Barak UpdatesHappeningsBreaking News
জেল রোড : শ্লীলতাহানির অভিযোগকারী আটক, ভাই গ্রেফতার
দশরূপকের নাম জড়ানোয় তীব্র ক্ষোভ
ওয়েটুবরাক, ৭ অক্টোবর:জেল রোডের উল্লাসকর দত্ত সরণি সর্বজনীন পুজোয় শ্লীলতাহানির অভিযোগ যিনি করেছিলেন, পুলিশ মঙ্গলবার তাকেই আটক করেছে। ধরা হয়েছে তার ভাই সন্দীপ পুরকায়স্থকে। জেল রোড এলাকাবাসীর তরফে পাল্টা মামলায় তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। আরেক অভিযুক্ত তাদের মা। তাকে অবশ্য এখনও গ্রেফতারের পথে যায়নি পুলিশ।
এ দিকে, পূজা মণ্ডপ ঘিরে নানা ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার স্পষ্টীকরণ দিয়েছেন অশোক রাজকুমার, শিবশংকর দত্ত, চিত্রভানু ভৌমিক, মিতালী রাজকুমারী, নয়না চৌধুরী প্রমুখ কর্মকর্তাগ৷
তাঁরা বলেন, জেল রোডের উল্লাসকর দত্ত সরণি সর্বজনীন পুজো কমিটির সঙ্গে দশরূপকের কোনও সম্পর্ক নেই৷ দশরূপক নাটক সহ বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি চর্চা করে, নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলেও দুর্গাপূজা করে না৷ পূজা মণ্ডপ ঘিরে নানা ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এই স্পষ্টীকরণ দিয়েছেন অশোক রাজকুমা, শিবশংকর দত্ত, চিত্রভানু ভৌমিক, মিতালী রাজকুমারী, নয়না চৌধুরী প্রমুখ কর্মকর্তাগ৷
শ্লীলতাহানির অভিযোগকারী দশরূপকের নাম উল্লেখ করায় তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করেন তাঁরা৷ বলেন, যাদের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাঁরা দশরুপকের শুভাকাঙ্ক্ষী বটে, কিন্তু সদস্য নন৷ তাই এই সংস্থার নাম জড়ানো একেবারে অনুচিত হয়েছে৷ সে জন্য অভিযোগকারী মহিলাকে দশরূপকের সকল সদস্য-কর্মকর্তার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করতে হবে বলে দাবি করেন তাঁরা৷
তবে অভিযুক্তরা দশরূপকের সদস্য নন বা পুজোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই বলে ঘোষণা করলেও শ্নীলতাহানির অভিযোগটি যে মিথ্যা, সে কথা তাঁরা সজোরে বিবৃত করেন৷ তাঁদের কথায়, দশরূপকের যে সব সদস্যের বাড়ি জেল রোড উল্লাসকর দত্ত সরণিতে, তাঁরা অবশ্যই এই পুজোয় জড়িত৷ তাদের অনেকে প্রতিমা বিসর্জনের পর খিচুড়ি খাওয়ার সময় মণ্ডপে ছিলেন৷ অভিযোগকারীর তর্কাতর্কি, মা-ভাইকে সঙ্গে নিয়ে চেয়ার ও জলের ফিল্টার ভাঙচুর করতে দেখেছেন৷ তাঁরা তিনজনে ঠেলাধাক্কা করে গীতাঞ্জলি চৌধুরী নামে এলাকার এক মহিলাকে আহত করেছেন, সে সব তাঁরা দেখেছেন৷ শ্লীলতাহানির মতো কোনও ঘটনা সেখানে ঘটেনি, ঘটতে পারে না বলেও তাঁরা জোর গলায় দাবি করেন৷ এ অভিযোগকারীর অপপ্রচার, মিথ্যাচার, যা বিভ্রান্তিকর তো বটেই৷
দশরূপকের প্রধান কর্মকর্তা, নাট্য নির্দেশক চিত্রভানু ভৌমিক এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলিকে সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান৷ বলেন, দুইদিন ধরে সকলে ফোন করে দশরূপকের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন, প্রয়োজনে আন্দোলনে নামার পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন৷ তাঁর আশা, এখন আর আন্দোলনে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না, এর আগেই এরা ক্ষমা চাইবে৷
সাংবাদিক সম্মেলনে ড. স্বপন দাস, বলরাম দে, দীপক নাথ, কথাকলি পাল, দেবজ্যোতি দেবরায়, পারমিতা দাসচৌধুরী, শুভেন্দু চক্রবর্তী প্রমুখও মত বিনিময় করেন৷


