Barak UpdatesHappeningsCultureBreaking NewsFeature Story
সুরের সলিল ধারায় মুগ্ধ করল সুরমন্দির

ওয়েটুবরাক, ২৬ আগস্টঃ কিংবদন্তী সঙ্গীতস্রষ্টা সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে গত শনিবার ‘সুরের সলিল ধারা’ বয়ে গেল শিলচর বঙ্গভবনে। চমৎকার একটা কমপ্যাক্ট প্রোগ্রাম করল সুরমন্দির সাংস্কৃতিক কলাকেন্দ্র।
‘পামাগারেসা’, ‘মিউজিক্যাল কমেডি অব সলিল’, ‘সপ্তসুরের ঝরণা’, অনুসূয়া মজুমদারের গ্রন্থনায় ‘একই সুর ভিন্ন গান’ ইত্যাদি সাত পর্বে বিশাল সংখ্যক শিল্পীকে নিয়ে সঙ্গীত-নৃত্যের অনুষ্ঠান হল বটে, কিন্তু কোথাও কোনও ফাঁক নেই। একেবারে শেষ পর্বে গণসংগীত এবং এর সঙ্গে চন্দন মজুমদারের পরিচালনায় নৃত্যানুষ্ঠান ভালোই লাগল।
মেঘমালা দে মোহন্তের রচনায় ‘ছোটদের সলিল’ তো বটেই, ‘অভিভাবকদের সলিল’ও কী সুন্দর পরিবেশিত হল! সুরমন্দিরের শিক্ষার্থীদের মা-পিসিরা কোরাসে অংশ নিলেন, যাঁদের অনেকেরই এখন আর গান গাওয়া হয় না। অথচ কেউ কোথাও তাল কাটেননি।

সব মিলিয়ে, সুন্দর একটা সুরসন্ধ্যা উপভোগ করলেন হলভর্তি দর্শক-শ্রোতা। নানা বয়সের শিল্পীরা দর্শকদের এমনই মুগ্ধ করে রেখেছিলেন যে বাইরে অঝোর বৃষ্টি হচ্ছিল, কেউ টেরই পাননি। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যন্ত বসে রইলেন সবাই।
শুরুতে প্রধান অতিথি আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বতোষ চৌধুরী বলেন, সলিল চৌধুরীর জীবন ও ক্যানভাস এত বিশাল যে, সংক্ষেপে তুলে ধরা কঠিন। কারণ তাঁর মধ্যে ছিল বিশ্ববোধ ও নিঃস্ববোধ। একদিকে বিশ্বমানব এবং অন্যদিকে নিঃস্বতা, রিক্ততার সাধক ছিলেন তিনি। ‘এই জীবনে কিছু যেন ভালো লাগে না’ গানের প্রথম কলি গেয়ে ড. বিশ্বতোষ বলেন, এখানেই সলিল চৌধুরী বলে গিয়েছেন, আমি বড় একা হয়ে গিয়েছি। কিংবদন্তী সুরস্রষ্টাকে নিয়ে লেখা ড. অরুণ বসুর প্রবন্ধের একাংশও পাঠ করেন বিশ্বতোষ।

অতিথিদের মধ্যে আরও ছিলেন রূপমের সাধারণ সম্পাদক নিখিল পাল, আকাশবাণী শিলচর কেন্দ্রের প্রোগ্রাম এগজিকিউটিভ হিতব্রত ভট্টাচার্য, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাংস্কৃতিক বিভাগের সহসভাপতি অজয় চক্রবর্তী, বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কাছাড় জেলা সমিতির সম্পাদক উত্তমকুমার সাহা, বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী চন্দন মজুমদার এবং করিমগঞ্জ সুরমন্দিরের প্রতিনিধি অরূপরতন দাস ও বিষ্ণুপদ নাগ।

সুরমন্দিরের দুই কাণ্ডারী অনুসূয়া মজুমদার ও হৃষিকেশ (মিঠু) চক্রবর্তীর প্রশিক্ষণের তারিফ করতে হয়। এত শিশু-কিশোর বঙ্গভবনের বিশাল মঞ্চে গাইল, কিন্তু কেউ গানের কলি ভুল করেনি। কেউ নির্দেশ ভেঙে বেরিয়ে যায়নি। উল্লেখ করতে হয় সেদিনের যন্ত্রশিল্পী কানাইলাল দাস (কিবোর্ড ও বাঁশি), সন্দীপ ভট্টাচার্য (কিবোর্ড), রাজীব পালচৌধুরী (লিড গিটার), সুরজিত শর্মা (বাস গিটার), গোবিন্দ শর্মা (রিদম গিটার), স্বর্ণদীপ দে (ঢোলক ও হ্যান্ডসোনিক), তুষার দেব (অক্টোপ্যাড) ও চিরঞ্জীব অধিকারীর (তবলা) কথা। উল্লেখ করতে হয় সঞ্চালিকা শান্তশ্রী সোমের কথা।
অনুষ্ঠান শেষে আগরতলার এক প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হল। তিনি আত্মীয়বাড়িতে এসে অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছেন। অধ্যাপক চৌধুরীর বক্তৃতার তো বটেই, গোটা অনুষ্ঠানমালার উচ্চপ্রশংসা করলেন। জানালেন, সলিল চৌধুরীকে নিয়ে এই ধরনের আয়োজনে তিনি মুগ্ধ।
‘বিশ্বপিতা তুমি হে প্রভু’ কোরাসে অনুষ্ঠানের সূচনা থেকে গণসঙ্গীতে সমাপ্তি—- সত্যিই সলিল ধারায় ভেসে মুগ্ধ সেদিনের সকল দর্শক-শ্রোতা।


