NE UpdatesBarak UpdatesHappeningsBreaking News
ত্রিপুরার গবেষক করলেন রামকুমারের কাব্য সম্পাদনা, অনাগ্রহী বরাক!

ওয়েটুবরাক, ৩১ আগস্টঃ শিলচরের মদনমোহন মোহন আখড়া পরিচালন সমিতির মূল কাজ পূজার্চনা ও পাঠকীর্তন। তবু তাঁরা রামকুমার নন্দীমজুমদারকে নিয়ে কাজ করে চলেছেন। কখনও করছেন মূর্তি নির্মাণ, কখনও গ্রন্থ প্রকাশ। রামকুমারকে নিয়ে বেশ কটি অনুষ্ঠান করেছেন তাঁরা।
পদ্মকুমারী চাকমা ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা পড়ান। তিনি প্রথম গ্রন্থ রচনা করেন “চাকমা বারমাসী গান”। পরেরটি যৌথ সম্পাদনায় “শ্রীরাজমালাঃ শতবর্ষ পরে”। তৃতীয় গ্রন্থটিই রামকুমার নন্দী মজুমদারের নবপত্রিকা কাব্য সম্পাদনা। অথচ পদ্মকুমারী না দক্ষিণ অসমের, না বাঙালি জনগোষ্ঠীর।
আর তাই রবিবার পদ্মকুমারীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সংবর্ধনা জ্ঞাপনের দায়িত্ব নিল সেই মদনমোহন মোহন আখড়া পরিচালন সমিতিই, যাদের সঙ্গে সাহিত্যচর্চার সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই।
এই অঞ্চলের বিস্মৃতপ্রায় রামকুমারকে নিয়ে আরও যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের মধ্যে শ্যামানন্দ চৌধুরী হাফলঙ সরকারি কলেজের শিক্ষক, মলয় দেব ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান এবং সুচরিতা দাস পড়ান হোজাই কলেজে। ‘রামকুমার গবেষক’ অমলেন্দু ভট্টাচার্যের আক্ষেপ, রামকুমারকে নিয়ে বাইরে কাজকর্ম হচ্ছে। পদ্মকুমারী চাকমা ত্রিপুরা থেকে গ্রন্থ প্রকাশ করে নিয়েছেন। কিন্তু এখানকার গবেষকরা সে ভাবে আগ্রহী নন।
অমলেন্দু ভট্টাচার্যকে ‘রামকুমার আবিষ্কারক’ বলে অভিহিত করে পদ্মকুমারী বলেন, তিনিই তাঁকে এমন এক কবিকে নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। পদ্মকুমারীর কথায়, কলকাতায় বসে মাইকেল মধুসূদন দত্ত যে কাব্য রচনা করেছিলেন, শিলচরের মত প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে একই কাব্যরীতিতে এর জবাব লিখেছিলেন রামকুমার নন্দী মজুমদার। তাঁকে সম্মান না জানালে অবিচারই হয়। “এই কবিকে আমাদের বাঁচিয়েই রাখতে হবে” বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পদ্মকুমারী নিজের গ্রন্থ প্রসঙ্গে শোনান, “বীরাঙ্গনা পত্রোত্তর কাব্যে”র মতই রামকুমারের “নবপত্রিকা কাব্য” বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে। এই গ্রন্থে রামকুমার নয়জন নারীর মনের কথা তুলে ধরেছেন। আধুনিকতার স্পর্শ রয়েছে তাতে।
রবিবার আখড়া পরিচালন সমিতির এই অনুষ্ঠানে সভাপতি শিবব্রত দত্ত বলেন, তাঁরা পূজাপাঠের বাইরেও শিক্ষার প্রসারে কাজ করে চলেছেন। এর সঙ্গে তাল মিলিয়েই এই অঞ্চলের বিরল প্রতিভার অধিকারী রামকুমারকে নিয়েও কাজ করেন।
আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রমাপ্রসাদ বিশ্বাস জানান, রামকুমারের অধিকাংশ লেখালেখি আজও অপ্রকাশিত। আজকের অনুষ্ঠানে পদ্মকুমারীর পতি ইঞ্জিনিয়ার নির্মলেন্দু চাকমাও উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনা করেন নাট্যকার শেখর দেবরায়।


