Barak UpdatesHappeningsBreaking News
জেলা আইনি সেবা প্রাধিকারণের উদ্যোগে বজরংপুর চা বাগানে সচেতনতা সভা

ওয়েটুবরাক, ১৬ অক্টোবর: আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য দূরীকরণ দিবস উপলক্ষে কাছাড় জেলা আইনি সেবা প্রাধিকারণ (ডি এল এস এ)-র উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার কাঠাল রোডের বজরংপুর চা বাগানের অন্তর্গত লিগ্যাল এইড ক্লিনিকে এক আইনি সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার মূল লক্ষ্য ছিল সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে আইনি জ্ঞানের প্রসার ঘটানো এবং দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
তাতে রিসোর্সপার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্যারা লিগ্যাল ভলান্টিয়ার দীপিকা তাঁতী ও রামেন্দ্র শুক্লবৈদ্য।
ধর্মানন্দ দেব তাঁর বক্তব্যে বলেন, “দারিদ্র্য দূরীকরণ কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য। একজন মানুষ যদি ন্যায্য মজুরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন, তবে সেই দারিদ্র্য শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক অবিচারের প্রতিফলনও বটে।”
তিনি আরও জানান, “ভারত গত এক দশকে দারিদ্র্য বিমোচনে বিস্ময়কর অগ্রগতি অর্জন করেছে। জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় ১৩৫ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠেছেন। তবে বর্তমানে ভারতের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছেন। অসমেও পরিবর্তন স্পষ্ট। ২০১৫ সালে অসমের দারিদ্র্যের হার ছিল প্রায় ৩১ শতাংশ, যা বর্তমানে নেমে এসেছে প্রায় ২৩ শতাংশে। সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক সংস্থার যৌথ উদ্যোগে গ্রামীণ কর্মসংস্থান, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন প্রকল্পের সুফল এখন গ্রামের দরজায় পৌঁছেছে।”

তিনি প্রধানমন্ত্রীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ দর্শনকেও উল্লেখ করেন। বলেন, “নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে দেশকে। স্বদেশি পণ্য ব্যবহার ও উৎপাদনে জোর দিলে ভারতের বাজার আরও সমৃদ্ধ হবে, অর্থনীতি গতি পাবে এবং গ্রামীণ স্তরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি, এবং অচিরেই তৃতীয় স্থানে উন্নীত হবে।”
ধর্মানন্দ জানান, “এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষদের মধ্যে আইনি জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া এবং সরকারি প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করা। বিশেষ করে মহিলা, শিশু, প্রতিবন্ধী, বস্তিবাসী ও অ্যাসিড হামলার শিকারদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রয়েছে।”
সভায় উপস্থিত প্যারা লিগ্যাল ভলান্টিয়ার রামেন্দ্র শুক্লবৈদ্য বলেন, “অনেক সময় গ্রামের মানুষ জানেন না কোন প্রকল্পের জন্য তারা যোগ্য বা কীভাবে আবেদন করতে হবে। আমরা মাঠপর্যায়ে গিয়ে এই তথ্য দিচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরি করতে সাহায্য করছি। আইনি সচেতনতা মানেই সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা—এটাই প্রকৃত দারিদ্র্য বিমোচনের পথ।”
অনুষ্ঠানে স্থানীয় চা শ্রমিক, মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য এবং গ্রামের প্রবীণরা উপস্থিত ছিলেন। অনেকে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরেন, যেমন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অসুবিধা, আবাসন প্রকল্পে বিলম্ব এবং নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতা। ডি এল এস এ-র প্রতিনিধিরা আশ্বাস দেন যে, এসব সমস্যা নথিভুক্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
প্রসঙ্গত, ১৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য দূরীকরণ দিবস। এর প্রাক্কালে আজ এই সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


