Barak UpdatesHappeningsCulture
গান্ধীবাগে শহিদ শ্রদ্ধায় দ্য গ্রুপ অব কালার্স-র চিত্রশিল্পী শিবির

ওয়ে টু বরাক, ২০ মে : ১৯ শে মে ভাষা শহিদ দিবস উপলক্ষে এক বিরাট চিত্রশিল্পী শিবির আয়োজন করল “দ্য গ্রুপ অব কালার্স। ব্যতিক্রমী ভাবনায় এই শিবির আয়োজিত হয়েছে শিলচর গান্ধীবাগে। এ দিন শিবিরে সৃজনশীল প্রতিভা নিয়ে অমর উনিশ স্মরণে তাৎক্ষণিক পেইন্টিং করা হয়, এতে বরাক উপত্যকার ১২ জন চিত্রশিল্পী অংশগ্রহণ করেন।
শিবিরের শুরুতে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা হয়। উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি আধিকারিক শ্রেয়াংশু শেখর রায়, বরাক উপত্যকার কবি সাহিত্যিক কস্তুরী হোম চৌধুরী, বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন কাছাড় জেলা সমিতির সম্পাদক উত্তম কুমার সাহা, কবি সাহিত্যিক কানন নাথ মজুমদার ও সন্তোষ কুমার চক্রবর্তী, সেন্ট্রাল সিনিয়র হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ফাউন্ডার মেম্বার প্রশান্ত ভট্টাচার্য এবং দ্য গ্রুপ অব কালার্সের সম্পাদক তথা চিত্রশিল্পী গৌরশঙ্কর নাথ। গোটা শিবির সঞ্চালনা করেন সম্পাদক নিজেই ।
প্রথমে সবাইকে গামছা এবং নিখিল রঞ্জন নাথ মজুমদার স্মৃতি স্মারক সম্মান দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। তারপর গৌরশঙ্কর এই শিবির সম্পর্কে তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি এই শিবিরের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে বলেন, পেন্টিংগুলি বরাক তথা দেশের বাংলা ভাষা প্রেমিক মানুষের ঘরে ঘরে পৌছনোর উদ্দেশ্য বাস্তব রূপ নিয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে প্রদর্শনীর মাধ্যমে ক্রেতারা পছন্দের ছবি ক্রয় করে নিচ্ছেন বা কাউকে উপহার স্বরূপ দিচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি কস্তুরী হোম চৌধুরী বলেন, দ্য গ্ৰুপ অব কালার্স -এর এই চিত্রশিল্পী শিবিরে তিনি প্রথমবার এসেছেন। ১৯-এর চেতনা চিত্রশিল্পীরা নিজের সৃজনশীল ভাবনায় ফুটিয়ে তোলেন, এটা সত্যিই প্রশংসনীয়। শ্রেয়াংশু শেখর রায় বলেন, এই নিয়ে অনুষ্ঠানে দুবার উপস্থিত হয়ে ভীষণ ভালো লাগছে। তিনি “দ্য গ্রুপ অব কালার্স “এর উজ্জল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। উত্তম সাহা বলেন, এই যে এতটি বছর ধরে শিল্পীরা তাৎক্ষণিক ছবি অঙ্কন করে উনিশের চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছেন, তার সাথে যদি অমর উনিশ নিয়ে শিল্পীদের সাথে একটি আলোচনা সভা করা যায় তাতে শিল্পীদের সৃজনশীল মনের ভাবগুলো আগামী প্রজন্ম জানতে পারবে।
কানান নাথ মজুমদার বলেন, আমরা কবি সাহিত্যিক যেভাবে গল্প কবিতা মাধ্যমে উনিশকে স্মরণ করি সেভাবে চিত্রশিল্পী নিজের মনে ভাব নিয়ে ক্যানভাসে রঙ মাখিয়ে এক মনোরম আন্দোলনের দৃশ্য তুলে ধরেন, তা সত্যি প্রশংসনীয়। সন্তোষ কুমার চক্রবর্তী সংস্থার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। প্রশান্ত ভট্টাচার্য বলেন, সেন্টাল সিনিয়র হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ফাউন্ডার মেম্বার হিসেবে আগামীতে স্কুল এবং কালার্স এর সাথে সমন্বয় রেখে ১৯-শে মে তে ভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা যেতে পারে। গৌরশঙ্কর বলেন, ২০১৯ এই শিবিরের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। মাঝখানে মহামারি করোনার জন্য ও বন্যার কারণে দুটি বছর এই শিবির আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। গত কয়েকটি বছর থেকে শিবির শুরু হয়েছে, তা তবে আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
এ দিন ১৯৬১ ইংরেজির বাংলা ভাষা আন্দোলন বিষয়ক বই উন্মোচন করা হয়। তারপর শিল্পীদের পরিচয়পত্র, মানপত্র প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি প্রয়াত নিখিল রঞ্জন নাথ মজুমদারের স্মৃতিতে স্মারক সম্মাননা প্রত্যেক শিল্পীর হাতে তুলে দেন তাঁর সহধর্মিনী কানন নাথ মজুমদার এবং পুত্রবধূ অনুশ্রী নাথ ।
এবারের শিবিরে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট শিল্পীরা হলেন, শ্রীভূমি থেকে প্রণীত দে, অমিতাভ চৌধুরী ও জয়শ্রী কর, শিলচর থেকে অমিতা দে শীল, বিপ্রপ্রতীম ভট্টাচার্য, অঙ্কিতা দাস ও বিহাড়া থেকে বিত্তিকা দাস, পাঁচগ্রাম থেকে বাপন দাস প্রমুখ। বেলা ২টা ৩৫ মিনিটে গান্ধীবাগের শহিদ স্মৃতি সৌধে শত শত ভাষা প্রেমিক মাল্যদান এর মাধ্যমে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তা মাথায় রেখে গৌরশঙ্কর বিগত কয়েক বছরের শিবিরের পেইন্টিং এবং এবারের পেন্টিং মিলিয়ে স্মৃতি সৌধের সম্মুখে চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এই প্রদর্শনীতে পেন্টিং গুলোর মধ্যে এবার দুটি পেন্টিং বিক্রি হয়েছে তার মধ্যে একটি পেইন্টিং ক্রয় করেছেন কস্তুরী হোম চৌধুরী এবং অপরজন আশ্রম রোডের প্রাক্তন ওয়ার্ড কমিশনার রাজেশ দাস ।



