NE UpdatesHappeningsBreaking News
শিলঙে হিংসা : অ- উপজাতিদের সুরক্ষা চাই : বরাকবঙ্গ
ওয়েটুবরাক, ২১ আগস্ট : বুধবার সন্ধ্যায় শিলঙের রাজপথে কয়েক ঘণ্টা ধরে পুলিশকে সাক্ষী রেখে যে ভয়ংকর হিংসাত্মক ঘটনা সংগঠিত হয়েছে তার চেহারা দেখে এটা স্পষ্ট যে, গোটা ঘটনাপ্রবাহ ছিল পূর্বপরিকল্পিত। খাসি ছাত্র ইউনিয়নের পাঁচ দফা দাবি আদায়ের আড়ালে জাতীয়তা বিরোধীরা যে শক্তির আস্ফালন দেখালো সেটা এক অশনি সংকেত। তাই সমতলীয় জনগণের সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এমনই দাবি তুলল বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন।
শিলঙের ঘটনাক্রম নিয়ে বরাকবঙ্গের মুখপাত্র গৌতম প্রসাদ দত্ত এই দাবি তুলে এক বিবৃতিতে বলেছেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় যে কোনও সংগঠন শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ে কর্মসূচি নিতেই পারে। কিন্তু যখন কালো কাপড়ে প্রায় মুখ ঢেকে মোটরসাইকেল মিছিল বের করে কয়েক ঘণ্টা ধরে গোটা মহানগরীকে সন্ত্রস্ত করে পথের যাত্রীবাহী বিভিন্ন গাড়ি ভাঙচুর, নারী ও শিশু সহ যাত্রী ও পথচারীদের উপর নির্বিচারে হামলা, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও বিবেকানন্দের মূর্তি ভাঙচুর ও সর্বজনপ্রিয় জাতীয় মুক্তি সংগ্রামীদের চূড়ান্ত অবমাননা করার ঘটনা ঘটে তখন তাকে আর কোনওভাবেই সাধারণ আন্দোলন বলা চলে না। মিছিল থেকে যেভাবে সমতলীয়দের বিরুদ্ধে, বিশেষত ওই রাজ্যে বসবাসকারী বাঙালিদের বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে নাগাড়ে প্ররোচনামূলক স্লোগান দেওয়া হয় তাতে পেছনে থাকা অভিপ্রায়গুলো স্পষ্টভাবেই ধরা পড়ে।
বিবৃতিতে মুখপাত্র দত্ত বলেছেন, মেঘালয়ে, বিশেষভাবে শিলঙে সমতলীয়দের উপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা নতুন নয় । এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের নীরব প্রশ্রয় অতীতে যেভাবে দেখা গেছে, ফের একবার শিলঙে তা প্রত্যক্ষ করা গেল। কনরাড সাংমা নেতৃত্বাধীন সরকার সমতল বিদ্বেষী উগ্র জাতীয়তাবাদী শক্তির কাছে কীভাবে আত্মসমর্পণ করে চলেছেন, তা আরও একবার উত্তর-পূর্বের মানুষ প্রত্যক্ষ করল। ১৯৩০ সালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু শিলং সফরে এসে স্থানীয় কৃষ্টি সংস্কৃতির ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। জাতি নির্বিশেষে শিলংনিবাসী বিদগ্ধজন সে কথা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইভাবে স্বামী বিবেকানন্দের প্রতি শিলং তথা মেঘালয়ের সমস্ত জাতিগোষ্ঠীর গভীর শ্রদ্ধাবোধ বারবার অনুরণিত হয়ে আসছে। অথচ বুধবার যখন বাঙালিপ্রধান এলাকায় এই দুই মনীষীর মূর্তিতে হামলা চলল তখন পুলিশ ছিল নির্বিকার। ঘটনার অনেক পরে এসে তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করার হাস্যকর চেষ্টা করেছে। এই গোটা পরিস্থিতিতে খাসি ছাত্র ইউনিয়নের ফের আন্দোলনের হুমকির প্রেক্ষিতে মেঘালয়ের সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনা এবং আগামী দিনে যাতে এমনতর ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারকে প্রয়োজনীয় আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে। মেঘালয়ে সফরে যাওয়া অসম সহ অন্যান্য স্থানের জনগণের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বরাকবঙ্গের তরফে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কাছেও আর্জি রাখা হয়েছে।


