Barak UpdatesHappeningsBreaking News

কাছাড় কলেজে বসছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আসর, আসছেন তেজেন্দ্রনারায়ণ-সন্দীপ

ওয়েটুবরাক, ১৩ ফেব্রুয়ারি:  কাছাড় কলেজ হেরিটেজ ক্লাব এবং ‘সোসাইটি ফর দ্য প্রমোশন অফ ইন্ডিয়ান ক্লাসিক্যাল মিউজিক অ্যান্ড কালচার অ্যামংস্ট ইয়ুথ’ (স্পিক ম্যাকে)-এর যৌথ উদ্যোগে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার কাছাড় কলেজে আয়োজিত হতে চলেছে ধ্রুপদী সঙ্গীতের এক বিশেষ অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে কাছাড় কলেজে চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। এদিনের অনুষ্ঠানে আসছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সরোদবাদক পদ্মশ্রী তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার। তবলাতে সঙ্গত করবেন স্বনামধন্য শিল্পী সন্দীপ ঘোষ।

এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ দেখা দিয়েছে। ধ্রুপদী সঙ্গীতের সুরে চিরাচরিত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আবহটি মূর্ত হয়ে উঠবে বলে আয়োজকেরা আশাবাদী। এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা হলেন কাছাড় কলেজের অধ্যক্ষ ড. অপ্রতিম নাগ। কাছাড় কলেজ হেরিটেজ ক্লাবের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের মুখ্য দায়িত্বে থাকছেন বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপিকা ড. পারমিতা দাস, সঙ্গে অন্যান্য সদস্যরা।

প্রসঙ্গত, তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার ধ্রুপদী সঙ্গীতে তাঁর অবদানের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। তিনি ওস্তাদ বাহাদুর খান ও আলি আকবর খানের শিষ্য। দক্ষ সঙ্গীত-শিল্পী হিসেবে ভারতে ও বিদেশের বিভিন্ন সঙ্গীত উৎসবে ধ্রুপদী সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন তিনি। ওয়াশিংটনের বেলভিউয়ের চার্চের স্প্রিং হলের কনসার্টে তিনি সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন। তাঁর রাগ চারুকেশি দ্বৈত সঙ্গীত বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

অন্যদিকে, সন্দীপ ঘোষ ছয়বছর বয়সে পণ্ডিত গোবিন্দ বোসের অধীনে তবলা বাদন শুরু করেন। পণ্ডিত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তি তবলা-গুরুদের সঙ্গে পঁচিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তবলা বাদনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বিভিন্ন বিশ্ববিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞের সঙ্গে শাস্ত্রীয় ও অন্যান্য ঘরানায় কাজ করে তাঁর দক্ষতা সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে।

 স্পিক ম্যাকে-এর উদ্দেশ্য হল, ভারতের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের অবহিত করা এবং ধ্রুপদী সঙ্গীত, শিল্প, সাহিত্য, নৃত্য, নাট্য, চিত্রকলা ও কারুশিল্পের প্রতি শিক্ষার্থীদের কৌতূহলী ও অনুসন্ধিৎসু করে তোলা। প্রাচীন গুরুকুল শিক্ষাব্যবস্থায় যে নিষ্কাম কর্মের আদর্শ প্রচারিত হতো, সেই সনাতন মূল্যবোধের আদর্শকে আধুনিক প্রথাগত শিক্ষার পরিসরে নতুনভাবে উপস্থাপন করার প্রচেষ্টায় সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের দেশের সুপ্রাচীন সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতি ও আবহমানকালের পরম্পরা সম্পর্কে জানতে পারে।

 কাছাড় কলেজের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সমাজে তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ হারানোর জন্য মানুষের মধ্যে দেখা দিচ্ছে বিচ্ছিন্নতার বোধ ও মূল্যবোধের সংকট । শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সুরেলা আসর ও এর বৈঠকী পরিবেশ সাংস্কৃতিক বন্ধনকে দৃঢ় করে তোলে। এই অনুষ্ঠানে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সুরে ছাত্র-ছাত্রীরা সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞান লাভের পাশাপাশি মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠবে এবং মৌলিক দায়িত্ব ও কর্তব্যপালনে অনুপ্রাণিত হবে। আগামী দিনের সুনাগরিক গড়ে তোলা তথা ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরার যথার্থ উত্তরাধিকারী হিসেবে তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষিত করে তোলা এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker