NE UpdatesHappeningsBreaking News
বিধানসভায় জল জীবন মিশনের বিকল প্রকল্প ও আর্সেনিক দূষণ নিয়ে উদ্বেগ

ওয়েটুবরাক, ৮ জুলাই: মঙ্গলবার অসম বিধানসভায় জল জীবন মিশন-এর বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বিধায়করা বিকল প্রকল্প, সরকারি নথির সঙ্গে বাস্তবের অসঙ্গতি এবং পানীয় জলের উৎসে আর্সেনিক দূষণের মতো একাধিক গুরুতর বিষয় উত্থাপন করেন।
নাওবৈচা, দেরগাঁও এবং দুধনৈ কেন্দ্রের বিধায়করা কাগজে-কলমে থাকা বিকল জল সরবরাহ প্রকল্প, বহু জায়গায় জল সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং দূষিত পানীয় জলের উৎস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আলোচনার জবাবে জনস্বাস্থ্য কারিগরি (পিএইচই) মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, জল জীবন মিশনের বাস্তবায়নে যেসব ত্রুটি রয়েছে, সেগুলি দূর করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি জানান, রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত ৫ লক্ষ টাকার কম ব্যয়ের সমস্যাগুলি সংশ্লিষ্ট জেলা কমিশনাররা সমাধান করতে পারবেন। এর বেশি ব্যয়ের প্রয়োজন হলে বিষয়টি জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরে পাঠাতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, মন্ত্রিসভার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাস্তা নির্মাণের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া জল জীবন মিশনের পাইপলাইন মেরামতের দায়িত্ব নেবে পূর্ত বা পিডব্লিউডি দফতর।
কংগ্রেস বিধায়ক জয় প্রকাশ দাস অভিযোগ করেন, সরকারি নথিতে চালু দেখানো হলেও নাওবৈচার একাধিক জল জীবন মিশন প্রকল্প থেকে বাস্তবে পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে না। নাওবৈচায় চারদিকে বন্যার জল থাকলেও জল জীবন মিশনের আওতায় পানীয় জলের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। চালু বলে দেখানো বহু প্রকল্প থেকে জল সরবরাহ হচ্ছে না।
দেরগাঁওয়ে আর্সেনিক দূষণ নিয়ে উদ্বেগের জবাবে কৃষ্ণেন্দু পাল আশ্বাস দেন, নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আলোচনায় হস্তক্ষেপ করে বিধানসভার স্পিকার রণজিৎ কুমার দাস বলেন, যদি দেরগাঁওয়ের বাসিন্দারা এখনও আর্সেনিকযুক্ত জল পান করতে বাধ্য হন, তবে দূষিত জল উৎস অবিলম্বে সিল করে দেওয়া উচিত।
মন্ত্রী বলেন, “যেখানে আর্সেনিক দূষণের অভিযোগ রয়েছে, সেখানে চিফ ইঞ্জিনিয়ার পাঠিয়ে পরিদর্শন করানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর আগে দেরগাঁওয়ের বিধায়ক মৃদুল কুমার দত্ত জানান, দক্ষিণ দেরগাঁও এলাকার ছয়টি গ্রামে পরিদর্শনে আর্সেনিক দূষণের প্রমাণ মিলেছে।
বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর উল্লেখ করে স্পিকার সংশ্লিষ্ট বিধায়ককে বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে বলেন, যাতে বিধানসভায় এ বিষয়ে পৃথকভাবে আলোচনা করা যায়।
দুধনৈ কেন্দ্রের বিধায়ক টংকেশ্বর রাভা-র উত্থাপিত উদ্বেগের জবাবে মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত জল জীবন মিশন ২-এর লক্ষ্য সারা বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, “নির্দিষ্ট অকার্যকর প্রকল্পগুলির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
রাভার অভিযোগ, তাঁর বিধানসভা এলাকায় কার্যকর বলে চিহ্নিত নয়টি জল জীবন মিশন প্রকল্প বাস্তবে আংশিকভাবে চালু রয়েছে। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পগুলি শুধুমাত্র এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত জল সরবরাহ করে, এরপর বছরের বাকি সময় বন্ধ থাকে। ফলে নিরাপদ পানীয় জলের নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।



