NE UpdatesAnalyticsBreaking News

ঘনকান্তের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নাগাল্যান্ড থেকে কীভাবে দেওয়া হল, খতিয়ে দেখা প্রয়োজন : হিমন্ত

গুয়াহাটি, ২৮ অক্টোবর : গুয়াহাটির হোটেল বিলাস ইন-এ গুলি চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। তাঁর দাবি, ওই লাইসেন্স অসম সরকার দেয়নি, তা দেওয়া হয়েছিল নাগাল্যান্ড সরকারের তরফে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোন পরিস্থিতিতে লাইসেন্সটি দেওয়া হয়েছিল, তা আমাদের বুঝতে হবে। এই লাইসেন্স অসম সরকার দেয়নি।” ঘনকান্তের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স থাকা এবং তা প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত বিবাদের পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া নিজের পথে এগোবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

গত ২৬ অক্টোবর গুয়াহাটির উলুবাড়ি এলাকার লাচিত নগরে হোটেল বিলাস ইন-এ গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, হোটেলটির লিজ ও পরিচালনা নিয়ে বিবাদের জেরেই এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের অনুমান। সম্পত্তির পরিচালনা এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মতপার্থক্য মেটাতে আয়োজিত একটি বৈঠকে ছ’জনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে ঘনকান্ত গগৈয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়। আহত সত্যেন্দ্র পাঠক গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩৪ বছর বয়সি ঘনকান্ত ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর হোটেল মালিকদের সঙ্গে পাঁচ বছরের লিজ চুক্তি করেছিলেন। মাসিক ভাড়া ছিল প্রায় ১.৮ লক্ষ টাকা। পরে হোটেলটির সংস্কারকাজের পর তার ব্যবহার এবং সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। ২৬ অক্টোবরের বৈঠকে সেই বিবাদ বচসা ও হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছয়। এরপরই গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। ডিব্রুগড়ের বাসিন্দা ঘনকান্ত বর্তমানে গুয়াহাটির সাওকুচি এলাকায় থাকতেন। ঘটনার পর তাঁকে বশিষ্ঠ থানা এলাকার কাছ থেকে আটক করে পুলিশ। গুলিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা পিস্তলটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এদিকে, কামরূপ মহানগর জেলার আদালত অভিযুক্তকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাঁকে মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হয়েছিল। ঘটনার তদন্তে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার অঙ্কুর জৈনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত কার্তুজের খোল এবং .৩২ ক্যালিবারের তাজা কার্তুজ সহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন। গুলিচালনার পেছনের কারণ, ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ এবং আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্তের অগ্রগতির দিকেও নজর রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker