Barak UpdatesHappeningsCultureBreaking News
বিদ্বেষ নয়, সম্পর্কের কথাই আজীবন বলে গিয়েছেন ভূপেন হাজরিকা : জয়দীপ
কাছাড় কলেজে সুধাকণ্ঠের জন্ম শতবর্ষের সমাপ্তি অনুষ্ঠান

ওয়েটুবরাক, ১০ সেপ্টেম্বর: ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।’ এ শুধু তাঁর গান নয়, ড. ভূপেন হাজরিকা একেই তাঁর দর্শন হিসেবে লালন করে গিয়েছেন। তাই কবি, লেখক, সাংবাদিক, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী, অভিনেতা, রাজনীতিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা — এত কিছু বলার পরেও ‘আদ্যোপান্ত মানুষ’ না লেখা পর্যন্ত ঠিকঠাক তুলে ধরা হয় না তাঁকে। ‘মানুষ যদি নাই খুঁজে মানুষের মন, কী হবে সান্ত্বনা দিয়ে’ —- এমন কথা যিনি লিখতে পারেন, তাঁকে নিয়ে কলেজ পড়ুয়াদের সামনে বক্তৃতা করা বেশ কঠিন।
তবে কাছাড় কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান জয়দীপ বিশ্বাস গত মঙ্গলবার অত্যন্ত সাবলীল ভাবে ভূপেন হাজরিকার মানবতা ও সম্পর্কের জায়গাটিকে তুলে ধরলেন। তাঁর কথায়, ভূপেন হাজরিকা ছিলেন প্রকৃত অর্থেই একজন পড়াশোনা জানা মানুষ। স্বাধীনতা লাভের ঠিক পরপরই তিনি গবেষণার জন্য বেছে নিয়েছিলেন গণমাধ্যমকে। একদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষা যে কতটা জরুরি, সেই সময়েই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন তিনি, অন্যদিকে তাঁদের শিক্ষার জন্য অভিও ভিস্যুয়াল টেকনিক ব্যবহারের কথা বলেছিলেন, যে কাজ তিনি নিজেই সারা জীবন করে গিয়েছেন।
জয়দীপের কথায়, মানুষকে ধরে রাখার সেই যে শিক্ষা তিনি গবেষকজীবনে লাভ করেছেন, সেখান থেকে কখনও সরে আসেননি, বরং বারবার বলে গিয়েছেন , জাতি-ধর্ম বা ভাষায় মানুষের মধ্যে বিভেদ কাম্য নয়, প্রতিটি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন জরুরি, সেই সম্পর্ককে ধরে রাখতে হবে।
পাশাপাশি কিছুদিনের জন্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া এবং প্রার্থী হয়ে ভোটে পরাস্ত হওয়াকে জয়দীপ ভূপেন হাজরিকার কাছ থেকে ধার করা শব্দেই বললেন, ওই ছোট্ট একটা পর্বেই শুধু তাঁর ‘স্খলন’ ঘটেছিল, তবে নৈতিক পতন কখনও ঘটেনি তাঁর।
কাছাড় কলেজে মঙ্গলবার ভারতরত্ন ড° ভূপেন হাজরিকার জন্মশতবর্ষ উদযাপনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে জয়দীপ বিশ্বাসই ছিলেন নির্ধারিত বক্তা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ড° হাজরিকার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। কলেজের শিক্ষক- শিক্ষিকারা পরিবেশন করেন সমবেত সংগীত । ড° পারমিতা দাসের পরিবেশিত ভূপেন হাজরিকার গান শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি কলেজের ছাত্রছাত্রীরা পরিবেশন করে ভূপেন হাজরিকার একাধিক গান । তাঁর জনপ্রিয় গানগুলিকে কেন্দ্র করে ছাত্রছাত্রীদের নৃত্যও উপস্থিত সকলের প্রশংসা লাভ করে।

অনুষ্ঠানের আরেক উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ ছিল হেমন্ত কুমার বরার কবিতা আবৃত্তি। তাঁর আবৃত্তিতে ভূপেন হাজরিকার জীবন, দর্শন ও মানবিক চেতনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রকাশ ঘটে।
সমগ্র অনুষ্ঠানজুড়ে ভূপেন হাজরিকার জীবন ও সৃষ্টির বিভিন্ন দিক স্মরণ করা হয়। তাঁর কণ্ঠে ও সৃষ্টিতে যে অসম, ভারত এবং বৃহত্তর মানবসমাজের স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়েছে, সেই চিরন্তন উত্তরাধিকারকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে কাছাড় কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ শামসুদ্দিন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

