Barak UpdatesHappeningsBreaking News

পরিমল সুস্মিতাকে স্বাগত জানালেন, দীপায়ন বললেন, শুদ্ধিকরণ বাঞ্ছনীয়

ওয়েটুবরাক, ১০ জুন: সুস্মিতা দেব কি এবার বিজেপিতে যোগ দেবেন? সে ক্ষেত্রে দলের অভ্যন্তরে তাঁকে নিয়ে কোনও সংঘাত দেখা দেবে না তো? তাঁকে কীভাবে নেবেন এতদিনের বিরোধীরা?

এসব প্রশ্নই আজ ঘুরে বেড়ায় শহরে-গ্রামে এখানে -ওখানে। বেলার শুরুতে বিজেপির অন্দরে অসন্তোষ যেভাবে ধূমায়িত হচ্ছিল, সন্ধ্যা হতেই সুরবদল শুরু হয়। তবে সুস্মিতা দেবের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছেন কংগ্রেস এবং বামপন্থীরা।

বিজেপির পোড়খাওয়া নেতা, শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য খোলামেলা বলেন, আমি তাঁকে স্বাগত জানাই। তিনি এবং তাঁর পরিবার দেশকে-সমাজকে অনেককিছু দিয়েছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তিনি এখন বুঝে গিয়েছেন, কংগ্রেস বা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হয়ে এখন আর সেই সেবার সুযোগ মিলবে না। সুস্মিতাকে রাজনীতিতে অভিজ্ঞ বলে উল্লেখ করে সাংসদ শুক্লবৈদ্য বলেন, বৈভবশালী ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে, বিজেপি ছাড়া আর কারও পক্ষে সম্ভব নয়, এটা বুঝেই সুস্মিতা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

 তবে শিলচরের প্রাক্তন বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী বলেন, “শিলচরের ভাষা বোঝেন না, এখানে বাংলাদেশের বাংলা বলা হয় বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন শিলচর সহ বরাকবাসীকে কটাক্ষ করেছিলেন, সেদিনই সুস্মিতা দেবের তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আসা উচিত ছিল।

সামাজিক মাধ্যমে দীপায়ন তাঁর ২৭ এপ্রিল তারিখের একটি পোস্টের উল্লেখ করে আজ লিখেছেন, “সেদিন পদত্যাগ করলে হয়তো বাংলা ভাষার সম্মানে নিজে সম্মানিত বোধ করতেন। সুসময়ে বন্ধু অনেকেই হয়, অসময়ে হায় হায় কেউ কারও নয়। যাই হোক শুদ্ধিকরণ বাঞ্ছনীয়। ন হিন্দুঃ পতিতো ভবেৎ। বসুধৈব কুটুম্বকম।”

শিলচর জেলা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অভিজিৎ পাল সুস্মিতা দেবের এমন সিদ্ধান্তে মোটেও বিস্মিত হননি বলে জানিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সুস্মিতা বহুদিন ধরেই হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিজেপির জন্য কাজ করছিলেন। গত লোকসভা ও বিধানসভা দুই নির্বাচনেই তিনি হিমন্ত বিশ্বের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ পেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন অভিজিৎ।

সদ্য প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী মিসবাহুল ইসলাম লস্কর সুস্মিতা দেবের সিদ্ধান্তকে ‘অতি দ্রুত’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর কথায়, রাজ্যসভার সদস্য পদে আরও চার বছর রয়ে গিয়েছিল তাঁর। ফলে ওই সময়ের মধ্যে রয়েসয়ে সিদ্ধান্ত নিলেই ভালো হতো। একটা দল হারার পরেই পড়ি-মরি করে আরেক দলে ভিড়ে যাওয়া রাজনৈতিক সুস্থিরতা নয়।

সামাজিক মাধ্যমে অবশ্য আজ দিনভর সুস্মিতা দেবের তৃণমূল ত্যাগে বিরূপ প্রতিক্রিয়াই দেখা গিয়েছে। জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জ্যোতিরিন্দ্র দে লিখেছেন, “ফিনফিনে কুর্তা-পাজামা-গামছা পরা নেতা-নেত্রী দেখলেই এখন ঘেন্না হয়। এই পোশাক পরিহিত নেতা-নেত্রীরা এখন বেইমান, স্বার্থপর, নীতিহীনতা ও দুর্নীতির প্রতীক চিহ্ন!”

“ভাবতেই পারছিনা, সব দালাল”, লিখেছেন আরেক কংগ্রেস নেতা দেবদীপ দত্ত। লেখিকা আদিমা মজুমদার ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন, “তোমার কংগ্রেস ছাড়া ভুল হয়েছে, না হলে আজ শিলচরে বিধায়ক হতে। বিজেপিতে যোগ দিও না, ফিরে এসো কংগ্রেসে। বাবার আত্মা শান্তি পাবে। প্রার্থী খুঁজে পাই না কাকে ভোট দেবো।ভালোবাসা রইলো।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker