Barak UpdatesHappeningsBreaking News
বাউলাবস্তির সাঁওতাল টিলায় পাঁচ দিনব্যাপী গ্রীষ্মকালীন শিবিরের সমাপ্তি

ওয়েটুবরাক, ৪ আগস্ট: বড়খলা বিধানসভার অন্তর্গত বাউলাবস্তি এলাকার সাঁওতাল টিলায় স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অঙ্কন ও হস্তশিল্প প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী গ্রীষ্মকালীন শিবিরের সফল সমাপ্তি ঘটে। গত ২৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই শিবিরের আয়োজন করে রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সোসাইটি পরিচালিত শ্রীমা সারদা কোচিং সেন্টার (অবৈতনিক পাঠদান কেন্দ্র), সহযোগিতায় ছিল আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলা বিভাগের প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘মাটি’।
শিবিরে ‘মাটি’ সংস্থার সদস্যরা ছাত্র-ছাত্রীদের অঙ্কন, হস্তশিল্প, গান, আবৃত্তি, নাটক, স্থানীয় ঝুমুর নৃত্য, সাঁওতাল নৃত্য ও আধুনিক নৃত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। গত রবিবার সমাপনী অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীরা শিলচর থেকে আগত বিশিষ্ট অতিথি এবং স্থানীয় জনগণের সামনে তাদের অর্জিত দক্ষতা ও প্রতিভার মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা করে।
সেসব দেখে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিলচরের মদনমোহন আখড়া পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি শিবব্রত দত্ত বলেন, এটি একটি ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। শিশুদের সৃজনশীল ও মানসিক বিকাশে এ ধরনের কর্মশালার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে এই পাঠদান কেন্দ্রের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে মদনমোহন আখড়া পরিচালন সমিতির পক্ষ থেকে ব্যাপক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এর আগে স্বাগত ভাষণে রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সোসাইটির সম্পাদক সুপ্রদীপ দত্তরায় বলেন, এই শিবিরের উদ্দেশ্য ছিল শুধু গ্রীষ্মকালীন ছুটিকে আনন্দময় করে তোলা নয়; বরং শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস, সহমর্মিতা, দলগত চেতনা, দেশাত্মবোধ এবং নৈতিক মূল্যবোধের বীজ রোপণ করা। তিনি বলেন, “শিক্ষা মানে শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়; শিক্ষা হলো চরিত্র গঠন, মনুষ্যত্বের বিকাশ এবং নিজের অন্তর্নিহিত শক্তির প্রকাশ।” স্বামী বিবেকানন্দের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা হলো মানুষের মধ্যে যে পূর্ণতা প্রথম থেকেই বিদ্যমান, তারই প্রকাশ।” এই আদর্শকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের আঁকা ছবি ও নির্মিত হস্তশিল্প প্রদর্শন করে। পাশাপাশি গান, আবৃত্তি, নাটক, স্থানীয় নৃত্য এবং আধুনিক নৃত্যের পরিবেশনার মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে ‘মাটি’ সংস্থার প্রত্যেক সদস্যকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া শিবিরে অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্র-ছাত্রীকে রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সোসাইটি ও ‘মাটি’ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে অংশগ্রহণের শংসাপত্র প্রদান করা হয়।

শিবিরে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, ‘মাটি’ সংস্থার সদস্য অমিতাভ দেব, মৃন্ময় ধর, অরিজিৎ বণিক, গৌতম দাস, বিশু দেব ও স্নিগ্ধ পাল।
উল্লেখ্য, সমাপনী অনুষ্ঠানে মদনমোহন আখড়া পরিচালন সমিতির পক্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিকেলের জলযোগের ব্যবস্থা করা হয়।
রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সোসাইটির সহ-সভাপতি শ্যামল রায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনে সহযোগিতাকারী সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মদনমোহন আখড়া পরিচালন সমিতির দেবব্রত চৌধুরী, কমলেশ চক্রবর্তী ও অমিতাভ দাস; বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কাছাড় জেলা সমিতির কোষাধ্যক্ষ বকুল চন্দ্র নাথ, শিলচর আঞ্চলিক সমিতির সম্পাদক সুশান্ত সেন ও সহ-সম্পাদক রঞ্জিত চৌধুরী।
রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সোসাইটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন যাদব সাহা, অপু রঞ্জন দেব, বিশ্বরাজ চক্রবর্তী, রাজর্ষি দাম-সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

