Barak UpdatesHappeningsBreaking News
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশান্তর মন্তব্য ষড়যন্ত্রের অংশ, আকসা প্রাক্তনীদের আশঙ্কা

ওয়েটুবরাক, ২৭ মে : অসম চুক্তির ফলে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছে, বাংলা সাহিত্য সভার কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত চক্রবর্তীর এমন মন্তব্যকে মুখ ফসকে বলে ফেলা বা ওয়েবসাইটের ডিসক্লেইমার না দেখেই উচ্চারণ করা বলে মনে করেন না আকসা প্রাক্তনীরা। এর মধ্যে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেই আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার শিলচরে সাংবাদিক সম্মেলন আহ্বান করে প্রশান্ত চক্রবর্তীর ওই মন্তব্য নিয়ে নিজেদের মতামত জানান হাইলাকান্দি এস এস কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিলালউদ্দিন লস্কর, শিলচর পুরসভার প্রাক্তন সভাপতি শান্তনু দাশ, সঞ্জীব রায়, গীতেশ পাল, প্রমোদ শ্রীবাস্তব, মারক (ওরফে মানিক) বড়লস্কর। তাঁরা সবাই এককালের ডাকসাইটে নেতা, এখনও অবশ্য সক্রিয় রয়েছেন কয়েকজন।
সঞ্জীব রায় বলেন, মাইক্রোফোন প্রশান্ত চক্রবর্তীর কাছে ছিল বটে, রিমোট কন্ট্রোল ছিল অন্য কারও কাছে। তাঁর অভিযোগ, আসাম বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত করার চক্রান্তে জেনেবুঝে ওই মন্তব্য করেছেন কটনের অধ্যাপক। তাই প্রশান্তকে বরাকবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে বললেন আকসা প্রাক্তনীরা। তাঁকে অধ্যাপক পদ থেকে অপসারণেরও দাবি করেন তাঁরা।
প্রমোদ শ্রীবাস্তব বলেন, সম্প্রীতির কথা বলতে এসে বরাকবাসীর পিঠে ছুরি বসিয়ে গেলেন প্রশান্ত চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আসাম আন্দোলনের ফসল হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বরং আসাম আন্দোলনকারী আসুর উগ্রতার বিরুদ্ধে বরাক উপত্যকায় কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি উঠেছিল। গীতেশ পাল শোনান, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চরম বিরোধিতা হয়েছিল।

একসময়ের অগপ নেতা শান্তনু দাশ জানান, “অসম চুক্তিটাই তো আমাদের বিরুদ্ধে। ওই চুক্তিতে বরাকের কিছুই নেই। ফলে প্রশান্তর মন্তব্য একেবারে ভিত্তিহীন।”
হিলালউদ্দিন লস্কর জানান, ১৯৮৩ সালে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতেই আকসা গঠিত হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের প্রায় সকলেই জীবিত রয়েছেন। এই অবস্থাতেই আন্দোলনকে অস্বীকার করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা শুরু হয়েছে।
তাঁর কথায়, “কেউ উপহার দেয়নি এই বিশ্ববিদ্যালয়, আমরা লড়ে আদায় করেছি।” তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষ ইতিহাস রচনা ও প্রকাশের দাবি জানান।
তিনি বাংলা সাহিত্য সভার সমালোচনা করে বলেন, “হঠাৎ যাঁরা সংগঠন গড়ে তুলে আত্মমর্যাদা ভুলে সম্প্রীতির কথা বলছেন, তাঁরা আমাদের প্রতিনিধি নন।” আত্মমর্যাদা ভুলে সম্প্রীতি চাই না বলেও তিনি খোলামেলা মন্তব্য করেন। হিলালউদ্দিন বাংলা সাহিত্য সভার কর্মকর্তাদের প্রশান্তের সঙ্গ ত্যাগ করতে পরামর্শ দেন।



