India & World UpdatesHappeningsBreaking News
ঋত-সম্মানে বিধ্বস্ত তৃণমূল

ওয়েটুবরাক, ৩ জুন: আঘাতের পর আঘাতে বিধ্বস্ত তৃণমূল কংগ্রেস এবং তার সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজপাট থেকে বিতাড়িত হতেই সমস্যা আর সঙ্কট ঘিরে ধরেছে এককালের দাপুটে নেত্রীকে। শুধু কি আর সদ্য শাসকের তকমা পাওয়া বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই! নিজের হাতে গড়া দলের ভেতরে আজ তাঁকে কোণঠাসা করার ষড়যন্ত্র করে সাফল্য পেয়ে গিয়েছে বামপন্থী ঘরানায় বেড়ে ওঠা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলনেত্রীর কাছ থেকে ৫৭জন বিধায়ককে ছিনিয়ে এনে বিরোধী দলনেতার পদ বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি।
জাল সইয়ের অভিযোগে এতদিনের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে শরবিদ্ধ করে ঋতব্রত স্পিকারকে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁকে সহ ৫৮ জন এখনই প্রয়োজনে তাঁর সামনে হাজির হতে পারেন। শহরের বাইরে রয়েছেন আরও ২ জন। ফলে এই সময়ে ঋতব্রতের তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৬০।
তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে দলবিরোধী কাজকর্মের অভিযোগে বহিষ্কার করলেও বিধায়ক শক্তির নিরিখে
স্পিকার তাঁকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বাগে পেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শিক্ষা দিতে এ দিনই তিনি বিরোধী দলনেতার অফিসঘরের চাবি তুলে দেন প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ তথা বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রতের হাতে।
কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটের মতো বিরোধী দলনেতা হয়েই ঋতব্রত বলেন, তাঁরা এখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিই অনুগত। বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করতেই তাঁরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
তাঁর কথায়, “এটা হাস্যকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে টিএমসি এখনও বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করতে পারেনি। তাই দলকে বাঁচাতে আমরা এগিয়ে এসেছি।”
তাঁদের এই পদক্ষেপে অনুমোদন জানাতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানান।
ঋতব্রত ঘোষণা করেন, রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখেরুজ্জামান তাঁদের মুখ্য সচেতক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ঋতব্রতের বিধায়ক টানাটানির মধ্যেই এ দিন শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী ১৫ জুন হাজিরার নোটিস পাঠিয়েছে।
সেইসঙ্গে আরও এক বড় ধাক্কা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ফিরহাদ হাকিম আজ কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী মন্তব্য করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন “নিজের কৃতকর্মের ফল ভোগ করছেন।” তিনি ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসে ভাঙনের ঘটনার সঙ্গে বর্তমান টিএমসির সংকটের তুলনা টানেন। অধীর রঞ্জন হতাশ তৃণমূলের কর্মীদের কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আদর্শের ভিত্তিতে যারা টিএমসির জন্য কাজ করেছেন এবং রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কংগ্রেস তাদের জন্য দরজা খোলা রেখেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য আজকের নাটকীয় বিদ্রোহের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষমতার সংঘাতের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে দলের সমস্ত কমিটি ও শাখা সংগঠন ভেঙে দিয়েছেন। নতুন সংসার হলেও ঋতব্রত শিবিরও ঘর গোছানোর জন্য সময়ব্যয়ে রাজি নয়। আজই মুখ্য সচেতকের সঙ্গে চারজন উপনেতা মনোনয়নও সেরে নেয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঋতব্রতের সঙ্গে বহিষ্কৃত সন্দীপন সাহা, জাভেদ আহমেদ খান, শিউলি সাহা ও সাবিনা ইয়াসমিন।
এতদিন ধরে যে দলটিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিত্ব ও কর্তৃত্বের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য বলে মনে করা হতো, আজকের ঘটনাবলি সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছে। এর ফলে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ও অনিশ্চিত অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মমতা ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষ অবশ্য একে মারাত্মক সংকট বলতে নারাজ। ঋতব্রতের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ফিরহাদের ইস্তফাকেও সাময়িক বলেই উল্লেখ করেন। কুণাল জানান, বিজেপি সরকারের সঙ্গে তাঁর কাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে ফিরহাদ আগেই ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন। মমতা তাঁকে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। আজ ফিরহাদ একই প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে দলনেত্রীর অনুমোদন পেয়ে যান।



