Barak UpdatesHappeningsBreaking News

বিধানসভার টিকিটের জন্য আবেদন করব না, ঘোষণা অমিতাভের

"কৌশিক রাইয়ের ভাই, এ কথা তো স্বীকার করতেই হবে "

//উত্তমকুমার সাহা//

শিলচর, ১ মে : ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কাছাড় জেলা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন অমিতাভ রাই। পাঁচ বছর নির্বিবাদে সেই দায়িত্ব নির্বাহ করেন। এর আগে ২০১৩ থেকে ছিলেন জিপি সভাপতি। কিন্তু এ বারের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনের কোথাও তিনি নেই। জেলা পরিষদ সভাপতি পদে মেয়াদ ফুরনোর পরই অবশ্য তিনি  জানিয়েছিলেন, পরবর্তী পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না। কারণ তিনি চান, নতুন কেউ এসে এই দায়িত্ব সামলাক। দ্বিতীয়ত, তাঁর আসনটি এ বার তফশিলি জাতি সংরক্ষিত হয়ে গিয়েছে। আর পঞ্চায়েত রাজ আইনে নিজের আসন ছাড়া অন্যত্র দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। এ ছাড়া, জেলা পরিষদের সভাপতি পদে পূর্ণ মেয়াদ কাটানোর পর জিপি বা এপিতে প্রতিদ্বন্ধিতা করার কথা তাঁর ভাবনাতেও আসেনি।

তবে কি এ বার বিধানসভার দিকে পা বাড়ানো?

অত্যন্ত ধীরস্থির জবাব অমিতাভের, “দল আমার পরিবারকে অনেক কিছু দিয়েছে। বাবা, দাদা, আমি যথেষ্ট পেয়েছি। তাই দলের কাছে আমার এখনই আর কোনও প্রত্যাশা নেই। তবে এটুকু বলতে পারি, দল আমাকে যে দায়িত্ব দেবে, হাসিমুখে তা গ্রহণ করব এবং পালনে সচেষ্ট থাকব।”

কিন্তু দল তো প্রার্থিত্বের জন্য আগ্রহীদের কাছে আবেদন করতে বলবে, সেখান থেকেই প্যানেল তৈরি হবে!

 অমিতাভের স্পষ্ট কথা্, আমি বিধায়ক পদপ্রার্থী নই, ফলে টিকিটের জন্য আবেদনেরও প্রশ্ন আসে না।

পুরোপুরি রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসা অমিতাভ ২০০৭ সালে প্রথম সংগঠনের পদাধিকারী হন। ছিলেন তাপাং মণ্ডল যুব মোর্চার সভাপতি। পরে মণ্ডল বিজেপির সাধারণ সম্পাদক হয়ে মণ্ডল সভাপতি। সাংগঠনিক দিক থেকে এই মণ্ডল সে সময় হাইলাকান্দি জেলা কমিটির অধীনে থাকায় তিনি এক সময় সেই জেলা কমিটিরও পদাধিকারী ছিলেন। পরে তা কাছাড় জেলা ভুক্ত হলে তিনি এই জেলারও নানা দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। বর্তমানে বিজেপির কাছাড় জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক।

এত সব রাজনৈতিক পরিচিতি, স্তরে স্তরে উঠে আসা এ সবের চেয়ে কি ‘কৌশিক রাইয়ের ভাই’ পরিচয়টাই বেশি গুরুত্ব পেয়ে যাচ্ছে না?

কোনও রাখঢাক নেই অমিতাভের। বললেন, “কৌশিক রাইয়ের ভাই, এ কথা তো স্বীকার করতেই হবে। মানুষ যে ভাবে আমাকে দেখবে, সেটাই মানতে হবে।” এই পরিচয়টার জন্যই যে বিধায়ক পদপ্রার্থী হতে চাইছেন না, তারও ইঙ্গিত মেলে অমিতাভের এই একান্ত সাক্ষাৎকারে।

তাঁর দাবি, কাছাড় জেলা পরিষদ সভাপতি হিসেবে নানাদিক থেকে তিনি সফল। তাঁর সময়কালে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ নেই। কোনও কেলেঙ্কারির কথা কেউ বলতে পারেননি। না কোনও বিরোধী নেতা, না কোনও সংবাদপত্র। শাসক-বিরোধী সবাইকে নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজকর্ম করেছেন। ফলে বহু কাজ জাতীয় স্তরে প্রশংসিত হয়েছে। অমৃত সরোবর এবং পিঙ্ক টয়লেটের কথা তিনি বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন। অমিতাভ জানান, বড়সাঙ্গনে তাঁরাই নির্মাণ করেছেন উত্তরপূর্বের প্রথম পিঙ্ক টয়লেট। এ ছাড়া, তিনি যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন কাছাড় জেলা পরিষদের নিজস্ব সূত্রে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৭ লক্ষ টাকা। পাঁচ বছর পরে যখন ছেড়ে আসেন, তখন বাড়তে বাড়তে বার্ষিক রাজস্ব আদায় হয় ১.২৭ কোটি টাকা। অমিতাভ বলেন, কংগ্রেস আমলের টেন্ডার নিয়ে গটআপ ম্যাচ বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি, সমস্ত লেনদেন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে করা বাধ্যতামূলক হয়।

এ বারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সে সবেরই সুফল মিলছে বলে মনে করেন প্রাক্তন জেলা পরিষদ সভাপতি। কংগ্রেস নেতাদের একহাত নিয়ে অমিতাভ বলেন, দলটির ওপর কর্মীদেরই আস্থা নেই, ভোটাররা কতটা কী করবেন! বহু আসনে কর্মীদের কেউ দলীয় প্রার্থী হতে রাজি হননি। তাই কাছাড় জেলায় ২টি জেলা পরিষদ, ৩৪টি আঞ্চলিক পরিষদ এবং ৩১১টি পঞ্চায়েত সদস্য পদে বিজেপি মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় জয়ী হয়েছেন, জানান দলের কাছাড় জেলার সাধারণ সম্পাদক রাই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker