Barak UpdatesAnalyticsBreaking News
পরিবেশ বান্ধব পুজোয় জোর কাছাড় প্রশাসনের, জেলার ১৫০০ পুজোকে ১০ হাজার করে অনুদান দেবেন মুখ্যমন্ত্রী

ওয়ে টু বরাক, ৬ সেপ্টেম্বর : “এই বছর কাছাড় জেলায় দুর্গাপূজা শৃঙ্খলা ও ভক্তিভাবের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হোক, কোথাও যেন জননিরাপত্তা বা শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে”— এমনই দৃঢ় বার্তা দিলেন কাছাড়ের জেলা আয়ুক্ত মৃদুল যাদব। শনিবার জেলা প্রশাসনিক ভবনের নবনির্মিত সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি বৈঠকে তিনি পুজো কমিটিগুলির প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।
তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, কোনও পূজা প্যান্ডেল রাস্তায় বা জনসাধারণের পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করে নির্মাণ করা যাবে না এবং প্রতিটি কমিটিকে সংশ্লিষ্ট দফরের অনুমতি সংগ্রহ করতে হবে। মহিলা, শিশু ও প্রবীণদের জন্য আলাদা প্রবেশ ও প্রস্থান পথ নির্ধারণের পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ও অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দেন তিনি। বিসর্জনের দিনগুলোতে ড্রাই ডে ঘোষণা করার কথা জানিয়ে জেলা আয়ুক্ত বলেন, কোনওভাবেই শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না। সেইসঙ্গে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করে পরিবেশবান্ধব উদযাপন নিশ্চিত করতে তিনি পূজা কমিটিগুলিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বৈঠকে জেলার বরিষ্ঠ পুলিশ সুপার নোমাল মাহাত্তা এক বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি পূজা কমিটিগুলিকে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন, তাদের নাম ও মোবাইল নম্বর সহ রেজিস্টার রাখা, প্যান্ডেলে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, আলাদা প্রবেশ ও প্রস্থান পথ নির্ধারণ এবং ব্যাকআপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, জল ও বালু মজুদ রাখা বাধ্যতামূলক বলে জানান তিনি। বরিষ্ঠ পুলিশ সুপার সতর্ক করে বলেন, কোনওভাবেই জোরপূর্বক অনুদান সংগ্রহ করা যাবে না এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার উদ্যোগে কাছাড় জেলার ১,৫০০ পূজা কমিটিকে ১০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে জনসমাগম সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণের ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিলচর পৌর নিগমের নবনিযুক্ত আয়ুক্ত সৃষ্টি সিং পূজা কমিটিগুলিকে আলাদা পার্কিং জোন নির্ধারণের আহ্বান জানান, যাতে যানজট এড়ানো যায়। লোক নির্মাণ সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে পুজোর আগে রাস্তার গর্ত মেরামতির আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিসর্জনঘাটে চিকিৎসক দল, অগ্নিনির্বাপক বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন থাকবে। শিলচর পৌর নিগম আলোকসজ্জা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শ্রমিক নিয়োগের দায়িত্ব পালন করবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত অন্তরা সেন, সদর সার্কল অফিসার অরুণজ্যোতি দাস, সোনাইর সার্কল অফিসার মারিয়া তানিম, সহকারী আয়ুক্ত তথা ভারপ্রাপ্ত উপ সঞ্চালক তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের আঞ্চলিক কার্যালয় দীপা দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুব্রত সেন, ডিএসপি হেমন্ত দাস সহ প্রশাসন ও পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। বৈঠকের শুরুতে অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত অন্তরা সেন গত বছরের কার্যবিবরণী পাঠ করেন এবং অতিথিদের স্বাগত জানান। বৈঠকের শেষে মৃদুল যাদব বলেন, “দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সামাজিক সম্প্রীতিরও প্রতীক। শৃঙ্খলা ও সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা এ বছর কাছাড় জেলায় এক শান্তিপূর্ণ ও জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গোৎসব উপহার দেবো।”


