India & World UpdatesHappeningsBreaking News
হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা: ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি আপাতত নিরাপদ

ওয়েটুবরাক, ১০ জুলাই: হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও ভারতের অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি আপাতত বড় ধরনের ঝুঁকিতে নেই। তবে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিলে এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং সমুদ্রপথে পরিবহন ব্যয়ও বাড়তে পারে বলে মত দিয়েছেন জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের বিশ্লেষক সুমিত রিতোলিয়া।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত মন্তব্যের পর ওই অঞ্চলে নতুন করে গোলাগুলির ঘটনায় বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে রিতোলিয়ার মতে, গত কয়েক বছরে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আমদানির মাধ্যমে উৎসের বৈচিত্র্য তৈরি করায় এই পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের ওপর সীমিত থাকবে।
তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক উত্তেজনার আগেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেলের প্রবাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তবুও গত প্রায় ১০০ দিনে ভারতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিকই ছিল। কারণ, শোধনাগারগুলি বৈচিত্র্যময় আমদানি ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে সরবরাহ বজায় রেখেছে।”
বর্তমানে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির বড় অংশই আসে রাশিয়া থেকে। পাশাপাশি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকেও বিকল্প পরিকাঠামোর মাধ্যমে সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া পশ্চিম আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন গ্রেডের অপরিশোধিত তেলও ভারতের শোধনাগারগুলির কাঁচামালের উৎসকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে।
জুন মাসে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি দৈনিক ৪৯ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছে নতুন রেকর্ড গড়ে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারতীয় শোধনাগারগুলি রাশিয়া থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়।
ওই মাসে রাশিয়া থেকে দৈনিক প্রায় ২৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়, যা ভারতের মোট আমদানির অর্ধেকেরও বেশি। এর ফলে রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান ধরে রাখে।
রিতোলিয়ার মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে সক্ষম তেলবাহী জাহাজগুলির চলাচল অব্যাহত থাকবে। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে মালবাহী জাহাজের ভাড়া ও বিমা ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট দেখা দিলেও ইরানের অপরিশোধিত তেল নিকট ভবিষ্যতে ভারতের জন্য উল্লেখযোগ্য বিকল্প হয়ে উঠবে বলে মনে হচ্ছে না।
তাঁর ভাষায়, “মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নীতির অনিশ্চয়তা, বিধিনিষেধ মেনে চলার ঝুঁকি এবং বাণিজ্যিক বিবেচনার কারণে নিকট ভবিষ্যতে ভারতের অপরিশোধিত তেলের ঝুলিতে ইরানের তেল উল্লেখযোগ্য স্থান পাবে বলে মনে হয় না।”
বরং তাঁর মতে, বাজারের নজর থাকা উচিত এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহের দিকে। কারণ, এই দুই জ্বালানির ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদে বিকল্প উৎস সীমিত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সরবরাহ ও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে এগুলি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, “অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ কমে যেতে পারে, পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে এবং আঞ্চলিক বাজারে আবারও দাম বৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে—যেমনটি গত কয়েক মাসে দেখা গেছে।”
রিতোলিয়ার কথায়, “এই মুহূর্তে ভারতের অপরিশোধিত তেল সরবরাহের মূল বৈশিষ্ট্য হলো বৈচিত্র্য ও স্থিতিস্থাপকতা, সংকট নয়। এখন নজর রাখতে হবে আঞ্চলিক উত্তেজনা কতদিন স্থায়ী হয়, জাহাজ চলাচল ও বিমা ব্যয়ের ওপর তার কী প্রভাব পড়ে এবং এলপিজি ও এলএনজি বাজারে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেয় কি না।”



