NE UpdatesHappeningsBreaking News
মেঘালয়ে সেপটিক ট্যাঙ্কে বিষাক্ত গ্যাসে অসমের ৪ শ্রমিকের মৃত্যু
গুয়াহাটি, ২৮ সেপ্টেম্বর : মেঘালয়ের দক্ষিণ গারো হিলস জেলায় ভূগর্ভস্থ সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে সন্দেহজনক বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাস নিয়ে অসমের চার নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর রাংডোকরাম গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। দুপুর প্রায় ৩টা নাগাদ সেবাস্তিয়ান চন্দ্র সাংমার বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। সেখানে নতুন নির্মিত একটি সেপটিক ট্যাঙ্কের কাজে ওই শ্রমিকরা নিযুক্ত ছিলেন।
জানা গেছে, দুই শ্রমিক সেপটিক ট্যাঙ্কের ঢাকনা খোলার চেষ্টা করার সময় ভিতরে জমে থাকা গ্যাসের সংস্পর্শে এসে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাঁদের উদ্ধারে আরও দুই শ্রমিক ছুটে গেলে তাঁরাও গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে পুলিশ এবং ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে সেপটিক ট্যাঙ্কটি মাটির নীচে থাকায় উদ্ধারকাজে সমস্যা দেখা দেয়। আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছতে উদ্ধারকারীদের কাঠামোটির চারপাশের মাটি খুঁড়তে হয়। উদ্ধারকাজ চালানোর সময় দুই দমকলকর্মীও জ্ঞান হারান বলে জানা গেছে। তাঁদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
পরে চার শ্রমিককেই মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃতদের পরিচয় হল—মোফিদুর রহমান (৩৪), দিয়ারা, পুরানদিয়ারা, মানকাচর; আজিয়ের রহমান (৪১), চেংগুরচর, পুরানদিয়ারা, মানকাচর; ইসমাইল হুসেন (২০), চোমরাশালি, কালাপানি, মানকাচর এবং রাকিব হুসেন (২২), বোয়ালিয়া, রাধামাধব হাট, মানকাচর। চারজনই অসমের দক্ষিণ শালমারা-মানকাচর জেলার বাসিন্দা ছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, সেপটিক ট্যাঙ্কটিতে পর্যাপ্ত গ্যাস নির্গমনের ব্যবস্থা বা সোক পিট না থাকার কারণে ভিতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকতে পারে। সেপটিক ট্যাঙ্কের মতো বদ্ধ জায়গায় হাইড্রোজেন সালফাইড ও মিথেনের মতো গ্যাস জমে গেলে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তবে ঠিক কোন ধরনের গ্যাসের কারণে শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ কী, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।


