Barak UpdatesHappeningsBreaking News
চিত্তরঞ্জন থেকে হবে ফ্লাইওভারের কাজ, পঁচিশেই শিলান্যাস, বললেন কৌশিক

ওয়েটুবরাক, ২৫ আগস্টঃ ২০২৫ সালেই শিলচরে ফ্লাইওভারের শিলান্যাস হবে। একই সঙ্গে শিলান্যাস হবে মধুরা সেতুরও।
ফ্লাইওভার নিয়ে নানা প্রশ্ন এবং সংশয়ের দোলাচলের মধ্যে জোরগলায় এই দাবি করলেন বরাক উপত্যকা উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী কৌশিক রায়। তিনি বলেন, এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কোনও অবকাশ নেই। দুর্গোৎসবের ঠিক পরেই শিলচরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি এই ফ্লাইওভারের প্রক্রিয়াগত কাজকর্মের প্রতি মুহুর্তের খোঁজ রাখছেন। তাঁর হাতেই হবে এই বিশাল কাজের সূচনা।
শিলচরে দুটি ফ্লাইওভার তৈরি হওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই চূড়ান্ত হয়েছে। রামনগর থেকে ইন্ডিয়া ক্লাব হয়ে ক্যাপিটেল পর্যন্ত একটি, অন্যটি ক্যাপিটেল থেকে সেন্ট্রাল রোড হয়ে চিত্তরঞ্জন মূর্তি পর্যন্ত। কোনদিক থেকে আগে কাজ ধরা হবে, সে ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা সেরে নিয়েছেন তাঁরা। কৌশিক জানান, চিত্তরঞ্জনের দিক থেকে কাজ শুরু হবে। ধীরে ধীরে এগোব সেন্ট্রাল রোডের দিকে।
ওইদিক থেকে কেন, রামনগর কেন আগে নয়, এরও ব্যাখ্যা দেন তিনি । মন্ত্রী বলেন, রামনগর এলাকা থেকে শহর এড়িয়ে মেডিক্যাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়ার জন্য বাইপাস রয়েছে। তাই উড়ালসেতুর বেশি প্রয়োজন ক্যাপিটেল থেকে। কিন্তু ক্যাপিটেল থেকে শুরু করতে গেলে জমি অধিগ্রহণে বেশ কিছু সময় লেগে যেতে পারে। চিত্তরঞ্জন, রাঙ্গিরখাড়ি অঞ্চল থেকে করলে এই সমস্যায় পাবে না। ওইদিকে অনেকটা জায়গা বিনা বিতর্কে এগোনো যাবে। একবার এইভাবে কিছুটা এগিয়ে গেলে পরবর্তী অংশের জমি অধিগ্রহণে বিশেষ সমস্যা হবে না বলেই মনে করছেন তিনি। কারণ ততদিনে ফ্লাইওভার নিয়ে সব ধরনের অনিশ্চয়তা দূর হয়ে যাবে।
তাঁর কথায়, কাজ শেষ হতে আড়াই বছর লাগবে বলে শুরুতেই ধরা হয়েছিল। এর থেকে দেরি হওয়ার কোনও কারণ নেই। বরং একটু আগে শেষ হতে পারে। গুয়াহাটিতে এখন ১৮-২০ মাসেই উড়ালসেতুর কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে ওই সময়টুকুতে শিলচর সহ বরাক উপত্যকার মানুষকে যে দুর্ভোগ পোহাতে হবে, সে ব্যাপারে মানসিক প্রস্তুত থাকতেও বলে দেন তিনি। কৌশিক আশাবাদী, দীর্ঘদিনের একটা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য মানুষ এইটুকু কষ্টস্বীকার করবেন।
উড়ালসেতুর অনেক আগে থেকে মধুরাঘাটে বরাক নদীর ওপর আরেকটি সেতুর জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন সংলগ্ন এপার-ওপারের বাসিন্দারা। অন্নপূর্ণা ঘাটে সেতু নির্মাণের পর ওই দাবির কী হবে, এ নিয়েও সংশয় ছিল। কিন্তু খাদ্য ও গণবণ্টন, খনি ও খনিজ পদার্থ এবং বরাক উপত্যকা উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী জানান, এই বছরে সেই সেতুরও শিলান্যাস হবে।
তিনি দাবি করেন, তাঁদের সরকার হুজুগে কোনও প্রতিশ্রুতি দেয় না। কিন্তু কথা একবার মুখ থেকে বেরিয়ে গেলে সর্বশক্তি দিয়ে তা বাস্তবায়ন করে। উড়ালসেতু, মধুরাঘাটের সেতু এরই উদাহরণ বলে মন্তব্য করেন কৌশিক।


