Barak UpdatesHappeningsBreaking News
সাধারণ ধর্মঘটের দিনে ধৃতদের মুক্তির দাবিতে সরব বুদ্ধিজীবী মহল
ওয়েটুবরাক, ১১ সেপ্টেম্বর: বরাক উপত্যকার গণতন্ত্রপ্রিয় নাগরিক, বুদ্ধিজীবীরা করিমগঞ্জ জেলার নাম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে গত ৬ সেপ্টেম্বর নাগরিক কমিটি আহূত শান্তিপূর্ণ সাধারণ ধর্মঘটে ছাত্রছাত্রী সহ সাতজনকে জেলহাজতে বন্দি করে রাখায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্য, শিলচরের টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অধ্যাপক দিলীপ কুমার দে, প্রাক্তন অধ্যক্ষ দীপঙ্কর চন্দ, শিলচর পৌরসভার প্রাক্তন পৌরপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তমাল বণিক, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সম্পাদক প্রধান সাধন পুরকায়স্থ, প্রাক্তন পৌরকমিশনার ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক অতনু ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার, অধ্যাপক ড. সুরজিৎ সেন, অধ্যাপক ড. অজয় রায়, সমাজকর্মী কমল চক্রবর্তী, আইনজীবী দুলাল মিত্র ও আব্দুল হাই লস্কর, শ্রমিক নেতা নির্মল কুমার দাস, সমাজকর্মী অরূপ বৈশ্য, সমাজকর্মী সিহাব উদ্দিন আহমেদ, সাংস্কৃতিক সংগঠক রাহুল দাসগুপ্ত, জাকালকার সম্পাদক ডা এম শান্তি কুমার সিংহ, প্রাক্তন শিক্ষক শ্যামদেও কুর্মী, অধ্যাপক দেবাশিস চক্রবর্তী, রক্তদান ও বিজ্ঞান আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আশু পাল, মহিলা আন্দোলনের নেত্রী আদিমা মজুমদার, কোরাস সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্পাদক ও নাট্য ব্যক্তিত্ব বিশ্বজিৎ দাস, সাংবাদিক পরম ভট্টাচার্য, প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. পরিতোষ দত্ত, ফোরাম ফর স্যোশাল হারমনির অরিন্দম দেব, নারী মুক্তি সংস্থার স্নিগ্ধা নাথ প্রমুখ বলেন, করিমগঞ্জ শহরে ৬ সেপ্টেম্বর সাধারণ ধর্মঘটের দিন পিকেটারদের পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে প্রথমে করিমগঞ্জ সদর থানায় আটকে রাখে। পরবর্তীতে এদের মধ্য থেকে ৬ জন মহিলা পিকেটারকে সারা রাত থানায় আটকে রেখে পরেরদিন জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়। তারা বলেন, এভাবে প্রতিবাদের কন্ঠরোধ গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। করিমগঞ্জবাসী বনধের দিন প্রত্যক্ষ করেছেন বরাক উপত্যকায় এতদিন ধরে যে রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা, শিষ্টাচার ও সংস্কৃতি বিদ্যমান ছিল তাকে পদদলিত করে শাসকদলের মদতপুষ্ট দুস্কৃতীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে পিকেটারদের উপর হামলা চালায়। মহিলা পিকেটারদের মারধর করে এবং অশালীন ব্যবহার করে। অথচ যারা সেদিন পিকেটারদের উপর হামলা চালালো, মহিলাদের শারীরিক হেনস্থা ও তাদের উদ্দেশ্যে অশালীন মন্তব্য করল সে’সব হামলাকারীদের পুলিশ এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করেনি। নাগরিকদের পক্ষ থেকে করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নিকট করিমগঞ্জ জেলে বন্দি ৬ জন নির্দোষ মহিলা পিকেটার সহ অন্যান্য পিকেটারদের অবিলম্বে মুক্তির জোরালো দাবি জানানো হয়। এর পাশাপাশি প্রশাসনের এই অন্যায় ও বৈষম্য মূলক আচরণের বিরুদ্ধে জনগনকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।


