NE UpdatesHappeningsBreaking News
১০৮ অ্যাম্বুলেন্স চালকদের বরখাস্তের আদেশে ক্ষোভ, সরকারকে শর্তহীনভাবে আলোচনায় বসার দাবি

ওয়েটুবরাক, ৫ ডিসেম্বর: অসমে ১০৮ জরুরি স্বাস্থ্য ও রোগী পরিবহণ পরিষেবার সাথে যুক্ত শ্রমিক-কর্মচারীদেরকে অন্যায়ভাবে জারি করা বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি স্বীকার করে শর্তহীনভাবে আন্দোলনরত সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসার দাবি জানিয়েছে সদৌ অসম যৌথ শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা সংগ্রাম সমিতি। অবিলম্বে এই পরিবহণ শ্রমিকদের যথাযথ মজুরি এবং বকেয়া ওভারটাইম পেমেন্ট প্রদান করে কাজে পুনর্বহাল না করলে ইউনিয়নসমূহের যৌথ মঞ্চ পরিবহণ ধর্মঘটের পথে হাঁটার জন্য বাধ্য হবে বলে শুক্রবার এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাঁদের কথায়, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকারের কাছ থেকে রাজ্যের শ্রমিকদের প্রতি এমন অন্যায় আচরণ প্রত্যাশিত নয়। ১০৮ জরুরি পরিষেবার সঙ্গে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ চুক্তির ভিত্তিতে নিযুক্ত ‘জিভিকে ইএমআরআই’ নামক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংহলের নতুন ড্রাইভার নিয়োগের আহ্বানের পরিণতিতে দেখা গেল দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত চালকদের বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন ভূমিকা অসমের জনগণের প্রতি অবমাননা হিসেবে বিবেচিত হবে।
‘মৃত্যুঞ্জয়’ পরিষেবার শ্রমিক-কর্মচারীরা চাকরি নিয়মিতকরণের ন্যায্য দাবিতে যে আন্দোলন করছে, তাকে সমর্থন জানিয়ে সদৌ অসম যৌথ শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা সংগ্রাম সমিতি সকল পরিবহণ শ্রমিককে এই আন্দোলনে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে প্রেস বিবৃতিতে সদৌ অসম যৌথ শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা সংগ্রাম সমিতির আহ্বায়ক হরকুমার গোস্বামী এবং ফণীধর দাস বলেন, “সম্প্রতি অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংহল ব্যক্তিগত কোম্পানি ‘জিভিকে ইএমআরআই’-কে ১০৮ স্বাস্থ্যসেবায় নিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স চালকের পদে নতুনভাবে নিয়োগ প্রদান করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০০৫ সালে হায়দরাবাদে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিকে অসম সরকার ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে ‘১০৮ মৃত্যুঞ্জয়’ পরিষেবা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিল।
উল্লেখযোগ্য যে, এই জরুরি পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ৯৫% সরকার বহন করে এবং বাকি ৫% ব্যক্তিগত কোম্পানি বিনিয়োগ করে। কোম্পানির জরুরি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ম্যানেজারের বার্ষিক বেতন ৩,৭৫,০০০ টাকা থেকে শুরু হয় এবং প্রোগ্রাম ম্যানেজারের বেতন ৬,০০,০০০ টাকা থেকে শুরু হয়। কিন্তু চালক এবং ইআরও (ইমার্জেন্সি রেসপন্স)-র মাসিক বেতন মাত্র ১৩/১৪ হাজার টাকা এবং অ্যাম্বুলেন্স চালকদের কাজের সময় ১২ ঘন্টা, ইআরও-র ৯ ঘন্টা। অথচ এই চালক ও ইআরও-রাই পরিষেবা প্রদানের মূল ভিত্তি।
শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার মধ্যেই শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের দুষ্কর্ম সীমিত নয়; রোগীর জীবন নিয়েও তারা খেলতে কুণ্ঠাবোধ করে না। প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগও আনেন তাঁরা।
বিবৃতিতে সংগঠনের কর্মকর্তারা বলেন, সরকার এখন বহিরাগত ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠেছে। তাই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আহ্বানের কিছুক্ষণ পরেই দেখা গেল—চলমান অ্যাম্বুলেন্স চালক, ইআরও এবং টেকনিশিয়ানদের প্রতি কোম্পানির কঠোর অবস্থান।
আন্দোলনের অধিকার ইউনিয়নের আছে এবং সরকারের অবহেলাই তাদের অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘটের পথে ঠেলে দিয়েছে—এই মন্তব্য করে যৌথ মঞ্চ শ্রমিকদের বরখাস্তের নির্দেশ প্রত্যাহার করে তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে শর্তহীন আলোচনায় বসার দাবি জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে: “সকলেই জানেন, ন্যূনতম মজুরি আইন অনুযায়ী দক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে নতুন সরকারি বেতন সূচি ঘোষণা হলে বর্তমান মজুরি ১৮ হাজার টাকার কম হবে না। স্বাস্থ্যখাতের মৃত্যুঞ্জয় পরিষেবার উচ্চ দক্ষতার অন্তর্গত এই শ্রমিক ও কর্মচারীদের মাসিক বেতন মাত্র ১৩/১৪ হাজার টাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদুপরি বছরের পর বছর অতিরিক্ত শ্রমঘন্টার ওভারটাইম মজুরি বন্ধ রাখা একটি গুরুতর অন্যায়।”



