Barak UpdatesHappeningsBreaking News
শিলচরে পালিত বিপ্লবী উল্লাসকর দত্তের জন্মদিন

ওয়েটুবরাক, ১৭ এপ্রিলঃ ‘‘শৈশবে আমরা তাঁর ঘরে গিয়ে নিয়মিত ছুটোছুটি করতাম৷ দাদু বলে ডাকতাম৷ কিন্তু তিনি যে এত বড় মাপের একজন মানুষ ছিলেন, তখন বুঝতে পারিনি৷’’ বুধবার এ ভাবেই উল্লাসকর দত্তের স্মৃতিচারণ করলেন প্রবীণ নাট্যকার চিত্রভানু ভৌমিক৷
অগ্নিযুগের বিপ্লবী উল্লাসকর দত্তের ১৪১-তম জন্মদিন উপলক্ষে শিলচরে তাঁর আবক্ষ মূর্তিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়৷ কথা ও সঙ্গীতে মুখরিত হয়ে ওঠে উল্লাসকর দত্ত সরণি৷ ১৯৬৫ সালের ১৭ মে শিলচরে মারা যান উল্লাসকর৷ এর কয়েকদিন পরেই বড় পরিসরে তাঁর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়৷ সে থেকে এই শহরে প্রতি বছর তাঁর মৃত্যুদিনে সভা হয়৷ পরে ধীরে ধীরে জন্মদিন পালনেরও উদ্যোগ নেন উল্লাসকরপ্রেমীরা৷
শিলচর শহরের প্রতিমূর্তি সংরক্ষণ ও স্মৃতিরক্ষা সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর রায়চৌধুরী বলেন, উল্লাসকর দেশবিভাজন মেনে নিতে পারেননি বলে স্বাধীনতার পর সস্ত্রীক কলকাতা ছেড়ে শিলচরে চলে আসেন৷ জীবনের শেষ দিনগুলি এখানেই কাটান৷
অনুষ্ঠানে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক গৌতমপ্রসাদ দত্ত, পুণ্যপ্রিয় চৌধুরী, মনোজ দেব, মহীতোষ পাল, জ্যোৎস্না সিনহা, সঞ্জিত দেবনাথ, অশোক দেব, সাধন পুরকায়স্থ, পীযূষ চক্রবর্তী, দিলীপ সিনহা প্রমুখও বক্তৃতা করেন৷ বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সাহিত্য সভার পক্ষ থেকেও বিপ্লবীর মূর্তিতে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়৷ অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নন্দদুলাল সাহা, দীপক সেনগুপ্ত, বুদ্ধ পাল, অশোক রাজকুমার, পার্থপ্রতিম দাস, সব্যসাচী পুরকায়স্থ প্রমুখ৷
প্রসঙ্গত, উল্লাসকর দত্ত ১৮৮৫ সালের ১৬ এপ্রিল অধুনা বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কালীকচ্ছ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন৷ বোমা তৈরির অভিযোগে ফাঁসির সাজা হয়েছিল প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তনী উল্লাসকরের৷ পরে আপিল মামলায় তা কমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়৷ আন্দামান সেলুলার জেলে অমানুষিক নির্যাতনে তিনি অর্ধোন্মাদ হয়ে পড়লে ১১ বছর কারাবাসের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়৷ ফিরে এসে ৬২ বছর বয়সে পক্ষাঘাতগ্রস্ত লীলা পালকে বিয়ে ও শিলচরে এসে ঘরসংসার করা উপন্যাসের কাহিনির মতো বলে মন্তব্য করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি, অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্ভিস অফিসার শ্যামলকান্তি দেব৷



