Barak UpdatesAnalytics
শহর শিলচরের রাস্তা সংস্কারে মুখ্যমন্ত্রীকে স্মারকপত্র পাঠাল ইয়াসি

ওয়ে টু বরাক, ২২ মে : শিলচরের কাছাড় কলেজ পয়েন্ট থেকে মেহেরপুর পর্যন্ত ভয়াবহ ও বেহাল রাস্তা সংস্কারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করল ইয়ুথস এগেইনস্ট সোসিয়াল ইভিলস অর্থাৎ ‘ইয়াসি’।শুক্রবার সংস্থার পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে ইমেইল যোগে একটি স্মারক লিপি প্রদান করেছে। এতে ‘ইয়াসির’ পক্ষ থেকে শিলচর শহরের ভয়াবহ রাস্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির চরম উদাসীনতার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করা হয়।
স্মারকপত্রে ইয়াসি বলেছে,শিলচর শহরের প্রায় সমস্ত অভ্যন্তরীণ সংযোগকারী রাস্তাগুলির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তবে কাছাড় কলেজ পয়েন্ট থেকে মেহেরপুর পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ , যা এই অঞ্চলের প্রাণরেখা হিসেবে পরিচিত। এই রাস্তাটি সরাসরি বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ইউনিয়ন ফ্লাওয়ার মিল, কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতাল, শিলচর পলিটেকনিক, শিলচর মেডিকেল কলেজ, এনআইটি, আসাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চা-বাগানের সঙ্গে সংযুক্ত। এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তাটি উপেক্ষিত।
ইয়াসি আরও বলেছে, শিলচর শহর অসমের একটি ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাপূর্ণ শহর। এটি ‘ভাষা শহিদের শহর’ এবং ‘সাংস্কৃতিক ঐক্যের শহর’ নামে পরিচিত, বহুবার দাবি ও স্মারকলিপি প্রদান করা সত্ত্বেও সরকার এখন পর্যন্তও যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করেনি। বর্তমানে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক এবং সক্রিয় সামাজিক সংগঠন হিসেবে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ কেবলমাত্র কিছু মাটির কাজ করে মেরামতির নামমাত্র উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে রাস্তাগুলি বর্তমানে ধান চাষের জমির মতো কর্দমাক্ত অবস্থায় পরিণত হয়েছে। সেন্ট্রাল রোড ও নাহাটা পয়েন্টে এখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ‘ইয়াসি’ আবেদন করেছে, তিনি যেন শিলচর শহরের রাস্তাগুলির বিশেষত কাছাড় কলেজ পয়েন্ট থেকে মেহেরপুর পর্যন্ত অবিলম্বে মেরামত অথবা পুনর্নির্মাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সরকারের বর্তমান উদাসীনতায় সবার মনে এই ধারণার জন্ম দিচ্ছে, যেন শিলচর শহরটি একটি ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ পরিণত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শিলচরের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অবসানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে ‘ইয়াসি’ বিশ্বাস করে এবং সময়ের দাবি এটাই। অন্যথায় আগামী ১ জুন থেকে ধারাবাহিকভাবে ‘ইয়াসি’, বিভিন্ন সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ভুক্তভোগী জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে এক বিরাট গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূচনা করবে বলে জানিয়েছেন সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সঞ্জীব রায়।
ইতিমধ্যে ইয়াসির তরফে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্মারকপত্রের প্রতিলিপি জেলাশাসক ও পূর্ত বিভাগের কার্যনির্বাহী বাস্তুকারকে অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে।



