Barak UpdatesHappeningsBreaking News

ভাঙা সড়কে খুঁটি গেড়ে ছবি সহ তোরণ নির্মাণ করার জন্যও লোক রাখা হয়, লিখেছেন অধ্যাপক দিলীপকুমার দে

//দিলীপকুমার দে//

(অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, শিলচর)

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পূর্বে দেশে দেশে রাজতন্ত্র ছিল। রাজারা সর্বোচ্চ শাসক ছিলেন। তাঁরা একদল ‘কবি’, ‘লেখক’, নাট্যকার, ‘পণ্ডিত’, ‘ সঙ্গীতজ্ঞ’ পুষে রাখতেন যারা শাসকের প্রশস্তি রচনা করে চলতেন। মিশরের ফারাও (সম্রাট) নিজেরা ঈশ্বরের প্রতিরূপ বলে পুজো ও অর্থ গ্রহণ করতেন। তৎকালীন পণ্ডিতরা তাদের সহায়তা করতেন। কবিতা, নাটক, গান, তন্ত্র-মন্ত্র রচনা করতেন রাজানুগ্রহের বিনিময়ে। আমাদের দেশের পণ্ডিতরাও লিখেছেন বহু স্তোকবাক্য। ‘রাজ্যেশ্বর বা জগদীশ্বর বা’ এমন একটি উদাহরণ। সামন্ত যুগ ম্রিয়মান।

 এখন পুঁজিবাদী ব্যবস্থা রক্ষায় শাসকরাও সেই আচরণ অনুসরণ করে চলছেন। অর্থমূল্যে কেবল পণ্ডিত/বিদ্বজ্জন নয়, টেলিভিশন, সংবাদপত্র, নানা ‘সভা’, প্রতিষ্ঠান, আলোচনা চক্র / সেমিনার ইত্যাদিকে শাসকদের সদা প্রশংসায় উজ্জ্বল করতে নিয়োগ করা হয়। এদের মধ্যে কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয়ের ‘গুণীজনরা’ও আছেন।

  কেবল পণ্ডিত নয় – অশিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত লোকদের মোটর সাইকেল, অন্যান্য যানবাহন যোগে সড়কপথে জয়ধ্বনি দিয়ে বিমানবন্দর থেকে নেতাকে স্বাগত জানানোর কাজ দেওয়া হয়। অনেক লোককে দিয়ে ভাঙা সড়কের মধ্যে খুঁটি গেড়ে ছবি সহ তোরণ নির্মাণ করানো হয়। ‘যুগ যুগ জিও’, ‘…… জি কি জয়’ ইত্যাদি ধ্বনি দিতেও খরচ করা হয়।

কিন্তু সত্যি কথাটা হলো, যুগ যুগ কেউ বাঁচে না।

 

কিছু ‘পণ্ডিত’কে পুরস্কার, প্রশস্তিপত্র ইত্যাদি দিয়ে খুশি করা হয়। কেউ বা মন্ত্রীর সাথে ফটোসেসন করলেই খুশি। আগে ‘বয়স্য’ পুষতে হত। এখনও হয়।এখন অনেক শিক্ষিতরাও বয়স্যের অফার পেলে বর্তে যান। বিশ্বাস করার, নির্ভর করার, সম্মান করার লোক কমে যাচ্ছে।

এখন সৎ শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের নানাভাবে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে আর গরীব, খেটেখাওয়া সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কৌশলে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। তাঁদের ডাকে এখন মানুষ খুব কম সাড়া দেয়।

দায়ী কে? আসুন আমরা নিজেদের প্রশ্ন করি, উত্তর খুঁজি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker