Barak UpdatesHappeningsBreaking News
পঞ্চায়েত নির্বাচনে কংগ্রেসের অদ্ভুত কাণ্ড, ঘোষিত প্রার্থী পেলেন না প্রতীক !

ওয়েটুবরাক, ১৭ এপ্রিল: পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে গিয়ে কী ধরনের হিমসিম খেতে হয়েছে শিলচর জেলা কংগ্রেসকে, এর প্রমাণ রয়ে গেল জেলা প্রশাসন ও নির্বাচনী নথিপত্রে। কাছাড়ের মোহনপুর-শালচাপড়া জেলা পরিষদ আসনে দুইজনকে প্রার্থিত্ব প্রদান করে তাঁরা। পরে যাকে প্রার্থী বলে ঘোষণা করা হল, আধিকারিকরা তাঁর নামে প্রতীক বরাদ্দ করেননি, করেছেন বি-ফরম দিয়েও যাকে নির্দল করতে চেয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি।
নির্বাচন আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলো বি-ফরম জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে জানায়, কোনও নির্দিষ্ট আসনে কাকে প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁরা যেন তার নামেই তাদের দলীয় প্রতীক বরাদ্দ করেন। মনোনয়ন পত্র দাখিলের সময়েই প্রার্থীকে ওই ফরম জমা করতে হয়।
মোহনপুর -শালচাপড়া আসনে সেই ফরম দুইজনের নামে ইস্যু করে দিলেন শিলচর জেলা কংগ্রেসের সভাপতি অভিজিৎ পাল। তাঁর সাফাই, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় পেরিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু কাকে প্রার্থী করা তা চূড়ান্ত করা যাচ্ছিল না, তাই নাজিরা বেগম লস্কর ও নজরানা বেগম মজুমদার যে দুইজন দলীয় প্রতীকের দাবি করছেন, সেই দুইজনকেই আপাতত বি ফরম দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে একজনেরটা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। নইলে দুজনের বি-ফরমই প্রত্যাহার করে উভয়কে নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বলা হবে।
কিন্তু তা করতে গিয়ে ব্যর্থ হন অভিজিৎ। তিনি রিটার্নিং অফিসারকে নিজের প্যাডে সই-সিল দিয়ে লিখে দেন, নাজিরা বেগম লস্কর তাদের দলীয় প্রার্থী। তাকেই যেন প্রতীক প্রদান করা হয়। কিন্তু বল যে তখন আধিকারিকদের কোর্টে। আর নির্বাচন খেলার নিয়মনীতি একেবারে ছকবাঁধা। এই ধরনের পরিস্থিতিতে কী করণীয়, তা আইনের ধারা-উপধারায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মূল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র কোনও কারণে বাতিল হলেও যাতে আসনটি দলীয় প্রতিনিধিত্ব শূন্য না হয়, সেজন্য ড্যামি প্রার্থী হিসেবে আরেকজনকে বি-ফরম দিয়ে রাখা হয়। কিন্তু স্ক্রুটিনির আগে দলকে আরেক চিঠিতে নির্বাচন আধিকারিককে জানিয়ে দিতে হয়, কে তাদের আসল প্রার্থী। সেখানেও কী করে তা জানাতে হবে, এর সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়েছে, চিঠির সঙ্গে নতুন বি ফরম জমা দিয়ে বলতে হবে আসল প্রার্থীর নাম।
অভিজিৎ নাজিরাকে প্রার্থী বলে জানালেও তা শুধুই চিঠিতে জানিয়েছেন, সঙ্গে কোনও ফরম জমা করেননি। ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সেই চিঠি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে কী করণীয়? আইনে বলা হয়েছে, এক আসনে এক দলের দুজন বি ফরম দাখিল করলে এবং নতুন বি ফরম দিয়ে কাকে মূলত প্রার্থী করা হয়েছে, তা না জানালে প্রথমে যিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন, তাকেই দলীয় প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। অন্যজন হবেন নির্দল প্রার্থী।
এখানেও তাই হয়েছে। আর তা করতে গিয়েই কংগ্রেস সভাপতি যাকে প্রার্থী করতে চাননি, তাঁর নামেই বরাদ্দ হলো প্রতীক চিহ্ন। কারণ নাজিরার আগে বি ফরম সহ মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন নজরানা। ফলে ভোটের খাতায় মোহনপুর – শালচাপড়া আসনে কংগ্রেস প্রার্থী হলেন নজরানা বেগম মজুমদার। নাজিরা বেগম লস্কর লড়ছেন নির্দল প্রার্থী হিসেবে।
