Barak UpdatesHappeningsBreaking News
২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিলচরে পুর নির্বাচন সারতে বলল হাইকোর্ট

ওয়েটুবরাক, ২৭ জুলাই: শিলচর পুর নিগমের নির্বাচনের নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে গৌহাটি হাইকোর্ট। আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই পর্ব সেরে নিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সঞ্জয় কুমার মেধি। তাতে প্রগতিশীল নাগরিক সমন্বয় মঞ্চ একদিকে সন্তোষ প্রকাশ করে, অন্যদিকে কিছুটা উষ্মাও ব্যক্ত করে।
উচ্চ আদালত আগেই ২২ জুলাইর মধ্যে শিলচর পুর নিগমের নির্বাচন করাতে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ওই তারিখের মধ্যে নির্বাচন ঘোষণার বদলে শুধু ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিন্তু আদালত সেজন্য কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, এমনকী ভর্ৎসনা সূচক কোনও শব্দও প্রয়োগ করেনি। এ নিয়েই উষ্মা রিট পিটিশনারদের।
২২ জুলাই তারিখের মধ্যে নির্বাচন না করানোয় তাঁরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। উভয়পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে সেদিনই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মেধি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী দীপাঞ্জন চক্রবর্তী ভারতীয় সংবিধানের ২৪৩ (ইউ) অনুচ্ছেদ, ১৯৫৬ সালের আসাম মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্টের ২৬ নং ধারা এবং ২০২২ সালের আসাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যাক্টের ৭ নং ধারার উল্লেখ করে আদালতকে জানান, পুরসভার নির্বাচন করানো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। অথচ ২০২০ সাল থেকে শিলচর পুরসভায় কোনও নির্বাচিত বোর্ড নেই। এরই মধ্যে পুরসভা পুর নিগমে উন্নীত হলেও নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে হলফনামা দিয়ে বলা হয়েছে, এসআইআর এবং ভোটার তালিকা পুনর্নবীকরণের দরুন এতদিন নির্বাচন করানো যায়নি। তবে শুনানিতে অংশ নিয়ে তাদের আইনজীবী আর দুবে জানান, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এখন রাজ্য সরকার নির্বাচন করানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। মূলত, ভোটের জন্য অর্থের সংস্থান এবং প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলেই শিলচর পুর নিগমের নির্বাচন করানো যেতে পারে।
নির্বাচন করানো বা না করানো নিয়ে পুর নিগমের কিছু করণীয় নেই বলে আদালতকে জানান সরকারি আইনজীবী কে গগৈ ।
সব শুনে বিচারপতি মেধি রায়ের তারিখ (২২ জুলাই ২০২৬) থেকে দুই মাসের মধ্যে শিলচর পুর নিগমের নির্বাচন করানোর নির্দেশ দেন।
প্রগতিশীল নাগরিক সমন্বয় মঞ্চের পক্ষে এই রিট পিটিশন করেছিলেন সভাপতি ধ্রুব কুমার সাহা, প্রণব দত্ত, মহীতোষ পাল ওরফে আশু পাল, বাসুদেব শর্মা ও অভিজিৎ দাম। তাঁরা আজ সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও ২২ জুলাইর মধ্যে শিলচর পুর নিগমের ভোট না করানো তথা হাইকোর্টের নির্দেশ অস্বীকার করা অশনিসংকেতই বটে। গণতন্ত্রের জন্য তা বিপজ্জনক।

বাসুদেব শর্মা জানান, নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় পুর পরিষেবা তলানিতে ঠেকেছে। জল সরবরাহ বিভাগের রক্ষণাবেক্ষণ নেই। নালা নর্দমার বেহাল অবস্থা। অথচ কর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুর নিগমের নির্বাচনের প্রতি সরকারের অনীহা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মঞ্চের কর্মকর্তা কিশোর ভট্টাচার্য ও সঞ্জীব রায়।
এ দিনের সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সীমান্ত ভট্টাচার্য, নন্দ দুলাল সাহা প্রমুখ।



