NE UpdatesHappeningsBreaking News
৮৩-র দাঙ্গার জন্য প্রশাসন ও পুলিশকে চাঁচাছোলা আক্রমণ মেহতা কমিশনের

ওয়েটুবরাক, ২৬ নভেম্বর: অসমে ১৯৮৩ সালের ভয়াবহ দাঙ্গা-হাঙ্গামার জন্য নির্বাচনকেই পুরোপুরি দায়ী করল টিইউ মেহতা কমিশন। বেসরকারি ভাবে তথা অসম রাজ্যিক ফ্রিডম ফাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক গঠিত এই কমিশন চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছে নির্বাচন কমিশনকে৷ পাশাপাশি দোষারোপ করে তৎকালীন কংগ্রেস সরকার ও শাসকদলের নেতৃবৃন্দকে৷ তাদের ক্ষমতালিপ্সাই এতগুলি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, এত সম্পত্তি ধ্বংস করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে মেহতা কমিশনের রিপোর্টে৷
হিমাচল প্রদেশ হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মেহতা পুলিশকেও চরম ভাবে বিদ্ধ করেন৷ রিপোর্টে তাঁর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেসরকারি কমিশন ক্ষিপ্ত সুরে মন্তব্য করে, এ যেন এক পুলিশ রাজ্য৷ পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনীর মারাত্মক বাড়াবাড়ি, চরম নিষ্ঠুরতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিজেদের কর্তব্য পালনে সীমাহীন গাফিলতির দরুন বহু তরুণী বিধবা হয়েছেন, বহু শিশু পিতামাতা হারিয়ে অনাথ হয়েছে৷ রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের একহাত নিয়ে মেহতা বলেন, সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব পালনে তারা ডাহা ফেল মেরেছেন৷ এমন সব ঘটনা রাজ্যে ঘটেছে, যে কোনও সভ্য সরকারকে লজ্জাবনত করার কথা৷ যারাই এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সাহায্য চাইতে গিয়েছেন, প্রশাসনিক কর্তারা নির্বাচনের দোহাই দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দিয়েছেন৷ মনে হয়, মানুষের জীবন-সম্পত্তির চেয়ে তাদের কাছে নির্বাচন করানোটাই একমাত্র লক্ষ্য৷ একে নির্বাচনী পাগলামী বলেও মন্তব্য করেন মেহতা কমিশন৷
তাঁর কথায়, সেই সময়ে অসমের সিভিল সার্ভিস অফিসাররা ন্যূনতম মান বজায় রাখতে পারেননি৷
কারা ৮৩-র দাঙ্গার জন্য দায়ী? এই প্রশ্ন উত্থাপন করে রিপোর্টে নিজেই সুস্পষ্ট জবাব দেন৷ মেহতা বলেন, তাদের চিহ্নিত করতে আমাদের মোটেও সময় লাগে না৷ তাঁরা হলেন কেন্দ্র, ভারতের নির্বাচন কমিশন, যে কোনও উপায়ে ক্ষমতায় টিঁকে থাকতে চায় যে সব রাজনীতিবিদ এবং সেই রাজ্যপাল, যিনি অবাধ নির্বাচন হবে বলে কেন্দ্রকে রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন। মেহতা রাজ্যপালের উপদেষ্টা আমলাদের, রাজ্যের মুখ্য সচিব, ডিজিপি, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ অন্যান্য অফিসারদেরও দায়ী করেন। তিনি বলেন, তাঁরা নির্বাচন করানোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন বটে, কিন্তু ভোটার তালিকা থেকে বাংলাদেশিদের নাম কর্তনে উদ্যোগ নেননি৷ তাঁর কথায়, অনুপ্রবেশ অসমের এক বড় সমস্যা৷ এর সমাধানে ভোটার তালিকা সংশোধন করার পরে নির্বাচনে যাওয়া উচিত ছিল। তা না করাতেই এত বড় বিপত্তি বাঁধল।



