Barak UpdatesHappeningsCulture
বাংলা সাহিত্য সভা ও ডিএনএনকে স্কুলের যৌথ উদ্যোগে রবীন্দ্র জয়ন্তী শিলচরে

ওয়ে টু বরাক, ১৬ মে : বাংলা সাহিত্য সভা অসম-এর কাছাড় জেলা সমিতি ও দীননাথ নবকিশোর উচ্চতর বালিকা বিদ্যালয়-এর যৌথ উদ্যোগে শিলচর ডিএনএনকে স্কুলে ১৬৪তম রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উদযাপন করা হয়। প্রথমে প্রদীপ প্রজ্বলন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ নিবেদন করে শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানের মুখ্য বক্তা অসম সরকারের সাহিত্য পেনশনপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাহিত্যিক তথা সাউথ পয়েন্ট স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জয়া দেব বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর সম্পর্কে চর্চা আলোচনা করাটা শুধু একদিন কিংবা এক সপ্তাহ নয়, এক মাস নয়, সারা বছরের প্রত্যেকটা দিনই রবীন্দ্র চর্চার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ স্কুল-কলেজের গতানুগতিক পড়াশোনার প্রক্রিয়ায় খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না। তাঁর মতে যে পড়াটা আমাদের উজ্জীবিত করে সেই পড়াশোনা দরকার। স্কুলের সাধারণ পড়াশোনার প্রক্রিয়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অপছন্দ হলেও তিনি মুক্ত পরিবেশে প্রাকৃতিক, সৌন্দর্যতা ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশকে নিয়ে চিন্তা ভাবনাকরতেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনায় ‘The world itself is an university’ প্রকৃতি হচ্ছে আসল স্কুল। এভাবেই রবীন্দ্র চেতনা ব্যাখ্যা করেন জয়া দেব। তিনি জানান, রবীন্দ্রনাথ বাড়ির রেলিংকে ছাত্র বানিয়ে স্কুলের শিক্ষককের ন্যায় লাঠিপেটা করে তখনকার শিক্ষক-ছাত্রের শৈক্ষিক পরিবেশকে উপলব্ধি করতেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই কবিতা রচনা করতেন। ছবি আঁকতে ভালবাসতেন। কবির জন্য কার্যত কোনও স্কুলের দরকার হয় না। কবিরা মূলত নিজে নিজেই পড়তে পারেন। সারাটা জীবন কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক রচনা করে নিজের সৃষ্টিশীল কার্যক্রমের জন্যই পৃথিবী বিখ্যাত হতে সক্ষম হয়েছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাই তাঁকে অনুসরণ করে জীবনে অগ্রসর হতে আজকের প্রজন্মের প্রত্যেক পড়ুয়াদের কাছে বিনম্র আহ্বান জানান জয়া দেব।
এ দিনের অনুষ্ঠানে অসম ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদ আয়োজিত গত ১০ ও ১১ মে ১৬৪তম রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গুয়াহাটির শঙ্করদেব কলাক্ষেত্রে রাজ্যভিত্তিক রবীন্দ্র সঙ্গীত ও রবীন্দ্র নৃত্য প্রতিযোগিতায়, রবীন্দ্র নৃত্য ‘ক’ বিভাগে ২য় স্থান লাভ করায় শিলচর অরুণাচলের জিলকদর আলি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী তনুশ্রী পালকে অভিনন্দন স্মারক তুলে দেন বাংলা সাহিত্য সভার কাছাড় জেলা কমিটির সভাপতি নীহাররঞ্জন পাল, রাজ্য সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক সন্দীপন দত্ত পুরকায়স্থ, ডিএনএনকে এইচএস স্কুলের অধ্যক্ষ অভিজিৎ সাহা, বিশিষ্ট সাহিত্যিক তথা সাউথ পয়েন্ট স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জয়া দেব। এর পর স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া দে বক্তব্য রাখেন। শতাব্দী দাস ‘নব আনন্দে জাগো’ গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করেন। বৈশালী দাসের সঞ্চালনায় ‘আয় তবে সহচরী’ গানের তালে তালে দলগত নৃত্য পরিবেশিত হয়। নৃত্য পরিবেশনে অংশ নেয় সৃষ্টি আচার্য, শ্রাবন্তী দাস, সাক্ষী রবিদাস ও অনুশ্রী বৈদ্য। দেবী দাস নৃত্য পরিবেশন করেন। তনুশ্রী পাল নৃত্য পরিবেশন করেন।
সুস্মিতা পাল কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। এসো হে বৈশাখ সঙ্গীত পরিবেশন করে দিয়া দাস। এছাড়া রবীন্দ্র সঙ্গীতের সুরের তালে নৃত্য পরিবেশন করেন রোশনী রবিদাস, কৃষ্ণা নাথ, পরিধি দেবনাথ, টুম্পা শীল, নিকিতা রবিদাস। আবৃত্তি করেন সোয়াইয়া আক্তার বড়ভূইয়া, প্রিয়াশী কুরি সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সাগরিকা দাস নৃত্য পরিবেশন করেন। সঙ্গীত অনন্যা দাস পরিবেশন করে। নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ পরিবেশন করেন সোনাক্ষি নাথ, প্রিয়ঙ্কা ভট্টাচার্য। ‘ভেঙে মোর ঘরের চাবি’ গানের তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করেন দিয়া দাস, নন্দিনী লামা এবং সোনাক্ষী দাস। সোনার তরী কাব্যগ্রন্থ থেকে সোনার তরী কবিতা আবৃত্তি করেন রাজ্য শাখার সহযাত্রী নিবেদিতা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, সমন্বয়ের বার্তা নিয়ে বাংলা সাহিত্য সভা অসমের যাত্রা শুরু হয়। এবারের রবীন্দ্র জয়ন্তী স্কুলগুলোর কচিকাঁচা পড়ুয়াদের মধ্যে রবীন্দ্র ভাবনা চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তিনি আরো বলেন মূলত কচিকাঁচাদের মধ্যে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা সৃষ্টির চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
শিলচর শাখার সহযাত্রী কল্যাণী দাম রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন, রাজ্য শাখার সহযাত্রী শর্মিষ্ঠা দেব পুরকায়স্থ কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। সংহিতা দত্ত চৌধুরীও অনুষ্ঠানে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন নীহারিকা বর্মণ, দিয়া দাস সহ অন্যরা। দেবাংশী দাস রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন। দেবী দাস, তনুশ্রী পালরা রবীন্দ্র নৃত্য পরিবেশন করেন, অনুষ্ঠানে তবলায় সহযোগিতা করেন ভাস্কর দাস। এছাড়া অন্তরা চক্রবর্তীর নির্দেশনায় নাটক ‘দেনা-পাওনা’ উপস্থাপন করেন শিল্পীরা। নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন প্রতীক্ষা দাস, অপরাজিতা চক্রবর্তী, শর্মিষ্ঠা, তুলসী দাস, সুস্মিতা, চন্দ্রিমা, সৃজা এবং রিয়া। অনুষ্ঠানে মৌটুসি পাল ও মানসী সাহা নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা সাহিত্য সভার কাছাড় জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক শতদল ভট্টাচার্য, শিলচর সমিতির কোষাধ্যক্ষ অনিমেষ দে, সহযাত্রী সুমিতা ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিলচর শাখার সম্পাদিকা সংহিতা দত্তচৌধুরী।


