Barak UpdatesHappeningsBreaking News
কম্প্যুটার ও বিউটিশিয়ান কোর্সে যাত্রা শুরু পোদ্দার প্রগতি ফাউন্ডেশনের

ওয়েটুবরাক, ১৯ আগস্টঃ উন্নত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আত্মপ্রকাশ ঘটল পোদ্দার প্রগতি ফাউন্ডেশনের। সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড, দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীদের স্বাবলম্বী করে তোলা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি, মূলত এই তিনটি ভাবনাকে সামনে রেখেই গড়ে উঠেছে এই ফাউন্ডেশন। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে ফাউন্ডেশনের প্রধান কর্মকর্তা বিবেক পোদ্দার বলেন, শুরুতে তাঁরা বিউটিশিয়ান ও কম্প্যুটার কোর্সে এই অঞ্চলের একশো ছাত্রছাত্রীকে ভর্তি করিয়েছেন। আরও একশো ছাত্রছাত্রীকে শীঘ্রই এই পেশাদারি কোর্সের সুযোগ দেওয়া হবে।
তিনি ফাউন্ডেশন নিয়ে তাঁর আরও কিছু ভাবনা উপস্থিত সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন। বলেন, শীঘ্রই রামায়ণ ও মহাভারতের ওপর একটি ক্যুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। চার-পাঁচদিন ধরে চলবে এই প্রতিযোগিতা, একশো প্রতিযোগীকে পুরস্কৃত করা হবে। এ ছাড়া, পুজোর প্রতিমা বিসর্জনে ডিজে বাবদ ব্যয় না করে ওই অর্থ সমাজের কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সে জন্যও সচেতনতা গড়ে তুলবে পোদ্দার প্রগতি ফাউন্ডেশন।
বিবেক পোদ্দারের এই প্রয়াসের ভূয়সী প্রশংসা করেন শিলচর রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের স্বামী বৈকুণ্ঠানন্দ মহারাজ, গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায়, আরএসএসের প্রচারক গৌরাঙ্গ রায় ও আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিডিসি ডিরেক্টর ড. বিভাস দেব।
স্বামী বৈকুণ্ঠানন্দ ছাত্রছাত্রীদের আত্মবিশ্বাসী হতে উপদেশ দেন। স্বামী বিবেকানন্দকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ভারতীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে আগলে রেখে আমাদের পাশ্চাত্যের ভালো বিষয়গুলোকে নিতে হবে।
উপাচার্য নিরঞ্জন রায়ের বক্তব্য, স্বাধীনতার পরে এতকাল ধরে ভারতে শিক্ষিতদের ভিড় বাড়লেও তাঁদের কাজে লাগানো যায়নি, শুধু বেকারিই বেড়েছে। এর কারণ পাশ করলেও দক্ষতার বিকাশ ঘটছিল না। তিনি ধর্মের পথে থেকে রোজগার করে তা সমাজের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার চিন্তাভাবনার জন্য বিবেক পোদ্দারকে ধন্যবাদ জানান। গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়েও দক্ষতা বিকাশে পোদ্দার প্রগতি ফাউন্ডেশনকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ প্রকল্পের প্রস্তাব দেন।
গৌরাঙ্গ রায় শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, জীবনে যা অর্জন করি, এর বড় অংশ যেন দান করতে পারি, এটাই ভারতীয় দর্শন। বিভাস দেবের কথায়, শারীরিক, মানসিক, বৌদ্ধিক ও ধর্মীয় এই চারটিকে জীবনে প্রয়োগ করা গেলেই একজন পূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠেন।
ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সুইটি দেব। জয়দীপা চক্রবর্তীর গণেশ বন্দনায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং শেষ হয় বন্দেমাতরম গীতের মধ্য দিয়ে। মাঝে সঞ্চালক বিক্রমজিৎ বাউলিয়া একটি সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

অম্বিকাপট্টি বড়াইল হোমসে আয়োজিত একই অনুষ্ঠানে হর ঘর তিরঙা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ক বিভাগে প্রথম রাজদীপ দে (ডন বস্কো), দ্বিতীয় নৈতিক কানু (মহর্ষি বিদ্যামন্দির), তৃতীয় তন্ময় সেন (হলিক্রশ স্কুল), বিশেষ পুরস্কার শ্রেয়াংশ দত্ত (সেক্রেড হার্ট), ঋতিষা দেব (মহর্ষি বিদ্যামন্দির) ও পার্থিব দে (হলিক্রশ স্কুল)। খ বিভাগে প্রথম শুভাঙ্গী মজুমদার (মহর্ষি বিদ্যামন্দির), দ্বিতীয় প্রীতিকা দাস চৌধুরী (বিবেকানন্দ কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়), তৃতীয় অভিলাষা পাল (হলিক্রশ স্কুল), বিশেষ পুরস্কার ঋতিক মজুমদার (মহর্ষি বিদ্যামন্দির), স্বপ্না নমঃশূদ্র (হলিক্রশ স্কুল) ও পিয়াসা দাস (হলিক্রশ স্কুল)। গ বিভাগের বিজয়ীরা হল : প্রথম আয়ুস্মিতা দেব (হলিক্রশ স্কুল), দ্বিতীয় ক্ষৌণিশ দাস (হিরণপ্রভা দেব শিশু বিদ্যামন্দির), তৃতীয় অর্চিতা হোম চৌধুরী (বিবেকানন্দ কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়), বিশেষ পুরস্কার সিমি দাস (সেন্ট ক্যাপিটানো স্কুল), পলাক্ষী সেন (মহর্ষি বিদ্যামন্দির) ও আয়ুষী পাল (রামানুজ বিদ্যামন্দির)।




