Barak UpdatesHappeningsBreaking News
বরাকের তীরে ‘বিশ্ব জল দিবস’ উদযাপন

ওয়েটুবরাক, ৩১ মার্চ: কাছাড় জেলার লক্ষীপুরের সিঙ্গারবন্দে বরাক নদীর পারে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব জল দিবস পালন করা হয়। নর্থ ইস্ট এরিয়া ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির উদ্যোগে মঙ্গলবার আয়োজিত এই কর্মসূচি বরাক ইকোসিস্টেম ও ওয়াটার গভর্ন্যান্স রিসোর্স সেন্টার, ‘মুতুম-লৈকাই’ ইয়ুথ ক্লাব, ইন্টার-এজেন্সি গ্রুপ (কাছাড়) এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার-এর সহযোগিতায় পালিত হয়।
আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তু ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সদস্য, জিরি রেঞ্জের বন বিভাগের কর্মকর্তা, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা কাছাড়, ইন্টার-এজেন্সি গ্রুপ এবং রূপাইবালি আনুয়া প্রোটেকশন কমিটির প্রতিনিধি সহ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বরাক নদীর অপরিসীম গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন এবং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় নদীটির ভূমিকা তুলে ধরেন। তারা জানান, সমগ্র বরাক উপত্যকা এই নদীর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর জলজ পরিবেশের স্বাভাবিক ও নির্মল অবস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বক্তাদের মতে, বরাক নদী, এর সবগুলো উপনদী এবং আনুয়া-র জলের গুণগত মান ক্রমশঃ অবনতির দিকে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক এবং এসবের দ্রুত পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন রয়েছে।
আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পার্থঙ্কর চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে চলতি বছরের বিশ্ব জল দিবসের থিম ‘জল ও লিঙ্গ’-এর তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জলসংকটের ফলে নারী ও কিশোরীরা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়, তাই এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, “যেখানে জল প্রবাহিত হয়, সেখানে সমতা বৃদ্ধি পায়। একসময়ে বরাকের উজানে টিপাইমুখ ডাম নির্মাণের জোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। মন্দের ভাল, যে আজ অব্দি ‘টিপাইমুখ’ দিনের আলো দেখেনি ! জলের প্রবাহ তাহলে আটকে যেত, সমতা প্রাপ্তিও বিঘ্নিত হতো। জলসম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে সমাজের সকল স্তরের মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবেন বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।”

কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্বে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নৌকাদৌড় ও সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নক-আউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত নৌকাদৌড়ে এলাকার মোট আটটি দল অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি শিশু ও যুবকদের অংশগ্রহণে সাঁতার ম্যারাথন আয়োজন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে।
এছাড়াও, অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জলের গুণমান পরীক্ষার একটি তাৎক্ষণিক পদ্ধতি উপস্থিত জনগণের সামনে হাতে কলমে দেখিয়ে দেন। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জলমান নির্ণয়ের সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়, যা পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ মোকাবিলার প্রতিনিধি ড. রাজীব গুপ্ত এবং ড. অনন্যা গুপ্ত, ইন্টার-এজেন্সি গ্রুপের দেবজিত গুপ্ত, এনডিআরএফ দলের সদস্যরা সহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি। স্থানীয় গ্রামবাসী সহ পাঁচ শতাধিক মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। বলা বাহুল্য, প্রতিবছর ২২শে মার্চ বিশ্বজুড়ে এই অনুষ্ঠানটি উদযাপিত হয়। স্থানীয় ভাবে গত বছরের মতো এই দিনটিতেই অনুষ্ঠান করার ইচ্ছে থাকলেও, নদীর জলসীমা বেশি থাকায় অনুষ্ঠানটি পিছিয়ে দিতে হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই মত প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগ শুধুমাত্র একটি দিবস উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বরাক নদী এবং এর জলজ পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এ



