Barak UpdatesHappeningsBreaking News
জুবিন গার্গকে শ্রদ্ধা জানিয়ে দক্ষিণ-লিংক রোড পূজা কমিটির রক্তদান শিবির

ওয়ে টু বরাক, ২১ সেপ্টেম্বর : মহালয়া মানেই দেবীর আগমনী বার্তা, চারিদিকে আনন্দমুখর পরিবেশ। কিন্তু এবারের মহালয়া কেমন যেন সুরহীন এবং শূন্যতায় ভরা। বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী জুবিন গার্গের অকালে প্রয়াণে সমস্ত অসম তথা ভারতবর্ষ শোকের ছায়ায় আবৃত। সেই সবার প্রিয় কণ্ঠশিল্পী জবিনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে রবিবার এক স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আযোজন করে শিলচর দ্বিতীয় লিঙ্ক রোডের দক্ষিণ লিংক রোড সর্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটি।
সহযোগিতায় ছিল বরাকভ্যালি ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের কাছাড় জেলা কমিটি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বরাকভ্যালি ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের কাছাড় জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সব্যসাচী রুদ্রগুপ্ত, কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতাল ব্লাড সেন্টারের ইনচার্জ ডাঃ শবনম বাহার বড়ভূঁইয়া, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তথা প্রাক্তন প্রশাসনিক আধিকারিক কল্যাণ চক্রবর্তী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্মাইল-এর কার্যকরী সভাপতি সুরজিৎ সোম, বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক গোপাল কান্তি রায়, দক্ষিণ লিঙ্ক রোড সর্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির সভাপতি জগদিন্দু ভট্টাচার্য, উপ-সভাপতি দেবাশিস চক্রবর্তী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রয়াত বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী জুবিন গার্গের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ নিবেদন করে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হয়। পাশাপাশি এ দিনের রক্তদান শিবিরকে সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গার্গের নামে উৎসর্গ করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ লিঙ্ক রোড সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে। তিনি বলেন, মহালয়া উপলক্ষে তাদের গান-বাজনা, প্রভাতফেরি সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান ছিল। কিন্তু বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গার্গের অকাল প্রয়াণে তাদের সমস্ত অনুষ্ঠান বাতিল করে শুধু তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন হিসেবে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কল্যাণ চক্রবর্তী পুজো কমিটিকে ধন্যবাদ জানান রক্তদান শিবির আয়োজনের জন্য। সব্যসাচী রুদ্রগুপ্ত তাঁর বক্তব্যে প্রথমেই বলেন, যেহেতু শিল্পী জুবিন গার্গের অন্তেষ্টিক্রিয়া শেষ হয়নি, মনের মধ্যে এক শোকের আবহ। তাই তিনি আয়োজকদের অনুরোধ করেন অতিথিদের কোনওরকম সংবর্ধনা না দেওয়ার জন্য। অন্যান্য অতিথিরাও এতে সহমত পোষণ করেন। তিনি শিল্পীর স্মৃতিচারণ করার পাশাপাশি উৎসবে রক্তদানের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন। সুরজিৎ সোম এ দিনের রক্তদান কণ্ঠশিল্পী জুবিনের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার আহ্বান জানান এবং তা মেনে নেওয়া হয়। ডাঃ শবনম বাহার বড়ভূইয়া সংস্কৃত শ্লোক পাঠ করে বলেন, পূজার অন্যতম বৈশিষ্টই হচ্ছে মানবতা। এই মানবতায় এগিয়ে আসায় তিনি পুজো কমিটিকে ধন্যবাদ জানান।

এ দিন ২৩ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। এরা হলেন সৌভিক ভট্টাচার্য, করণজিৎ ধর, সঞ্জয় নাথ, অচ্যুতানন্দ ধর, রাহুল পাল, সুজিত ভৌমিক, সুদীপ পাল, অশোক কুমার রায়, রণবিজয় দাস, সুমিত আচার্য, সন্দীপ কুমার দেব, দীপ্ত দেব, সুজিত কুমার সাহা, শ্যামা প্রসাদ ভট্টাচার্য, বিক্রমজিৎ দেবরায়, চয়ন দেব, সমর পোদ্দার, সুশান্ত দেবনাথ, অমিত দেবনাথ, বিপ্রজিৎ দে, বিশ্বজিৎ পাল, সুদীপ কংসবণিক ও পাপ্পু সিং মেহতা। প্রত্যেক রক্তদাতাকে ব্লাড ডোনার্স ফোরামের পক্ষ থেকে একটি মেডেল এবং সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্লাড সেন্টারের পক্ষ থেকেও পৃথক সার্টিফিকেট দিয়ে উৎসাহিত করা হয়। স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির আয়োজন করার জন্য কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতাল ব্লাড সেন্টারের পক্ষ থেকে আয়োজক কমিটির হাতে একটি শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।
শিবির চলাকালীন অনুষ্ঠানে যোগদান করেন প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ কুমার পাল। এ দিন রক্তদাতাদের উৎসাহ জোগাতে শিবিরে উপস্থিত ছিলেন ব্লাড ডোনার্স ফোরামের কেন্দ্রীয় প্রচার সচিব সুজয় নাথ, কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক অমল দাস, জেলা কমিটির কার্যকরী সভাপতি নবেন্দু নাথ, সহ-সভাপতি রঞ্জিত কুমার মিত্র ও প্রবীর কুমার রায় চৌধুরী, সহ সাধারণ সম্পাদক অনুপ দত্ত, সদস্য ঝুমুর দত্ত, দেবরাজ ধর প্রমুখ।
এ দিন ক্যান্সার হাসপাতাল ব্লাড সেন্টারের ইনচার্জ ডাঃ শবনম বাহার বড়ভূঁইয়ার নেতৃত্বে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। তাঁকে সহযোগিতা করেন কাউন্সিলর শান্ত সিংহ, টেকনিশিয়ান সাদিক আহমেদ সহ মমতা রাজবংশী, কে অনুপমা দেবী প্রমুখ। শিবিরকে সফল করে তুলতে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন পূজা কমিটির সহ-সম্পাদক আর পোদ্দার, কিষাণ ভট্টাচার্য, অশোক রায়, কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় নাথ, ড. স্বাগত দাস সহ কমিটির বিভিন্ন পদাধিকারী এবং সদস্যরা। সমগ্র অনুষ্ঠানে সঞ্চালনায় ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ ভট্টাচার্য।


