Barak UpdatesHappeningsBreaking News

অভিজিত ছাড়াও রাজদীপকে লড়তে হচ্ছে গুপ্তশক্তির বিরুদ্ধে !

//উত্তমকুমার সাহা//

শিলচর, ২৪ মার্চ : ১৯৯৮ সালে এনএসইউআইয়ে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেছিলেন অভিজিত পাল। কাছাড় জেলা যুব কংগ্রেসে দীর্ঘ পাঁচবছর নেতৃত্ব দেওয়ার পর ২০১৬ সালে জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন। সাত বছরের মধ্যেই উঠে আসেন জেলা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বে, হন সভাপতি ।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অভিজিত পালের নেতৃত্বে কাছাড় জেলা কংগ্রেস জয়ের মুখ দেখতে না পারলেও পঞ্চায়েত নির্বাচনে মোটামুটি ভালো ফল করে। শিলচরে একটিই জেলা পরিষদ আসন, সেটিতে জয়ী হয় কংগ্রেস। সুস্মিতা দেবের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেস বরাকের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারেনি। বিভিন্ন ইস্যুতে ক্ষোভ-বিক্ষোভ সত্ত্বেও দলীয় কর্মীদের ধরে রাখার অনেকটা কৃতিত্ব অভিজিত পালেরই।

শিলচরের সরকারি কাজকর্ম নিয়ে যেখানে অভিযোগ পেয়েছেন, সেখানে ছুটে গিয়ে একসময় চাপে ফেলে দিয়েছিলেন বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তীকে। তবে দ্রুতই সেই স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন করেন অভিজিত। এ নিয়ে সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্কও সঙ্গী হয় তাঁর। সব মিলিয়ে বারবার খবরের শিরোনামে উঠে আসেন তিনি।

এ দিকে, ২০১১ সালে শিলচর বিধানসভা আসনে হেরে গেলেও ২০১৯ সালে শিলচর লোকসভা আসন থেকে জিতে সাংসদ হন ডা. রাজদীপ রায়। সংসদে নানা বিতর্কে অংশ নিয়ে সকলের নজর কাড়েন তিনি। কিন্তু ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে শিলচর আসন তফসিলি জাতি সংরক্ষিত হলে আর প্রতিদ্বন্ধিতা করতে পারেননি। শেষপর্যন্ত প্রাক্তন তকমা জুটে যায় তাঁর নামের আগে। তার পরেই ত্রিপুরার সাংগঠনিক কাজে জড়ান। দল তাঁকে পার্শ্ববর্তী রাজ্যে প্রভারি নিযুক্ত করে। সেই সুবাদে দিল্লির উর্ধ্বতন মহলে জায়গা করে নেন তিনি। এবার শিলচর বিধানসভা আসনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন রাজদীপ রায়। ফলে বর্তমান বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তীকে বসিয়ে দেয় বিজেপি।

 

কিন্তু টিকিট পেতেই টেন্ট হাউস মালিকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া না মেটানো নিয়ে হইচই শুরু হয়ে যায়। অন্যদিকে, তিনি একে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে অভিজিত পালের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগেই শুরু হয়েছে তাঁর অন্য লড়াই। শুধু বকেয়া বললে চিন্তার কিছু ছিল না, কিন্তু “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলায় অনুমান করা যায় যে, তাঁকে অভিজিত পাল ছাড়াও এক গুপ্তশক্তির বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে।

 

গত পঞ্চাশ বছরের হিসেব টানলে শিলচর আসনে রাজদীপের পিতা বিমলাংশু রায় (১৯৯৬ ও ২০০১) এবং দিলীপকুমার পাল (২০১৪ উপনির্বাচন ও ২০১৬) ছাড়া কেউ দ্বিতীয়বার বিধায়ক হতে পারেননি। উপনির্বাচন সহ ১১ বারের ভোটে কংগ্রেস জেতে চারবার। বিজেপি ছয়বার। ১৯৭৮ সালে সিপিএমের নুরুল হুদা কবীন্দ্র পুরকায়স্থকে পরাস্ত করে বিধায়ক হয়েছিলেন। শিলচরের অন্য বিধায়করা হলেন জগদীশ চন্দ্র চৌধুরী (কংগ্রেস ১৯৮৩), কর্ণেন্দু ভট্টাচার্য (কংগ্রেস ১৯৮৫), সমরেন্দ্র নাথ সেন (বিজেপি ১৯৯১), বীথিকা দেব (কংগ্রেস ২০০৬) এবং সুস্মিতা দেব (কংগ্রেস ২০১১)।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker