Barak UpdatesHappeningsBreaking News

শ্রম দিবসের ভাবনা, লিখেছেন দীপক সেনগুপ্ত 

//দীপক সেনগুপ্ত //

ছাত্রজীবন থেকেই আন্তর্জাতিক শ্রম দিবসের মিছিলে পা মেলাতাম, স্লোগানে দোহার দিতাম। গত কয়েক বছর থেকে নিজেকে শ্রম দিবসের মিছিল, স্লোগান থেকে দূরে রাখি।

উত্তর বিশ্বায়ন যুগে শ্রম দিবস পালনের আদৌ কোনও তাৎপর্য আছে কিনা জানি না। কেননা শ্রমিক সংগঠনগুলো নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। এক একটা ব্যাঙ্ক নিজেদের অস্তিত্ব বিলীন করে অন্যের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে, বিএসএনএল সংস্থা প্রায় মৃত, ভারতীয় রেল আউটসোর্সিং করছে। এত সব যে হচ্ছে কোনও প্রতিবাদ হচ্ছে কি?

যদি কোনও প্রতিবাদ জাতীয় স্তরে নিদেনপক্ষে রাজ্য স্তরে না হয় তবে শ্রম দিবসে মিছিল মিটিং কেনই বা করব! আই টি সেক্টরে ট্রেড ইউনিয়ন করতে দেয় না কর্তৃপক্ষ। আর কর্তৃপক্ষকেই দোষ দেই কী করে? আইটি সেক্টরে যারা চাকরি করে তারা নিজেরাই পরিযায়ীর মত আজ এই কোম্পানি তো কাল অন্য কোম্পানিতে। যে কোম্পানি বেশি দেবে সেই কোম্পানিতেই ঝাঁপ দিবেন।

আমি ৩৮টা বছর একটা স্কুলে কাটিয়ে দিলাম। নবীন প্রজন্ম ভাবতেই পারবে না। তারা কাপড় বদলানোর মতো কোম্পানি বদল করে, শুধু হায়ার প্যাকেজ, হায়ার প্যাকেজ করে । আমার বাবা ব্যাঙ্ক ম্যানেজার পদে ছিলেন। বাবাকে দেখেছি দশটায় অফিসে ঢুকতে আর পাঁচটায় বেরিয়ে যেতে। অসমাপ্ত কাজগুলো ওভার টাইম করে শেষ করতেন। এতে অতিরিক্ত টাকা রোজগার হত। এখন আর সেদিন নেই, দশটায় ঢোকা ঠিক থাকলেও বেরোনোর সময় ঠিক নেই। প্রায় সব ব্যাঙ্কেই নামমাত্র স্টাফ দিয়ে কাজ চলছে। কোনও প্রতিবাদ নেই। অথচ ব্যাঙ্কে কমপিউটারাইজেশনের সময় কী তীব্র আন্দোলনই না ছিল!

জর্জ ফার্নান্ডেজের নেতৃত্বে সত্তরের দশকের শ্রমিক আন্দোলনের কথা আর নাই বা বললাম। সত্তরের দশকে যুক্তফ্রন্ট আমলে শ্রম মন্ত্রী সুবোধ ব্যানার্জির নেতৃত্বে জঙ্গি শ্রমিক আন্দোলন এক গৌরবময় অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছিল। তখন জাতীয় স্তরে মধু লিমায়ে, জ্যোতির্ময় বসু, জয়প্রকাশ নারায়ণ প্রমুখ সমাজবাদী নেতা ছিলেন। আজ তার কিছু মাত্র অবশিষ্ট নেই।

অবক্ষয়জনিত হতাশা এখন সর্বত্র। প্রয়াত চিন্ময় দে, দ্বিজেশ নন্দী, পলু বিশ্বাস, সুহাস চ্যাটার্জি, দুর্গেশ নন্দী প্রমুখ শিক্ষকের নেতৃত্বে শিক্ষক সংস্থার সদস্যরাও মিছিলে পা মেলাতেন। আজকাল শিক্ষকরা এসবে থাকেন না। কেন শ্রম দিবস? শ্রম দিবসে কী হয়েছিল? ইত্যাদি ইত্যাদি কথা এখন আর কেউ জানেন না, জানতে চেষ্টাও করেন না।

মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে উচ্চ মধ্যবিত্ত আর নিম্ন মধ্যবিত্তের বিভাজন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। এমতাবস্থায় ঘরে বসে থেকেই ইহজীবনের লীলা সংবরণ করব ভেবে আত্মতুষ্টিতে মগ্ন আছি। না, ভুল বলেছি, আত্মতুষ্টি নয়, গভীর হতাশায় ডুবে আছি। এক বাও মেলে না, দুই বাও মেলে না!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker