NE UpdatesHappeningsBreaking News
মুখ্যমন্ত্রীর বিভাজনমূলক মন্তব্য : ক্যাব চালক ও অপারেটরদের যৌথ আন্দোলনে অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের পূর্ণ সমর্থন
ওয়েটুবরাক, ১৮ আগস্ট: স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে অসমের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাব চালকদের পাশাপাশি নির্মাণ শ্রমিকদেরও ‘অচেনা’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা অযাচিত ও অদূরদর্শী বলে অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, সমগ্র দেশজুড়ে অভিবাসী শ্রমিকরা আজ আক্রান্ত। অসমেও দিন দিন বাড়ছে রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কাজ করতে যাওয়া অভিবাসী শ্রমিকদের উপর হামলার ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রীর পৃষ্ঠপোষকতাতেই এই হামলাগুলো সংঘটিত হচ্ছে, যা তিনি গর্বিতভাবে নিজেই ঘোষণা করেছেন। এবার হামলার লক্ষ্যে রয়েছেন পরিবহন ও নির্মাণ শ্রমিকরা।
তাদের কথায়, সরকারি নীতি ও প্রশাসনিক স্তরে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে প্রতিটি ঘটনায় অভিযুক্তের কাঠগড়ায় শ্রমজীবীদের একটি বিশেষ পরিচিতিকে তোলার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, যেখানে তথ্য-প্রমাণের দিকে তাকানো হচ্ছে না। সমাজে শুধু ধর্মীয় ঘৃণা ছড়ানোই নয়, শারীরিকভাবেও শ্রমজীবীদের প্রতি নির্যাতন নামিয়ে আনা হয়েছে। তাদের উপর প্রয়োগ করা হয়েছে বর্ণবাদী রাজনীতির চূড়ান্ত ও সর্বশেষ অস্ত্র।
ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, বৈষম্য, শ্রমশোষণ ও মজুরির হ্রাস এবং সাধারণ মানুষের আয়ের সঙ্কোচনের পরিণতিতে সৃষ্ট সামাজিক অস্থিরতাকে পর্দার আড়ালে রাখার লক্ষ্যে শ্রমজীবীদের বিভক্ত করে রাখার এই কৌশলকে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন।
তারা জানায়, নির্মাণ ও পরিবহন শ্রমিকদের জন্য পৃথক শ্রম আইন রয়েছে। সেই আইনগুলোর মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার ও তাদের সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সরকারের কাছে তারা ‘অচেনা’, কারণ সরকার সেই আইনগুলো কার্যকর করতে চায় না। নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ আইনে উল্লিখিত সুযোগ-সুবিধাগুলো একে একে কাটছাঁট করা হয়েছে সরকারি উদ্যোগে। কল্যাণ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য নির্মাণ শ্রমিকদের নিবন্ধন ও তাদের লেবার কার্ড প্রদান অপরিহার্য, কিন্তু সরকারি নিয়মের জটিলতায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের হাত-পা বাঁধা। পরিবহন শ্রমিকদের জন্য প্রকল্প ঘোষণা করা হলেও তা কার্যকর না করে বছরের পর বছর ধরে তা’ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পরিবহন কর্মীদের মধ্যে যারা চালক, তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে, সরকারের কাছে তারা কখনও ‘অচেনা’ হতে পারেন না। কিন্তু, সেই চালকদের জন্যও পরিবহন শ্রম আইন কার্যকর করার কোনো পদক্ষেপ এখনো নেওয়া হয়নি। তাই প্রশ্ন ওঠে, লেবার রেজিস্ট্রেশন, লেবার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি সরকারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সরকার কেন নির্মাণ, পরিবহন, গিগ্ ইত্যাদি ক্ষেত্রের শ্রমিকদের ‘অচেনা’ করে রাখতে চায়? ‘অচেনা’ বলে তাদের চিহ্নিত করার আসল উদ্দেশ্যই হলো এইসব শ্রমিকদের আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে বিভাজনের রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, যা এখন আর কারও বুঝতে বাকি নেই বলেই মন্তব্য করে অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন ।
তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন যে, অবিলম্বে নির্মাণ ও পরিবহন শ্রমিক সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। এই আইনের সাথে সংশ্লিষ্ট কল্যাণ প্রকল্প ও সহজ শ্রমিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন মুখ্যমন্ত্রীর ‘অচেনা’ বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে অসম রাজ্য ক্যাব চালক ও অপারেটর সংস্থার ঘোষিত যৌথ আন্দোলনের কর্মসূচিকে পূর্ণ সমর্থন জানায় এবং একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়।


