India & World UpdatesHappeningsBreaking News
ভুয়ো ডাক্তার গ্রেফতার, দুবাই থেকে ফিরেই ধরা দিল্লি বিমানবন্দরে

ওয়েটুবরাক, ৮ অক্টোবর: চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে গত সেপ্টেম্বর মাসে বর্ধমানে মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই পুলিশের খাতায় পলাতক ছিলেন সৈদুল হক। মঙ্গলবার দুবাই থেকে ভারতে ফেরার পর দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে কর্মরত ছিলেন সৈদুল। সেখানে এক রোগীর মৃত্যুর পর তাঁর বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ওঠে এবং পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়। এরপর থেকেই তাঁর খোঁজ শুরু করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, তিনি দেশ ছেড়ে দুবাই চলে গিয়েছেন।
তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করা হয়েছিল। দেশে ফেরার খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অভিবাসন দফতরকে সতর্ক করে। পরে সেই তথ্য দিল্লি পুলিশকেও জানানো হয়। মঙ্গলবার দুবাই থেকে বিমানে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর সেখানেই অপেক্ষারত পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। অভিযোগ, চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার জন্য সৈদুল যে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ও লাইসেন্স ব্যবহার করেছিলেন, সেগুলি ভুয়ো। এমনকি বিহার থেকে পাওয়া বলে তিনি যে মেডিক্যাল লাইসেন্স দেখিয়েছিলেন, সেটিও জাল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।
এরপর প্রশ্ন উঠেছে, বৈধ চিকিৎসা-যোগ্যতা বা রেজিস্ট্রেশন না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি বর্ধমানের ওই বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছিলেন। পুলিশ তাঁর ব্যবহৃত নথিপত্র, নার্সিংহোমে নিয়োগের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে।
দিল্লিতে গ্রেফতারের পর গভীর রাতে বিমানে সৈদুলকে কলকাতায় আনা হয়। সেখান থেকে তাঁকে বর্ধমানে নিয়ে গিয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাঁর হেফাজত চেয়েছে।
তদন্তকারীরা তাঁর কাছে ব্যবহৃত ভুয়ো চিকিৎসা-শংসাপত্র ও লাইসেন্সের উৎস, দেশ ছাড়ার পর তাঁর গতিবিধি এবং যে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মামলা, সেই রোগীর চিকিৎসায় তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইছেন। পাশাপাশি, নার্সিংহোমে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে কেউ তাঁকে সহযোগিতা করেছিলেন কি না, কিংবা জাল নথি ব্যবহার করে চিকিৎসা করার সুযোগ করে দেওয়ার পিছনে অন্য কারও ভূমিকা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, ব্যবহৃত শংসাপত্র ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একই সঙ্গে রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় সত্যিই চিকিৎসায় গাফিলতি হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


