India & World UpdatesHappeningsBreaking News
শুনানি শেষে তিন মাসের মধ্যে দিতে হবে রায়, হাইকোর্টগুলিকে সুপ্রিম নির্দেশ
ওয়েটুবরাক, ৩০ মে: শুনানি শেষ হলেও মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর রায় সংরক্ষিত রেখে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এবার সেই সমস্যায় রাশ টানতে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল দেশের শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শুনানি শেষ হওয়ার পর আর অনির্দিষ্টকালের জন্য রায় আটকে রাখা যাবে না। হাইকোর্ট বা নিম্ন আদালতগুলিতে মামলা শেষের পর সংরক্ষিত রায় ঘোষণা এবং তা ওয়েবসাইটে আপলোড করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ও একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে সর্বোচ্চ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় সংরক্ষিত করার পর, সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে সেই রায় ঘোষণা করতে হবে। সাধারণ নিয়মেই এই তিন মাসের মধ্যে রায় দিয়ে দেওয়াটা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু কোনও কারণে যদি তিন মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও রায় ঘোষণা না হয়, তবে সংশ্লিষ্ট আদালতের রেজিস্টার জেনারেলকে বিষয়টি অতি অবশ্যই সেই রাজ্যের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নজরে আনতে হবে।
এরপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতি রায় ঘোষণার জন্য বড়জোর আরও দুই সপ্তাহ বা ১৪ দিনের অতিরিক্ত সময় দিতে পারেন। কিন্তু সেই বর্ধিত সময়ের মধ্যেও যদি রায় দিতে ব্যর্থ হয় সংশ্লিষ্ট আদালত, তবে সেই মামলাটি অন্য কোনও বেঞ্চ বা বিচারপতির কাছে স্থানান্তরিত করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, নতুন করে সেই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
অনেক সময় দেখা যায়, আদালত কক্ষে বিচারপতিরা রায়ের মূল কার্যকর অংশটি মুখে ঘোষণা করে দেন, কিন্তু বিস্তারিত রায়ের কপি পেতে লিটিগ্যান্ট বা মামলাকারীদের কালঘাম ছুটে যায়। এই সমস্যার সমাধানেও কড়া অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যদি আদালতের এজলাসে শুধুমাত্র রায়ের মূল অংশটুকু ঘোষণা করা হয়, তবে তার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে রায়ের বিস্তারিত কারণ ও ব্যাখ্যা সহ সম্পূর্ণ কপি সংশ্লিষ্ট আদালতের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে।
যদি ১৫ দিনের মধ্যে বিস্তারিত রায় আপলোড না করা হয়, তবে ভুক্তভোগী পক্ষ বা মামলাকারীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আবেদন জানাতে পারবেন। আর এই দেরি যদি ৩০ দিন বা এক মাস পার করে যায়, তবে মামলাকারীরা পুরো বিষয়টি নতুন করে বিবেচনার জন্য অন্য কোনও বেঞ্চে স্থানান্তরিত করার আবেদন জানানোর আইনি অধিকার পাবেন।
বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে সুপ্রিম কোর্ট আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। এবার থেকে প্রতিটি হাইকোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে যে, ঠিক কোন তারিখে সংশ্লিষ্ট মামলার রায়টি সংরক্ষিত করা হয়েছে। সমস্ত হাইকোর্টের রেজিস্টার জেনারেলদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন এই নির্দেশিকাগুলি অবিলম্বে নিজ নিজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের সামনে পেশ করেন এবং দ্রুত তা কার্যকর করার ব্যবস্থা করেন।

