হলেন
ড. সরিতা ভট্টাচার্য (লাইব্রেরিয়ান, ওমেন্স কলেজ), ড. স্বরূপা ভট্টাচার্য (অধ্যাপিকা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জিসি কলেজ) , ড. সোনালী চৌধুরী (লাইব্রেরিয়ান, রাধামাধব কলেজ), দীপ্তিমান বিশ্বাস (প্রধান শিক্ষক, রামানুজ বিদ্যামন্দির), জয়শ্রী কর (প্রধান শিক্ষিকা, হীরণপ্রভা দেব শিশুমন্দির), পার্থ দেব, (প্রধান শিক্ষক, বিবেকানন্দ কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, বড়জালেঙ্গা), ড. সুজিত ঘোষ, (বিভাগীয় প্রধান, পারফর্মিং আর্ট বিভাগ, আসাম ইউনিভার্সিটি), ড. মুরলী বাসা (পারফর্মিং আর্ট ডিপার্টমেন্ট, আসাম ইউনিভার্সিটি)। শেষ দুইজন অবশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। উপস্থিত সংবর্ধিত ব্যক্তিগণ সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় ভাবীকালের উজ্জ্বল শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন।

ভাবীকালের সভাপতি রঞ্জন কুমার দাস, নির্দেশক তথা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শান্তনু পাল, মুখ্য উপদেষ্টা ডঃ দেবাশিস ভট্টাচার্য, উপদেষ্টা শান্তনু দাশ ও উত্তম কুমার সাহা প্রাসঙ্গিক বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে দুটি একক নৃত্য পরিবেশন করেন সায়ন্তনী পাল ও দীপশিখা চন্দ্র। জন্মশতবর্ষে শচীন দেববর্মনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সায়ন্তনী। দীপশিখা পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনৃত্য।

শ্রীখোল-ঢোলক বাজিয়ে সবাইকে আকৃষ্ট করে শিশুশিল্পী রুচিস্মান দাস। সুপ্রিয়া সিনহা গান গেয়ে শোনান। নজরুল ইসলামের জন্মদিনে তাঁর কবিতা আবৃত্তি করেন ড. স্বরূপা ভট্টাচার্য।
কার্যকরী কমিটির সদস্য সুব্রত রায়, শিবম দাস, গৌরব রবিদাস, পল্লব ভট্টাচার্য সহ ভাবীকালের সদস্য-সদস্যা, নাট্য প্রশিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।



