Barak UpdatesHappeningsBreaking News

মে দিবসের অনুষ্ঠানে দাবি উঠল, শ্রম কোড বাতিল করো

ওয়েটুবরাক, ১ মে : এন টি ইউ আই অনুমোদিত অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বানে কাছাড় হাইলাকান্দি করিমগঞ্জ , হোজাই, যোরহাট , কামরুপ ইত‍্যাদি জেলায় এবার মে দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। হাইলাকান্দির লালাতে, করিমগঞ্জের বড়থল, ভাঙ্গা ও মোল্লাগঞ্জ বাটইয়া সহ কাছাড়ে ডলু চা বাগানের লালবাগ , ময়নাগড়, টিল্লা লাইন , উধারবন্দের মধুরা , বিহাড়ার লম্বাটিলা , জারইলতলার আই ও সি বটলিং প্ল‍্যান্ট ও শিলচর শহরে রাঙ্গিরখাড়ি ভাষা শহিদ স্মারকের সম্মুখ স্থলে পালন করা হয়। অসম মজুরি শ্রমিকের ইউনিয়নের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মে দিবসে সংগ্রামের শপথ নেওয়ার আয়োজন করে বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকরা। এই ব্যাপক সাড়া আগামী দিনের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের জাগরণের বার্তা বহন করে। নিও-লিবারেল পুনর্গঠন যেভাবে সংগঠিত শ্রমিকদের কোমর ভেঙে দিয়েছে তাতে মে দিবসের ৮ ঘন্টা কাজ ও ৮ ঘন্টা বিশ্রাম ও ৮ ঘন্টা বিনোদনের দাবি আবারও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। ভারত সরকার শ্রমিকের শোষণ নিপীড়ণকে তীব্র করতে জারি করেছে ‘শ্রমকোড’। এবারের মে দিবসে সর্বত্র এই ‘শ্রমকোড’ বাতিলের দাবি উঠেছে।

সস্তাশ্রম, জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদকে কর্পোরেট পুঁজির লুণ্ঠনের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে বিজেপি সরকার যেভাবে উচ্ছেদের নীতি নিয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছিল এবারের মে দিবসের আহ্বান। ডলু থেকে বাঁশবাড়ি যেখানেই জমি অধিগ্রহণ করে আদানি-আম্বানিদের হাতে তুলে দেওয়ার সরকারি নীতি নেওয়া হয়েছে, সেখান থেকেই আওয়াজ উঠেছে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের।

সন্ত্রাসবাদ ও যুদ্ধ সবকিছুরই ফায়দা তোলে প্রতিক্রিয়াশীলরা, মুনাফা নেয় কর্পোরেট শাসকশ্রেণি, আর তার দুর্বিষহ বোঝা বইতে হয় সাধারণ শ্রমজীবীদের। তাই এবারের মে দিবস দাবি তুলেছে সন্ত্রাসবাদ ও যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্রকে প্রসারিত করার। মেহনতি মানুষের ক্ষমতায়নের মাধ্যমেই লড়াই হবে অশুভশক্তির বিরুদ্ধে, গড়ে উঠবে নতুন অসম তথা নতুন ভারত। দাবি উঠেছে, পঞ্চায়েতকে ঠুঁটো জগন্নাথ বানিয়ে দালাল-রাজ কায়েম করা চলবে না। গ্রামীণ মানুষদের বেকার ভাতা, অন্যান্য ভাতা, এনরেগার কাজ, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সর্বজনীন রেশন ব্যবস্থা ইত্যাদি তাদের বেঁচে থাকার সাংবিধানিক অধিকার হিসাবে প্রদান করতে হবে এবং সমস্ত ক্ষেত্রে গ্রামসভাকে পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করতে হবে।

দাবি উঠেছে ন্যূনতম মজুরির, নির্মাণ-পরিবহণ-গিগ-অঙ্গন ওয়ারী কর্মী , মিড ডে মিল কর্মী, ইত্যাদি সমস্ত শ্রমিকদের আইনি সুবিধা ও সুরক্ষা প্রদানে ওয়েলফেয়ার প্রকল্প ও সরল ভাবে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করার, দাবি উঠেছে স্বাস্থ্যকর্মী ও মহিলা প্রকল্পকর্মীদের শ্রমিকের মর্যাদা দিয়ে ন্যূনতম মজুরি প্রদানের।

এবারে অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের উদ‍্যোগে যে সব অঞ্চলে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে মহান মে দিবস পালিত হয় এবং যারা যারা বক্তব্য রাখেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ‍্য হোজাইয়ের মলয় চক্রবর্তী , যোরহাটের স্বপন বরা ও শিবদাশ ভট্টাচার্য, কামরূপে দেবজিৎ চৌধুরী, করিমগঞ্জে কমরুল লস্কর , নুমান আহমেদ , শান্তনু দাস , হাইলাকান্দিতে পারবেজ খসরু লস্কর, মধুরাতে বলরাম বিশ্বাস, লম্বাটিলাতে সুধীর মুন্ডা, ডলুতে অঞ্জলী তন্তুবায় , কমলজিৎ তেলী , লক্ষীন্দর তেলী, কুঞ্জলতা ঘাটোয়ার , গৌতম গোয়ালা , নীলিমা ভূমিজ ও শিলচরে মৃণাল কান্তি সোম, ফারুক লস্কর, স্নিগ্ধা নাথ ও অরিন্দম দেব। শিলচরে মে দিবসের রক্ত পতাকা উত্তোলন করেন সুকল্পা দত্ত ও শহিদ বেদীতে মাল‍্যদান করেন আদিমা মজুমদার।

বক্তাদের বক্তব্যতে শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী শ্রমকোড বাতিল সহ ধর্মীয় উন্মাদনা, সন্ত্রাসবাদ ও যুদ্ধোন্মাদনা, কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে জনগণকে বিভ্রান্ত করে ভোট আদায় ইত্যাদি সকল ধরনের প্রতিক্রিয়াশীলতাকে পরাজিত করে নতুন অসম তথা নতুন ভারত গড়ার লক্ষ্যে সকল সংগ্রামী শ্রমিক সংগঠনের এক হওয়ার আহ্বান এবারের মে দিবসের মূল তাৎপর্য হিসাবে উঠে আসে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker