Barak UpdatesAnalytics

মায়ের স্মৃতিতে বই লিখে নজির গড়ল রাধামাধব কলেজের ছাত্র মৃন্ময়

ওয়ে টু বরাক, ৯ অক্টোবর : শৈশবেই মাকে হারানোর গভীর বেদনা, মায়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা এবং তাঁর স্মৃতিকে আঁকড়ে বেঁচে থাকার আবেগকে শব্দের মাধ্যমে তুলে ধরেছে রাধামাধব কলেজের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্র মৃন্ময় ভট্টাচার্য। মায়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে তাঁর রচিত ‘নো ওয়ান ওয়েটস অ্যাট দ্য ডোর এনিমোর’ (No One Waits at the Door Anymore) গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান শুক্রবার কলেজে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময়ই মাকে হারিয়েছিল মৃন্ময়। সেই শৈশবের বেদনাময় স্মৃতি, মায়ের স্নেহ-ভালোবাসা এবং তাঁকে হারানোর শূন্যতাকে কেন্দ্র করেই তাঁর এই সাহিত্যিক প্রয়াস।

বইটি সম্পর্কে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে লেখক মৃন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, ‘নো ওয়ান ওয়েটস অ্যাট দ্য ডোর এনিমোর’ একটি হৃদয়স্পর্শী গ্রন্থ, যেখানে মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, তাঁকে হারানোর গভীর যন্ত্রণা এবং রেখে যাওয়া স্মৃতিগুলির আবেগময় কাহিনি ফুটে উঠেছে। তাঁর কথায়, “এটি আমার হৃদয়ের এক টুকরো, আমার মনের গভীর অনুভূতি দিয়ে লেখা— সেই সমস্ত মানুষের জন্য, যাঁরা তাঁদের মাকে হারিয়েছেন, অথচ আজও প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্তে মাকে ভীষণভাবে মিস করেন।” মৃন্ময়ের এই রচনা মাতৃহারা মানুষের হৃদয়ের অনুভূতি ও স্মৃতিকে নতুন করে ছুঁয়ে যাওয়ার এক আন্তরিক প্রয়াস।

এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাধামাধব কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. অরুন্ধতী দত্ত চৌধুরী বলেন, কলেজের স্নাতক তৃতীয় সেমিস্টার (অর্থনীতি বিভাগ) এর ছাত্র মৃন্ময় ভট্টাচার্যের লেখা এই কবিতার বইটি শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, ছাত্র সংসদ এবং ছাত্রছাত্রীদের সহযোগিতায় প্রকাশিত হওয়ায় তাঁরা অত্যন্ত গর্বিত। বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা নানা কাজে ব্যস্ত থাকার মধ্যেও যেভাবে সৃজনশীলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘বই প্রকাশের মাধ্যমে আমরা মৃন্ময়ের এই কৃতিত্বকে স্বীকৃতি প্রদানের পাশাপাশি তাকে প্রশংসিত করলাম।’ তাঁর মতে, আজকের দিনে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভার এমন প্রকাশ সত্যিই প্রশংসনীয়। মৃন্ময়ের মতো একজন ছাত্রের সাহিত্যসৃষ্টির মধ্য দিয়ে কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সৃজনশীল প্রতিভার পরিচয় পাওয়া গিয়েছে, যা কলেজের সকলের কাছে অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক ও গর্বের বিষয়। তিনি বলেন, মৃন্ময়ের বক্তব্য থেকে জানা যায়, খুব ছোটবেলাতেই সে তার মাকে হারিয়েছে এবং মায়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যেই বইটি উৎসর্গ করেছে। এই আবেগঘন সাহিত্যকর্মের জন্য মৃন্ময় ভট্টাচার্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে ড. অরুন্ধতী দত্ত চৌধুরী তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন। তাঁর এই সৃজনশীল উদ্যোগ আগামী দিনে আরও অনেক ছাত্রছাত্রীকে সাহিত্যচর্চা ও সৃষ্টিশীল কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন অরুন্ধতী।

উল্লেখ্য, এ দিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আই.কিউ.এ.সি-র কো-অর্ডিনেটর ড. রাহুল শরনিয়া । সভা সঞ্চালনা করেন ছাত্র সংসদের সভাপতি রুহিনী গোস্বামী। উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড.কালীপদ দাস, ড.অরুণাভ ভট্টাচার্য, ড.নবনিতা দেবনাথ, ড.সূর্যসেন দেব, ড. বিধান বর্মণ, ড. রূপম রায়, ড.সি এইচ মণিকুমার সিংহ, ড. এম সানি সিংহ, ড. সুমিতা বোস, শবনম সারংশা, সুরভি ঘোষ, বৈশালী চক্রবর্তী, দেবযানী দেব, কমলেশ দাশ সহ অন্যান্যরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker