Barak UpdatesHappeningsBreaking News
শ্রমকোড: বরাক জুড়ে বিক্ষোভে শামিল অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন

ওয়েটুবরাক, ২৬ নভেম্বর: শ্রমকোড এবং স্থগিত করে রাখা কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আজ ২৬ নভেম্বর দেশব্যাপী প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নিল শ্রমিক ও কৃষক সংগঠনগুলি।
সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন গুয়াহাটি কমিশনার অফিসে ট্রেড ইউনিয়নগুলির যৌথ বিক্ষোভে সামিল হয়েছে। অসমের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভের সাথে সুর মিলিয়ে বরাকের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়েছে। কাছাড়ের জারইলতলাস্থিত ইন্ডিয়ান অয়েল বট্লিং প্লান্ট, ডলু চা-বাগান, কাটিগড়া, করিমগঞ্জের বড়থল ও হাইলাকান্দির লালায় বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়। বিক্ষোভগুলোতে যুক্ত হয়েছেন চা-বাগান, নির্মাণ, পরিবহন, গ্রামীণ, কৃষি ইত্যাদি ক্ষেত্রের শ্রমিকরা। শিলচর রাঙ্গিরখাড়িতেও প্রতীকী বিক্ষোভ ও পথসভার আয়োজন করা হয়। প্রতিটি স্থানেই বিভিন্ন বক্তা শ্রমকোড নিয়ে তাদের বক্তব্য রাখেন এবং শেষে শ্রমকোডের আদেশের প্রতিলিপি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
শিলচরে ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনির পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অরিন্দম দেব বলেন, বিভিন্ন রাজ্যে বিএলওদের আত্মহত্যার খবর চোখে আঙুল দেখিয়ে দেয় যে শ্রমকোডের পরিণতি কী হতে পারে। এই বিএলওরা অধিকাংশ বুদ্ধিজীবী শ্রমিক-শিক্ষক কর্মচারী। তাদের উপর এমন কাজের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে যে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। নভোস্মিতা দাস তার বক্তব্যে বলেন, সরকারি স্কিম-ওয়ার্কারদের শ্রমিকের মর্যাদা দেওয়া হয় না, মাসান্তে মাত্র হাজার দু’য়েক টাকা। এদের সবাই মহিলা শ্রমিক, নাগরিকত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও মহিলা শ্রমজীবীরা সবচাইতে বেশি হেনস্থার শিকার, কারণ বিবাহের পর তাদের বাসস্থান বদলাতে হয়। সরকার তাদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব পালন না করে, শ্রমকোডের মাধ্যমে দাস বানানোর পরিকল্পনা করছে।
অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন ও এনটিইউআই’র পক্ষে মানস দাস বলেন, শ্রমকোড শ্রমিকের দাসত্বের দলিল। শ্রমজীবীদের কাজের অধিকার ও ভোটারের নাগরিকত্বের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি এই বিপর্যয়ের দলিল। আর এই বিপর্যয়ের সুযোগে ভারতীয়দের সস্তা ও দাস শ্রমিকে পরিণত করার তোড়জোড় চলছে। কর্পোরেট পুঁজিপতিদের স্বার্থে সরকারের এই ভূমিকাকে প্রতিহত করতেই হবে।
ছাত্র নেতা শারোয়ার জাহানও এই শ্রমকোড স্বাধীন ভারতে শ্রমিকসংগ্রামে অর্জিত সমস্ত অধিকার খর্ব করছে বলে মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, শ্রমকোড স্বাধীন ভারতে অর্জিত শ্রমিকের সব অধিকার এককোপে ছিনিয়ে নিল।
অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে ফারুক লস্কর এক প্রেসবার্তায় অভিযোগ করেন, শাসকদল বিজেপির প্রভুভক্তি চিনা মডেলের মধ্যে নিহিত। কারণ কর্পোরেট পুঁজিপতিদের আব্দার শ্রমিকদের সস্তায় লুণ্ঠন করতে দিতে হবে, যখন ইচ্ছা তখন ছাঁটাই করতে দিতে হবে। আজ সারা দেশে এরই প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন হয় এবং এর মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের বার্তা দেওয়া হয়েছে।



