Barak UpdatesHappeningsBreaking News
পুজো মণ্ডপে মাতৃপিতৃ পূজন, সাড়া ফেলেছে শিলচরে

ওয়েটুবরাক, ১৮ অক্টোবর: মাতৃপিতৃ পূজনের বিশেষ কার্যক্রম শিলচর শহর জুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রবিবার মহাসপ্তমীর অধিক পূজার পরে বেলা সাড়ে বারোটায় মা-বাবাকে (দুইজনকে বা যে কোনও একজনকে) সঙ্গে নিয়ে সন্তানদের উপস্থিত থাকার জন্য আয়োজক সংস্কৃতি চেতনা ন্যাসের কর্মকর্তারা বলেছিলেন। কিন্তু বহু সংখ্যক সন্তান এই কর্মসূচির জন্য এত উদগ্রীব হয়ে ওঠেন, তাঁরা এগারোটা থেকেই নাম লেখাতে শুরু করেন। নির্ধারিত সময়ে শুরু হয় এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান।
শিলচর শহরে এর আগে দুয়েকটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনুষ্ঠানের রেওয়াজ থাকলেও দুর্গোৎসবে এই প্রথম কেউ মাতৃপিতৃ পূজনের কর্মসূচি হাতে নিল। একযোগে শতাধিক মাতাপিতা চেয়ারে বসলেন, ছেলেমেয়েরা বসলেন মাদুরে। হাতে হাতে পুজোর থালা।
প্রথমে কপালে চন্দনের তিলক দিয়ে, গলায় পরিয়ে দেওয়া হয় রজনীগন্ধার মালা। প্রদীপ জ্বালিয়ে মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গে আরতি করা হয় পিতামাতাকে। পরে একযোগে সবাই মাতাপিতাকে বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠানোর অঙ্গীকার করেন। মা-বাবার পা ধুয়ে দিয়ে তারা একেকজন সৎ মানুষ হয়ে ওঠার আশীর্বাদ চান। পিতামাতারা সেই মুহূর্তে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। অনেকে আনন্দে কাঁদতে থাকেন। দর্শনার্থীদের যাদের মা-বাবা নেই বা কোনও কারণে আনতে পারেননি, ওই সময়ে তাঁরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। মা-বাবার আশীর্বাদের পর মিষ্টিমুখ ও প্রসাদ গ্রহণ।
মাতৃপিতৃ পূজনের যাবতীয় সামগ্রী সংস্কৃতি চেতনা ন্যাসের পক্ষ থেকেই আয়োজন করা হয়। আগামীকাল একই জায়গায় হবে শত কুমারীর পুজো। এরও যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন বলে জানিয়েছেন পুজো কমিটির সভাপতি, গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় ও সম্পাদক শংকর কুমার দাস।
কুমারীপূজা এই অঞ্চলে নতুন না হলেও শত কুমারীর পুজো এই প্রথম অনুষ্ঠিত হবে। তাই শহরবাসীর মধ্যে আগামীকালের আয়োজন ঘিরেও ব্যাপক চর্চা রয়েছে।



