NE UpdatesHappeningsBreaking News
আমি সরলেই আন্দোলন শেষ, কটাক্ষ হিমন্তের

ওয়েটুবরাক, ২২ অক্টোবর: জুবিন গর্গের মৃত্য ঘিরে রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ-আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আমি যদি আজ ইস্তফা দিই, তাহলে ৫০ শতাংশ বিক্ষোভ বন্ধ হয়ে যাবে। আর গৌরব গগৈ মুখ্যমন্ত্রী হলে বাকি ৫০ শতাংশ আন্দোলনও শেষ হয়ে যাবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় ।
আসলে বিক্ষোভের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য জুবিনকে ন্যায়বিচার দেওয়া নয়। এই আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক প্ররোচনা রয়েছে, এবং এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।” তাঁর কথায়, “জুবিনকে যারা সত্যি ভালোবাসতেন, তারা তাঁর জীবদ্দশায় পাশে ছিলেন। কিন্তু এখন এমন একটা অংশ রাস্তায় নেমেছে যারা একসময় তাঁর কাজ নিয়েই সমালোচনা করত। এই ভণ্ডামি মেনে নেওয়া যায় না।”
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই মন্তব্য ও অবস্থান স্পষ্টতই রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। তাঁর সরকার জুবিন গর্গের মৃত্যু নিয়ে সৃষ্টি হওয়া আবেগকে রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবে দেখছে। তবে, মুখ্যমন্ত্রীর এ সম্পর্কিত মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি বাকসা জেলায় ঘটেছে একাধিক সহিংস ঘটনা, যার সঙ্গে জুবিন গর্গের মৃত্যু-পরবর্তী আন্দোলনের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতির কারণে অনেক স্থানীয় যুবক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, “যদি তারা স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে এসে নিজেদের বক্তব্য দেয়, তবে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর ব্যবস্থা নেবে না।”
এই পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “কিছু নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যম অতিরঞ্জিত ও বিকৃত তথ্য পরিবেশন করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।” তিনি জনগণকে আহ্বান জানান যেন তারা শুধুমাত্র প্রমাণভিত্তিক খবরেই বিশ্বাস রাখেন।
পরিবেশ সংক্রান্ত একটি বিতর্কের উত্তর দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “জুবিন যে অঞ্চলে গাছ কাটা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, সেখানে কোনও গাছ কাটা হয়নি। আমি নিজে জুবিনকে আশ্বস্ত করেছিলাম যে একটি গাছও কাটা হবে না। এখনও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষিত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “গাছ কাটা সংক্রান্ত খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
জুবিন গর্গের শিল্প ও সাংস্কৃতিক অবদানকে সম্মান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, “সরকার তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলি শেষ করবে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে সংগীত বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি, রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জুবিন গর্গের মূর্তি বসানো হবে।”
আইনগত দিক থেকেও মুখ্যমন্ত্রী জনগণকে আশ্বস্ত করেন যে, এই মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চলেছে। তিনি বলেন, “সরকার যদি কোথাও ভুল করে, আদালত তা সংশোধন করবে। উচ্চ আদালত ইতিমধ্যে তদন্ত গ্রহণ করেছে। শীঘ্রই পুলিশের রিপোর্টও আদালতে জমা পড়বে।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই মামলাটি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে দ্রুত শুনানির জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি অসমবাসীকে আহ্বান জানান, “ধৈর্য ধরুন ও ভারতের বিচার ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস রাখুন।”


