Barak UpdatesHappeningsBreaking News
মৃত্যুঞ্জয় শ্রমিকদের ধর্মঘটের সমর্থনে কাছাড়েও বিক্ষোভ

ওয়েটুবরাক, ১৫ ডিসেম্বর: গুয়াহাটির চচলে ‘মৃত্যুঞ্জয় ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স’ পরিষেবার শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘটের সমর্থনে আজ সোমবার অসমের তেল ও পেট্রোলিয়াম খণ্ডের পরিবহণ শ্রমিকরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাছাড়ের জারইলতলার আইওসি বটলিং প্ল্যান্টের পরিবহণ শ্রমিকরাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এই বিক্ষোভে সামিল হয়ে অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন তথা এনটিইউআই’র শ্রমিক নেতা মানস দাস বলেন, ‘মৃত্যুঞ্জয় ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স’ পরিচালক কোম্পানি দীর্ঘদিন থেকে তাদের পরিবহণ কর্মীদের ন্যায্য মজুরি ও ওভারটাইম থেকে বঞ্চিত করছে। বহুবার দাবি জানিয়েও সাড়া না পেয়ে তারা ১ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রাইভেট-পাবলিক সেক্টরে পরিচালিত কোম্পানিটি আন্দোলনকারীদের ছাঁটাই করে দিয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে নাগাড়ে কাজ করে যাওয়া এই শ্রমিকদের প্রতি করা অন্যায় কিছুতেই মানা যায় না। ছাঁটাই অর্ডার বাতিল করে বিনাশর্তে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য ইউনিয়ন সরকারের কাছে দাবি জানায়।
অসমের সমগ্র পরিবহণ শ্রমিকদের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মৃণাল কান্তি সোম বলেন, ৭০০ জন ‘১০৮ অ্যাম্বুলেন্স’ ড্রাইভারকে ছাঁটাই করে দিল হায়দ্রাবাদের মালিক সংস্থা ‘জিভিকে ইএমআরআই’। তাদের অপরাধ, তারা ন্যায্যভাবে বেতন কাঠামোর সংশোধন ও বকেয়া ওভারটাইমের পাওনা দাবি করেছেন। সরকারি ফান্ডে কোম্পানি চলে, ৯৫% অর্থ জোগান দেয় সরকার আর মাত্র ৫% আসে কোম্পানি থেকে। অথচ অসম সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংঘল যখন নতুন নিয়োগের আবেদন জানালেন, তখন করা হলো শ্রমিক ছাঁটাই। মুখ্যমন্ত্রী বললেন, আন্দোলন করলে দাবি শোনা হবে না, রাজ্যে শ্রমিকের অভাব নেই। অথচ শ্রমিকদের এই ন্যূনতম দাবি সরকারের কাছে নতুন নয়। বহু বছর ধরেই তারা ন্যায্য দাবিগুলো জানিয়ে আসছেন।
ইউনিয়নের কথায়, এটা আশ্চর্যের বিষয় যে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার রাজ্যের শ্রমজীবী জনগণের দাবি পূরণের কথা বিবেচনা না করে ঠিকাদার মালিক সংস্থার হয়ে ওকালতি করছে। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য পরিবহণ শ্রমিকদের প্রতিও যে সরকারের ভূমিকা একই রকম কঠোর হবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। সরকার পরিবহণ শ্রমিকদের বেতন ও সামাজিক সুরক্ষার কোনও পদক্ষেপ নিতে চাইছে না। যে আইনি সুরক্ষা আছে তাও উঠিয়ে দিয়ে ‘শ্রমকোড’ চালু করতে চাইছে। তাই সরকারের এই শ্রমিক বিরোধী ভূমিকা প্রতিহত করতে শ্রমিকদের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
উল্লেখ্য, এই সংগঠন ছাড়াও আন্দোলনকারী শ্রমিকদের পাশে রয়েছে অসমের ৯টি ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনের যৌথমঞ্চ ‘সারা অসম যৌথ শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা সংগ্রাম সমিতি’; যার সাথে যুক্ত রয়েছে অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নও। এই মঞ্চের প্রতিনিধিরা সংগ্রামী শ্রমিকদের অবস্থানস্থলে গিয়ে ক্রমাগত সংহতি জানিয়ে আসছেন।
অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের কাছাড় জেলা সম্পাদক ধরিত্রী শর্মা বলেন, পেট্রোলিয়ামজাত তেল ও গ্যাস সেক্টরের পরিবহণ শ্রমিকরাও বিভিন্ন ধরনের ন্যায্য আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ইউনিয়ন পরিবহণ শ্রমিকদের ওয়েলফেয়ার স্কিম ২০১৯ লাগু করার ও প্ল্যাটফর্মভিত্তিক পরিবহণ শ্রমিকদের আইনের অধীনে আনা এবং গাইডলাইন ও শ্রমিকদের চাহিদা অনুযায়ী আয় ও সামাজিক সুরক্ষার গ্যারান্টি দাবি করছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার দেশীয় বেসরকারি মালিক, সরকারি কাজে বরাত পাওয়া ঠিকাদার কোম্পানি এবং ওলা উবেরদের মতো কর্পোরেট পুঁজির মালিকদের শ্রমিকদেরকে অন্যায্য অতি-শোষণে সহায়তা করছে। কোনও জনদরদী দেশপ্রেমিক সরকার তার নিজ দেশের শ্রমজীবী জনগণের সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারে না।
জারইলতলা বটলিং প্ল্যান্টের অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের পরিবহণ শ্রমিকদের ইউনিট কমিটির সম্পাদক নজমুল হক বড়ভূঁইয়া বলেন, সকল পরিবহণ শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের স্বার্থে ‘১০৮ পরিষেবা’র ধর্মঘটী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো অবশ্যই জরুরি। আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে তাই দাবি উঠছে, অনতিবিলম্ব ‘মৃত্যুঞ্জয় ১০৮’ কর্মীদের ছাঁটাই আদেশ প্রত্যাহার করে তাদের দাবিকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে সরকারকে আলোচনায় বসতে হবে। তিনি বলেন, ন্যায্য দাবি আদায়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে ইউনিয়ন বদ্ধপরিকর।

