Barak UpdatesHappeningsBreaking News
গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্ট: প্রস্তাবিত গণশুনানি বাতিলের দাবি

ওয়েটুবরাক, ১৬ জুন: ডলু চা-বাগানে প্রস্তাবিত এয়ারপোর্ট নির্মাণের জন্য যে পরিবেশ সমীক্ষা করা হয়েছে, এর রিপোর্টে অসংখ্য অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মৃণাল কান্তি সোম, অরিন্দম দেব, মানস দাস। তাঁদের বক্তব্য, এতে আইন ও আদালতের আদেশ উল্লঙ্ঘন করা হয়েছে । এ ছাড়া, পরিবেশ রিপোর্টের অঙ্গ হিসাবে বাধ্যতামূলক গণশুনানি করতে হয়। এই গণশুনানি করতে হয় প্রত্যক্ষভাবে ভুক্তভোগী জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য। ‘পরিবেশ অনুমতির’ আইনি সংজ্ঞা অনুযায়ী পরিবেশ অডিটের সাথে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সামাজিক অডিটও। চা-শ্রমিকদের জীবনজীবিকার উপর এবং অঞ্চলের জনসাধারণের উপর যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে ও পড়বে তার রিপোর্টও তাতে সন্নিবিষ্ট করতে হবে বলে দাবি করেন তাঁরা। বলেন, জমি অধিগ্রহণের ফলে ডলু চা-বাগানের ফসল এলাকা সাংঘাতিকভাবে কমে যাওয়ার জন্য শ্রমিকরা কাজ হারিয়েছেন এবং তাদের জীবনজীবিকার উপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। সেই বিষয়টি পরিবেশ অডিট এড়িয়ে গেছে এবং তাকে ধামাচাপা দিতে পরিবেশ সংক্রান্ত গণশুনানি নোটিফিকেশন আইন, ২০০৬ এবং এই সম্পর্কিত উচ্চ-আদালতের বিভিন্ন রায় ও আদেশকে উল্লঙ্ঘন করে আগামী মাত্র ৯ দিন আগে অর্থাৎ ১৪ জুন স্থানীয় পত্রিকা মারফত স্থান পরিবর্তন করে হাতিছড়ায় গণশুনানি করার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। তা স্পষ্টতই গণশুনানির বিধি উল্লঙ্ঘন করে বলেও জানান তাঁরা।
এই গণশুনানির ঘোষণা বাতিল করার দাবিতে বিস্তৃত আইনি বিধান ও আদালতের রায় উল্লেখ করে অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন ও ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি এবং নিউ ট্রেড ইউনিয়ন ইনিশিয়েটিভ পৃথক পৃথকভাবে পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং কাছাড় জেলা আয়ুক্তের কাছে অভিযোগ প্রেরণ করেছে। তাঁরা বলেন, এই গণশুনানির ঘোষণা ৩০ দিনের আগে দেওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম লঙ্ঘন ও নির্দিষ্ট দিনের মাত্র ৯দিন আগে স্থান পরিবর্তনের ঘোষণার অবৈধ পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। এছাড়াও চা-শ্রমিকদের মতো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের ক্ষেত্রে গণশুনানির পর্যাপ্ত প্রচারের বিধান মানা হয়নি। প্রস্তাবিত এয়ারপোর্টে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ডলু টি এস্টেটের ময়নাগড়, লালবাগ ও ডলু ডিভিশনের শ্রমিকরা। যেখানে প্রস্তাবিত এয়ারপোর্টের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে সেই অঞ্চলে গণশুনানির স্থান নির্ধারণ না করে দূরে হাতিছড়া টি এসেস্টে স্থানান্তরণ ও গণশুনানির নোটিফিকেশন জারি করার ক্ষেত্রে নিয়ম উল্লঙ্ঘন করা হয়েছে, অভিযোগ তাঁদের। সেইসঙ্গে গণশুনানির ব্যাপক প্রচার না করা উদ্দেশ্য-প্রণোদিত বলেও সংস্থাগুলো মত পোষণ করে। তাই, প্রস্তাবিত এই গণশুনানি বাতিল করার দাবি জানিয়ে ইমেইলের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকপত্র পেশ করা হয়েছে।



