Barak UpdatesHappeningsBreaking News

অখণ্ড বাঙালি জাতিসত্তার কথারই অনুরণন মুজতবা আলি সাহিত্য উৎসবের সেমিনারে

ওয়েটুবরাক, ১৪ সেপ্টেম্বরঃ আজীবন অখণ্ড বাঙালি জাতিসত্তার কথা বলে গিয়েছেন সৈয়দ মুজতবা আলী। সে জন্য তাঁকে কম লাঞ্ছনা সইতে হয়নি। কোনও কিছুই তাঁকে তাঁর নিজস্ব দর্শন থেকে টলাতে পারেনি। এই কথাই আজ অনুরণিত হয়েছে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন আয়োজিত মুজতবা আলী সাহিত্য উৎসবের সেমিনারে।
দুদিনের এই উৎসব শনিবার শুরু হয়েছে। আজ রবিবার ছিল সেমিনার ও কবি সম্মেলন। সেমিনারের প্রধান বক্তা আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. দীপেন্দু দাস বলেন, দেশবিভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে গিয়ে বগুড়া কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হলেও তাঁর প্রগতিশীল সমাজতান্ত্রিক মনোভাবের জন্য সেখানে থাকতে পারেননি। পূর্ব পাকিস্তানে উর্দু ভাষা চাপানো অনুচিত হবে বলে বক্তৃতা করলে এবং পরে তা পুস্তিকাকারে প্রকাশিত হলে সে দেশের তৎকালীন সরকার প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়। গ্রেফতারি এড়াতে তিনি ভারতে চলে আসেন। আবার ১৯৬৫ সালে ভারত-পাক যুদ্ধের সময় তাঁকে পাকিস্তানের গুপ্তচর সন্দেহে ভারতে পুলিশি হেনস্তার মুখে পড়তে হয়।
দীপেন্দু মুজতবা আলীর মাতৃভাষার প্রতি অপরিসীম অনুরাগের কথা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মুজতবা বিশ্বাস করতেন, মাতৃভাষাই হচ্ছে শিক্ষার উপযুক্ত বাহন। এই ধারণা থেকেই সিলেটের মুসলিম সাহিত্য সভায় তিনি উর্দু চাপানোর বিরোধিতা করে জোরালো বক্তৃতা করেছিলেন।
সেমিনারের সভাপতি আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক দেবাশিস ভট্টাচার্যের কথায়, তখন এক সঙ্কটের মুহূর্তে মুজতবা অখণ্ড বাঙালি জাতিসত্তার জন্যে আওয়াজ তুলেছিলেন। বলেছিলেন বহুত্ববাদের কথা। আজ আবারও বাঙালিসমাজ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিচয়ে বিভাজিত হয়ে জাতিকে সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সে জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সৈয়দ মুজতবা আলীই হলেন ভরসা, যিনি নানা লাঞ্ছনাতেও নিজের বাঙালি পরিচয়কেই প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা করে গিয়েছেন।
সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের কেন্দ্রীয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক গৌতমপ্রসাদ দত্ত । তিনি বলেন, বাঙালিকে কোণঠাসা করার চক্রান্ত সেদিনও ছিল, আজও রয়েছে। সে সব ব্যাপারে তিনি, বিশেষ করে সমাজের তরুণদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান।


সেমিনারে মোট ২০জন তাঁদের গবেষণামূলক নিবন্ধ জমা দেন এবং মূলকথা পাঠ করে শোনান। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শিলচর উইমেন্স কলেজের রেশ্মিতা ধর, অমিকা দাস, স্মিতা দাস, সানিয়া সদিয়ল, ঝুমা দাস ও সৌরভীরানি দাস, নেহরু কলেজের সম্পা দাস, ইমরানা বেগম মজুমদার ও প্রতিমা দাস, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্যা মোহন্ত, নয়ন দে ও অভীকরঞ্জন দাস, করিমগঞ্জের বরীন্দ্রসদন গার্লস কলেজের প্রজ্ঞা অন্বেষা, শাকিলা আক্তার খান, তাহমিনা বেগম চৌধুরী ও মাধুরী দেব, কাছাড় কলেজের নীলাঞ্জনা নাথ ও সুদীপ্তা চন্দ এবং রাধামাধব কলেজের আদ্রিজা দত্ত। তাঁদের কেউ শিক্ষক কেউবা গবেষক, কিংবা ছাত্র। সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশেবিদেশে’ গ্রন্থের ওপর ইংরেজিতে তাঁর প্রবন্ধ পাঠ করেন সাংবাদিক শঙ্কু শর্মা।


বিকেলে কবিতা পাঠের আসর পরিচালনা করেন দীপায়ন পাল। উপস্থিত ছিলেন সম্মেলনের কেন্দ্রীয় সমিতির সাহিত্য সম্পাদক দীপক সেনগুপ্ত, সাংগঠনিক উপসমিতির আহ্বায়ক অনিল পাল, জেলা সমিতির সহসভাপতি কেএইচ ব্রজেশ্বর সিংহ, শিপ্রা দে, হাসনা আরা শেলী, রফি আহমেদ মজুমদার, দেবদত্ত চক্রবর্তী, জিতেন্দ্র নাথ, আদিমা মজুমদার, গৌতম রুদ্রপাল, লুৎফা আরা চৌধুরী, শংকর চন্দ্র নাথ, অভিজিৎ পাল, দেবরাজ দাশগুপ্ত প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker