Barak UpdatesHappeningsBreaking News
মালুগ্রাম অঞ্চলে ভাঙনে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কা !

ওয়েটুবরাক, ৮ আগস্ট: শিলচর মালুগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বি সি গুপ্তের বাড়ির পিছন দিকে বরাকের পাড় ভাঙন শুরু হয়েছে। অবিলম্বে তা রোধ করা না হলে তা ভয়াবহ চেহারা নেবে, এমনকী নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রগতিশীল নাগরিক সমন্বয় মঞ্চের তরফে এক প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার সকালে জলসম্পদ বিভাগের সহকারী ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে সরেজমিনে ওই এলাকা পরিদর্শন করেন।
গত শতাব্দীর ছয়ের দশকে বরাকের পাড় ভাঙন রোধে ‘টাউন প্রটেকশন স্কিম’-এর অধীনে কালিবাড়ি চর থেকে অন্নপূর্ণাঘাট পর্যন্ত আগ্নেয়শিলার আস্তরণ দিয়ে তারের জাল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। ফলে গত ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই এলাকায় নদীর পাড় ভাঙেনি। কিন্তু গত দুই বছরে কিছু বড় ধরনের পদক্ষেপে আবার ভাঙন শুরু হয়েছে। মঞ্চের অভিযোগ, জনৈক বিত্তশালী ব্যক্তি ওই এলাকায় নদীর তীরে বেশ বড় একটি এলাকা ক্রয় করে সাত আট ফুট উঁচু করে মাটি ভরাট করিয়ে রেখেছেন। এর ফলে ওই এলাকা থেকে বৃষ্টির জল, পুকুরের অতিরিক্ত জল বেরিয়ে বাঁধ সংলগ্ন ড্রেন দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে মাটির তলা চুঁইয়ে নদীতে যেতে আরম্ভ করেছে। নদীর পাড়ের মাটি স্বভাবতই দুর্বল ও আলগা হয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, ২০২২ এর বন্যার পর এই এলাকায় জিওব্যাগের প্রটেকশনের কাজ করতে গিয়ে পাড়ের স্থিতিশীল মাটি কাটতে হয়েছে। এর ফলেও নদীর পাড়ের মাটি দুর্বল হয়েছে। এছাড়াও একটি পুরনো ড্রেন দিয়ে ওই এলাকার একাংশ জল বেরিয়ে যেতো, কিন্তু সংস্কারের অভাবে ওই ড্রেনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায়ও জল মাটির তলা দিয়ে চুঁইয়ে নদীতে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। প্রধানত এইসব কারণে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে প্রায় ১০০ ফুট জায়গার পাড় ধসে নদীতে গিয়ে পড়েছে এবং আরও ভাঙনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মঞ্চের অনুরোধে ভাঙন পরিদর্শনে আসা জলসম্পদ বিভাগের সহকারী ইঞ্জিনিয়ার দেবাশিস আচার্য চুঁইয়ে আসা জলকেই মুখ্যত ভাঙনের জন্য দায়ী করেছেন। জিওব্যাগ বসানোর জন্য পাড়ের মাটি কাটাকে তিনি ততটা গুরুত্ব দিতে চাননি। তবে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মিনি সার্কুলার বাঁধের পূর্ণ মেরামতি সহ আগামী শুকনো মরশুমে নদী ভাঙনের স্থায়ী সমাধানের জন্য মঞ্চের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
প্রগতিশীল নাগরিক সমন্বয় মঞ্চের ধ্রুবকুমার সাহা, প্রণব দত্ত, রামেন্দ্র ভট্টাচার্য, অভিজিৎ দাম, আশু পাল প্রমুখের সঙ্গে স্থানীয় দায়িত্বশীল নাগরিকেরাও পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন।


